Bartaman Logo
৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ক্ষমতার পালাবদলে চেতলা, সুরুচি থেকে শ্রীভূমির পুজোর ‘কর্তৃত্ব’ বদল

চেতলা অগ্রণী শহরের একমাত্র দুর্গাপুজো, যেখানে মায়ের চক্ষুদান করতেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এখন তিনি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী

ক্ষমতার পালাবদলে চেতলা, সুরুচি থেকে শ্রীভূমির পুজোর ‘কর্তৃত্ব’ বদল
  • ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: চেতলা অগ্রণী শহরের একমাত্র দুর্গাপুজো, যেখানে মায়ের চক্ষুদান করতেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এখন তিনি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। এবার তিনি এই পুজোয় ‘ব্রাত্য’! রাজ্যের প্রাক্তন হেভিওয়েট মন্ত্রী ববি হাকিমের পুজো হিসাবে পরিচিত চেতলা অগ্রণীর এবারের উদ্বোধক মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। চেতলা মোড়ে পুজোর ব্যানারে তারই সগর্ব ঘোষণা। পুজোর ‘কর্তৃত্ব’ হারিয়েছেন ফিরহাদ। যদিও চেতলার পাড়ায় কানাঘুষো, ‘ববিদা সামনে নেই। তবে তিনিই পুজোর ব্যাকবোন। সেই কারণেই মুখ্যমন্ত্রী এই পুজো উদ্বোধনে সম্মতি দিয়েছেন।’

Advertisement

তবে শুধু চেতলা অগ্রণী নয়, নীল-সাদা ছায়া সরতেই পুজো পরিচালনায় নয়া সমীকরণ তৈরি হয়েছে শহরের সর্বত্র। সুরুচি সংঘ থেকে ত্রিধারা সম্মিলনি কিংবা হাতিবাগান সর্বজনীন থেকে শ্রীভূমি—সর্বত্র গত বছরের পুজোর ফ্লেক্স বা ব্যানারে চেয়ারম্যান, আহ্বায়ক হিসাবে বহাল ছিলেন তৃণমূলের বিধায়ক, নেতা, মন্ত্রীরাই। এবার রাতারাতি বদলে গিয়েছে সেসব নাম। পুজো কমিটিগুলি অবশ্য বলছে, বিধায়ক পদমর্যাদার জোরে আগে তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিরা এসব পদে থাকতেন। এবার বিজেপি বিধায়করা থাকবেন, এটাই স্বাভাবিক। 
রাসবিহারী, টালিগঞ্জ, যাদবপুর, জোড়াসাঁকো, কাশীপুর বেলগাছিয়া থেকে শ্যামপুকুর—কলকাতার একের পর এক বিধানসভায় ভোটে ধরাশায়ী হয়েছে তৃণমূল। দেবাশিস কুমার, অরূপ বিশ্বাস, শশী পাঁজা, অতীন ঘোষরা যুক্ত ছিলেন একাধিক পুজোর সঙ্গে। তাঁরা প্রত্যেকে ভোটে হেরে গিয়েছেন। তাই এবার সুরুচি সংঘ পুজো কমিটির ‘মাথা’ হয়েছেন দমদমের বিজেপি বিধায়ক সৌরভ শিকদার। ত্রিধারা সম্মিলনি মানেই ছিল ‘দেবাদার পুজো’! রাজনীতির ময়দানে দেবাশিস কুমারের উত্থানের সঙ্গেই ত্রিধারার পুজোয় তাঁর কর্তৃত্ব ক্রমাগত পোক্ত হয়েছিল। পালাবদলে পালটে গিয়েছে সেই ছবিও। জৌলুস বজায় রেখে এবারও হচ্ছে ত্রিধারার পুজো। তবে প্রকাশ্যে নেই দেবাশিস। ‘দায়িত্ব’ সামলাচ্ছেন কমিটির অন্যান্য সদস্য। দেবাশিস কুমারকে ফোনে ধরা হলে তিনি পুজো নিয়ে কোনো মন্তব্যই করতে চাননি। 
কাশী বোস লেন দুর্গাপুজোর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন শ্যামপুকুরের ভূতপূর্ব বিধায়ক শশী পাঁজা। এবার তিনি পরাজিত। নয়া বিধায়ক পূর্ণিমা চক্রবর্তীই এবার সেই পুজোর ‘মুখ’! কমিটির সাধারণ সম্পাদক সোমেন দত্তর কথায়, ‘রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে দুর্গাপুজোর সম্পর্ক নেই। কুর্সিতে যে-ই বসুন, উৎসবের রং চিরকালই এক। সে রং আনন্দের। স্থানীয় জনপ্রতিনিধির অংশগ্রহণ সেখানে অবশ্যই প্রয়োজন।’ কয়েক দশক ধরেই শ্রীভূমি ‘সুজিত বোসের পুজো’ বলে পরিচিত। পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এবার শ্রীভূমি স্পোর্টিংয়ের পুজো ‘সুজিতহীন’! পাড়ার লোকজন নিয়ে নতুন কমিটি হয়েছে। পুজো উদ্যোক্তা তথা বিজেপি নেতা কনক দেবনাথ বলছেন, ‘শ্রীভূমি-লেকটাউনের মানুষের যন্ত্রণা দূর হয়েছে। এবার আর পিতৃপক্ষে মায়ের পুজোর সূচনা হবে না। শাস্ত্রীয় বিধি মেনে পুজো শুরু হবে। এবারের থিম রাজস্থানের হাওয়ামহল।’ উত্তরের বিখ্যাত পুজো টালা প্রত্যয়। পুজো যে আগের মতোই হবে, সেই বার্তা দিয়ে খুঁটিপুজোয় উপস্থিত ছিলেন কাশীপুর-বেলগাছিয়ার নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক রীতেশ তিওয়ারি। যদিও রীতেশ বলছেন, ‘আমি সরাসরি কোনো পুজোর সঙ্গে নেই।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ