নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি স্তরের বহুল পরিচিত সূত্র মোতাবেক পাঠ্যপুস্তক প্রকাশিত হয়েছে। ইতিহাসের কালো অধ্যায়ের উপর প্রকাশ করা হয়েছে বিশেষ ‘নোট’। স্কুল পড়ুয়াদের যাতে কোনওরকম তথ্যভ্রান্তি না হয়, সেই লক্ষ্যে যাবতীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অষ্টম শ্রেণির এনসিইআরটির পাঠ্যবইয়ে শুধুমাত্র ‘মুঘল অত্যাচার’ অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে বিতর্ক যখন তুঙ্গে উঠেছে, ঠিক তখনই বৃহস্পতিবার এহেন ব্যাখ্যা দিয়েছে এনসিইআরটি। যদিও তাতে বিতর্ক বন্ধ হওয়ার কোনও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না বলেই মনে করছে শিক্ষা বিশেষজ্ঞ মহল।
প্রসঙ্গত, অষ্টম শ্রেণিতে এনসিইআরটির সংশোধিত পাঠ্যবইয়ে মুঘল এবং সুলতানি আমলের শুধুই নেতিবাচক দিক অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে। শিক্ষাবিদদের একটি বড় অংশের অভিযোগ, এর ফলে স্কুলপড়ুয়া ছেলেমেয়েদের মনে একটি সূক্ষ্ম মেরুকরণের বীজ সুকৌশলে পুঁতে দিতে উদ্যোগী হয়েছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। বাবর, আকবরের মতো মুঘল সাম্রাজ্যের যেসব শাসকের সুশাসন নিয়ে ইতিপূর্বে পাতার পর পাতা লেখা হয়েছে, অষ্টম শ্রেণির সংশোধিত এনসিইআরটির পাঠ্যবইয়ে তা বেমালুম বাদ দেওয়া হয়েছে। পরিবর্তে তাঁদের জীবনের অন্ধকার দিক পাঠ্যসূচিতে জুড়ে দেওয়া হয়েছে। যা নিয়ে শুরু হয়েছে প্রবল বিতর্ক। যদিও এনিয়ে কোনও বিতর্ক রয়েছে বলে মানতে নারাজ কেন্দ্রীয় শিক্ষা রাষ্ট্রমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। সংবাদ সংস্থাকে সুকান্তবাবু জানিয়েছেন, মুঘল সম্রাটদের এহেন অন্ধকার অধ্যায় তো অস্বীকার করার উপায় নেই। তা শিক্ষাবিদ এবং ঐতিহাসিক মাত্রই জানেন।
কেন্দ্রীয় শিক্ষা রাষ্ট্রমন্ত্রীর এহেন মন্তব্যেই একপ্রকার স্পষ্ট, এই ‘বিতর্কিত’ বিষয় থেকে পিছু হটার কোনও চিন্তাভাবনা এই মুহূর্তে করছে না মোদি সরকার। এনসিইআরটির বিবৃতিতে পরিস্থিতি সাময়িক সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে মাত্র। বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন এনসিইআরটির অধিকর্তা অধ্যাপক দীনেশপ্রসাদ সাকলানিও। তিনি জানান, বাবরনামা, বানারস গেজেটার, স্যার যদুনাথ সরকার অনূদিত মাসির-ই-আলমগিরি, আর সি মজুমদার প্রণীত দ্য হিস্ট্রি অ্যান্ড কালচার অব দ্য ইন্ডিয়ান পিপলের মতো বই থেকে তথ্য নিয়েই পাঠ্যপুস্তক ছাপা হয়েছে। যাবতীয় তথ্যের মধ্যে ভারসাম্য এবং সামঞ্জস্য রক্ষার চেষ্টা হয়েছে যাতে, ছাত্রছাত্রীরা বিষয়ের গভীরে গিয়ে পড়াশোনা করতে পারে।
উল্লেখ্য, অষ্টম শ্রেণির সোশ্যাল সায়েন্স সংশোধিত পাঠ্যপুস্তককে কেন্দ্র করেই যাবতীয় বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। ‘ন্যাশনাল কাউন্সিল অব এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং’য়ের (এনসিইআরটি) বিবৃতিতে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, ক্লাস এইট একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সময় ছাত্রছাত্রীদের বৃহত্তর প্রেক্ষিতে জ্ঞান অর্জন করা প্রয়োজন। ত্রয়োদশ থেকে মধ্য উনিশ শতক পর্যন্ত সময়ে কীভাবে বিভিন্ন ঘটনা আজকের ভারতবর্ষ তৈরিতে প্রভাব বিস্তার করেছিল, তা সঠিকভাবে জানতে পারা স্কুল পড়ুয়াদের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তবে এক্ষেত্রে ছাত্রছাত্রীরা যাতে কোনওরকম অসূয়া কিংবা ভুল বোঝাবুঝির শিকার না হয়, সেদিকে সম্পূর্ণ নজর রাখা হয়েছে।