


নিজস্ব প্রতিনিধি, কেশপুর: সময় বদলেছে, বদলেছে রাজপাট। কিন্তু ইতিহাসের কিছু ক্ষত যেন আজও শুকোয়নি। কেশপুরের শীর্ষা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা একটি জরাজীর্ণ অ্যাম্বুলেন্স সেই অতীতেরই নীরব সাক্ষী বলা চলে। আজ ওই অ্যাম্বুলেন্স অচল পয়সা। শীর্ষা পঞ্চায়েত কার্যালয় থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ের সামনে পড়ে থাকা এই গাড়িটিকে আজ আর মানুষের জীবন বাঁচানোর কাজে লাগানো হয় না। বরং গাড়িটি রাজনৈতিক স্মৃতির ভার বয়ে নিয়ে চলছে। আজ ওই অ্যাম্বুলেন্সের গায়ে স্পষ্ট কোনো নম্বরও নেই। তবে গাড়ির নম্বর প্লেটে ‘ডব্লু বি ৩৩’ লেখা রয়েছে। একসময় এই অ্যাম্বুলেন্সই ছিল এলাকার মানুষের একমাত্র ভরসা। অসুস্থতা বা জরুরি পরিস্থিতিতে গ্রামের কাঁচা-পাকা রাস্তা ধরে ছুটত সাদা রঙের ওই গাড়ি। গ্রামের নবীন, প্রবীণদের কাছে ছিল আশার আলো। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই গাড়ির গল্পও বদলেছে।
স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, তৎকালীন সময়ে শীর্ষা ও গড়বেতায় দু’’টি অ্যাম্বুলেন্স ছিল।
বাম জমানায় কেশপুর জুড়ে চলা রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় এই অ্যাম্বুলেন্সকে মানবিক কাজে নয়, বরং হার্মাদ বাহিনী ভিন্ন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করত। অভিযোগ, ওই অ্যাম্বুলেন্সটি তখন লাশ বহন থেকে শুরু করে আগ্নেয়াস্ত্র পাচারের মতো কর্মকাণ্ডেও নাকি এই ব্যবহৃত হয়েছে। এই এলাকায় বহু মানুষের মুখে সেই সময়ের ভয়ের স্মৃতি আজও দগদগে। গ্রামবাসীদেরও অনুমান, বাম জমানায় নেতাই কাণ্ড, ছোট আঙারিয়া সহ একাধিক ঘটনা ঘটেছে। তবে অভিযোগ মূলত বেনাচাপড়ার কঙ্কালকাণ্ডে এই অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করা হয়। বলা বাহুল্য, কেশপুর একসময় রাজনৈতিক সংঘর্ষের জন্য রাজ্যজুড়ে পরিচিত ছিল। বাম আমলে প্রায়ই অশান্তির খবর উঠে আসত এই অঞ্চল থেকে। সেই উত্তপ্ত সময়ের বহু চিহ্ন হয়তো আজ মুছে গিয়েছে, কিন্তু শীর্ষার এই অ্যাম্বুলেন্স যেন সেই অতীতকেই আঁকড়ে ধরে দাঁড়িয়ে রয়েছে। ভোটের মরশুম এলেই আবার নতুন করে সামনে আসে এই অ্যাম্বুলেন্সের প্রসঙ্গ। রাজনৈতিক দলগুলি নিজেদের মতো করে ব্যাখ্যা দেয় ঠিকই, কিন্তু গ্রামের মানুষের কাছে এটি শুধু নিছক অ্যাম্বুল্যান্স নয়। এটি তাঁদের কাছে এক অপ্রকাশিত ইতিহাসের প্রতীকও বটে। কেশপুরের তৃণমূল নেতা মলয় ঘোষ ও অনুপ রায়ের কথায়, এই অ্যাম্বুলেন্স একসময় মানুষের উপকারে লাগলেও পরে তা অন্য কাজে ব্যবহৃত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সরকার পরিবর্তনের পর বিভিন্ন আইনি জটিলতার কারণে আর রাস্তায় নামানো যায়নি গাড়িটিকে। বেনাচাপড়ার কঙ্কালকাণ্ডের ঘটনায় এই অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানি। অন্যদিকে, সিপিএমের জেলা কমিটির সদস্য শুভাশিস পাইন ভিন্ন দাবি করছেন।
তাঁর কথায়, এই অ্যাম্বুলেন্স একসময় বহু মানুষের জীবন বাঁচিয়েছে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তৃণমূলের জন্যই এই করুণ দশায় পৌঁছেছে গাড়িটি। তৃণমূল নিজেদের পার্টি অফিসের সামনেই গাড়িটি রাখত। আজ একটাও অ্যাম্বুলেন্স নেই। সমস্যায় পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। -নিজস্ব চিত্র