নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: উষ্ণ প্রস্রবণের টানে বীরভূমের বক্রেশ্বরে সারা বছরই পর্যটকদের ভিড় লেগেই থাকে। অথচ এই পর্যটনকেন্দ্রের প্রকৃত উন্নয়ন বরাবরই থেকে গিয়েছে তিমিরে। বিগত সরকারের আমলে বক্রেশ্বর উন্নয়ন পর্ষদ গঠিত হলেও গত এক দশকে প্রচার ছাড়া কাজের কাজ কিছুই হয়নি। অভিযোগ, পুরানো বোর্ডের মাথায় বসেছিলেন একঝাঁক দুর্নীতিগ্রস্ত নেতা, যাঁদের পকেটে গিয়েছে সরকারি টাকা। সেই বোর্ড অবশ্য ভেঙে দেওয়া হয়েছে আগেই। রাজ্যে পালাবদলের পর এবার সেই পর্ষদের খোলনলচে বদলাতে পদক্ষেপ শুরু করল প্রশাসন। বক্রেশ্বরের সার্বিক উন্নয়ন এবং পর্ষদকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলাই প্রশাসনের মূল লক্ষ্য।
নতুন সরকার গঠনের পর গত শুক্রবার বক্রেশ্বরের উন্নয়নের রূপরেখা তৈরিতে প্রথমবার বৈঠকে বসে জেলা প্রশাসন। উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক ধবল জৈন, অতিরিক্ত জেলাশাসক(জেলা পরিষদ) প্রসেনজিৎ ঘোষ, দুবরাজপুরের বিধায়ক অনুপ সাহা সহ অন্যান্য কর্তারা। প্রশাসন সূত্রে খবর, বৈঠকে বেশ কয়েকটি বড়ো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পর্ষদের অধীনে থাকা ৪২টি মৌজার দাগ নম্বর ধরে ‘ল্যান্ড ইউজ রেজিস্টার’ বা জমির বিশদ তথ্যভাণ্ডার ইতিমধ্যেই প্রস্তুত করা হয়েছে। দ্রুত এবিষয়ে সরকারি গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। এরপর ওই জমিগুলি কীভাবে গঠনমূলক কাজে লাগানো যায়, সেব্যাপারে টাউন প্ল্যানিংয়ের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় এবং নগরোন্নয়ন দপ্তরের বিশেষজ্ঞদের। শীঘ্রই বিশেষজ্ঞ দল জেলায় আসবে।
পর্ষদকে আর্থিকভাবে স্বনির্ভর করার উপরেও জোর দিচ্ছে প্রশাসন। সরকারি অনুদানের মুখাপেক্ষী হয়ে বসে না থেকে নিজস্ব আয়ের পথ প্রশস্ত করা হচ্ছে। এক আধিকারিক জানান, এলাকার পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি কিংবা অধীনস্থ পুকুরগুলি নিলাম করে ইজারা দেওয়া হবে। এরফলে পর্ষদ নিজের তহবিল বৃদ্ধি করতে পারবে। এছাড়া পার্কিং ফি ও কর্মতীর্থের দোকানঘর ভাড়া দিয়ে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। পর্ষদের কটেজগুলি বর্তমানে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে, সেগুলি সংস্কারের ভাবনা রয়েছে। নবনির্মিত অফিস ভবনের কাজ শেষ করে সেখানে পর্ষদের নিজস্ব কার্যালয় চালু হবে। কর্মীও নিয়োগ করা হবে।
২০১৬সালে এই পর্ষদের জন্ম। এরপর দফায় দফায় প্রায় ১২কোটি টাকা বরাদ্দও মেলে। রাস্তাঘাট, নিকাশি বা সৌন্দর্যায়নের কিছু কাজ হলেও ওয়াকিবহাল মহলের স্পষ্ট দাবি, খরচের তুলনায় বাস্তবে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। বর্তমানে বক্রেশ্বরের বেহাল দশা। মন্দির চত্বরে যত্রতত্র ছড়ানো ফুল-বেলপাতা আর আবর্জনার স্তূপ। নিকাশি ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। রাস্তায় পর্যাপ্ত আলো নেই। প্রতিদিন বহু মৃতদেহ দাহ করা হলেও শ্মশানে সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা নেই। বিধায়ক বলেন, বক্রেশ্বরের খোলনলচে বদলাতে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
বক্রেশ্বরে প্রবেশপথের মূল সেতুটি ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় গত তিন-চার বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। পাশের নীচু কজওয়ে দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে মানুষজনকে। বৃষ্টি হলেই কজওয়ের উপর দিয়ে জল উপচে যায়। যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, সেতুটি নতুন করে গড়তে অন্তত ১৮কোটি টাকা প্রয়োজন। কিন্তু বিপুল খরচের কারণে সেতু নির্মাণে সরকারের কোনো তৎপরতা চোখে পড়েনি।