নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রেক্ষাগৃহ না পেয়ে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য সংস্কৃতি ও গবেষণা কেন্দ্রের খোলা মাঠে অনুষ্ঠিত হল এসআইআর বিরোধী গণকনভেনশন। নাগরিক মঞ্চ, পশ্চিমবঙ্গের আয়োজনে এই কনভেনশনে সশরীরে উপস্থিত থাকার কথা ছিল অভিনেতা প্রকাশ রাজ ও প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার অশোক লাভাসার। কিন্তু এদিন তাঁরা দুজনেই কনভেনশনে ভার্চুয়াল মাধ্যমে উপস্থিত ছিলেন। প্রকাশ ভিডিয়ো বার্তায় বলেন, ‘যেভাবে মোদি সরকার জ্ঞানেশ কুমারকে রক্ষা করছে, বোঝাই যাচ্ছে কমিশন ওদেরকে কতখানি সাহায্য করেছে।’ কনভেশনের আহ্বায়ক ছিলেন প্রাক্তন আইএএস জহর সরকার ও আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। কনভেনশনে বক্তব্য রাখেন শমীক বন্দ্যোপাধ্যায়, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য অশোকনাথ বসু, প্রাক্তন আইএএস অনীতা অগ্নিহোত্রী ও সাংবাদিক অপর্ণা ভট্টাচার্য। তাঁদের বক্তব্যে উঠে আসে, এসআইআরের মাধ্যমে কীভাবে অসাংবিধানিক প্রক্তিয়ায় দেশের মানুষকে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।
প্রাক্তন নির্বাচন কমিশনরা অশোক লাভাসা ভিডিয়ো বার্তায় বলেন, ‘নিজেদের অধিকার বাঁচানোর জন্য এর আগে আমাদের দেশের নাগরিককে এত চিন্তিত হতে হয়নি। নির্বাচন কমিশনের কথা ছিল দেশের মানুষের ভোটাধিকার রক্ষা করার কিন্তু নাগরিকদের প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত হতাশাজনক।’ প্রকাশ আরও বলেন, ‘এসআইআরের আগে থেকেই ওরা ধীরে ধীরে মহারাষ্ট্রসহ বিভিন্ন রাজ্যে দল ভেঙেছে। এসআইআরের মাধ্যমে ওরা দেশকে ভাগ করতে চেয়েছে। বাংলা ভীষণভাবে সহ্য করেছে। এটাই সময়, ওদেরকে থামানোর। সমস্ত বিরোধী দল, নাগরকি সমাজ যেভাবে এগিয়ে এসেছে, তা প্রশংসা যোগ্য।’
এদিকে, কনভেনশনের আগে এনডিএ জোটের শরিক রিপাবলিক পার্টি অব ইন্ডিয়ার (আটাওয়ালে) উদ্যোগে আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের মোড়ে চণ্ডীপাঠের আয়োজন করা হয়। স্থানীয়দের বক্তব্য, স্কুল চলাকালীনই চণ্ডীপাঠ চলতে থাকে। উদ্যোক্তারা বলতে থাকেন, ‘এটি ঐতিহাসিক দিন। আলিমুদ্দিনের নেতাদের চণ্ডীপাঠ শোনানো গিয়েছে।’ সিপিএমের রাজ্য দপ্তর মুজফফর আহমেদ ভবনের গেটেও দুটি ফ্লেক্স টাঙানো হয়। সেখানে লেখা, ‘সাম্প্রদায়িক, জাতিবিদ্বেষী, বর্ণবিদ্বেষীরা ছাড়া সবাই স্বাগত। শুভ শারদীয়া।’ সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী পালটা বলেছেন, ‘সিপিএমের রাজ্য দপ্তরের পাড়ায় চণ্ডীপাঠ করে বেশ করেছে। চণ্ডীপাঠ রোজ করতে হয়। মাসে ৩০ দিনই করতে হবে কিন্তু। দম দেখা যাক।’



