নয়াদিল্লি: ‘আমাদের আরশোলা বলার জন্য ধন্যবাদ’। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার পর সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের উদ্দেশে এমনই বার্তা দিলেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রধান অভিজিত্ দিপকে। ধর্মেন্দ্রর ইস্তফার পরেই শনিবার দিল্লির যন্তরমন্তরে ভাষণ দিচ্ছিলেন অভিজিত্। তিনি বলেন, ‘আমি প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তকে ধন্যবাদ দিতে চাই। উনি যদি আমাদের আরশোলা না বলতেন, তাহলে আমি হয়ত ভারতে ফিরতাম না। এই আন্দোলনও শুরু হত না।’
ঘটনার সূত্রপাত গত ১৫ মে। ওইদিন সুপ্রিম কোর্টে একটি মামলার শুনানি চলাকালীন প্রধান বিচারপতি বেকার তরুণ প্রজন্মের একাংশ ও আরটিআই কর্মীদের আরশোলা বলে কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, ‘এই তরুণরা আরশোলার মতো। এরা কোনো চাকরি পায় না। নিজেদের পেশাতেও কোনো জায়গা করে নিতে পারে না।’ যদিও পরে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত জানান, তাঁর মন্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা হয়েছে। এর পরদিনই কিছুটা মজার ছলেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) তৈরির ঘোষণা করেন দিপকে। সেই সময় তিনি পড়াশোনার জন্য আমেরিকার বস্টনে ছিলেন। তারও আগে আম আদমি পার্টির কমিউনিকেশন স্ট্র্যাটেজিস্ট হিসাবে কাজ করেছেন তিনি। দিপকে জানিয়েছিলেন, শুধুমাত্র বেকার, অলস, অনলাইনে সক্রিয় এবং ক্ষোভ উগরে দিতে পারেন এমন লোকজনই ককরোচ পার্টির সদস্য হতে পারবেন। মজার ছলে শুরু হলেও তরুণ প্রজন্ম দলে দলে এই ‘দলে’র সদস্য হতে শুরু করেন। এরপরই নিটের প্রশ্ন ফাঁস এবং ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে সরব হতে শুরু করে সিজেপি।
প্রথমে এই প্রতিবাদ অনলাইনে সীমাবদ্ধ থাকলেও জুন মাসে অভিজিত্ দেশে ফেরেন। তারপরই মাঠে নেমে কর্মসূচি শুরু করে সিজেপি। যন্তরমন্তরে ধরনায় বসে তারা। সিজেপিকে সমর্থন জানিয়ে ধর্মেন্দ্রর ইস্তফার দাবিতে ২৮ জুন সমাজকর্মী সোনাম ওয়াংচুক অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশনে বসার পর ‘আরশোলা’দের আন্দোলন আরও গতি পায়। ২০ জুলাই সিজেপির সংসদ অভিযানে দিল্লি পুলিশের বেধড়ক লাঠিচার্জের পর এই আন্দোলনের রেশ ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ধর্মেন্দ্র ইস্তফা না দেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন থামবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেয় সিজেপি। প্রবল চাপের মুখে অবশেষে শনিবার ইস্তফা দিতে বাধ্য হলেন ধর্মেন্দ্র।