নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: রাজ্যে বেহাল দলীয় সংগঠন। অথচ কার্যত দোরগোড়ায় উপস্থিত হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা নির্বাচন। আগামী বছরই রাজ্যে ভোট। অথচ বঙ্গ বিজেপির নির্বাচনী প্রস্তুতি পড়ে রয়েছে সেই তিমিরেই। বাংলার ছাব্বিশের ভোটকে মাথায় রেখে উল্লেখযোগ্য কোনও রণকৌশল এখনও পর্যন্ত নিতে পারেননি রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতারা। এহেন পরিপ্রেক্ষিতে বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্বের একটি অংশ চাইছে, সংগঠনের হাল বুঝতে একবার অন্তত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করুন দলের শীর্ষ নেতারা। তাঁর কাছ থেকে উপযুক্ত পরামর্শ নিয়ে সেইমতো বাংলায় ভোটযুদ্ধের প্রস্তুতিতে পদক্ষেপ করা হোক। শুধুমাত্র রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের একাংশই নন। এমন চাইছেন বাংলার বিজেপি সাংসদদের একটি বড় অংশও। যদিও বিজেপি সূত্রে জানানো হয়েছে, নেতৃত্বের একাংশ চাইছেন ঠিকই। কিন্তু এখনও পর্যন্ত মোদির সঙ্গে সাক্ষাতের কোনও সম্ভাবনা নেই বাংলার গেরুয়া শিবিরের। অন্তত সংসদের চলতি বাজেট অধিবেশনে এধরনের কোনও বৈঠকের কোনও পরিকল্পনা করা হচ্ছে না। রাজ্য বিজেপির এক শীর্ষ নেতা সোমবার জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চেয়ে কোনও আবেদন আমরা জমা দিইনি। সেই পরিকল্পনা এখনও পর্যন্ত নেই।
প্রত্যাশিতভাবেই দলের শীর্ষ নেতাদের একাংশের এহেন আচরণে রীতিমতো বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়েছে বিজেপির অন্দরেই। বছর কয়েক আগেও সংসদের অধিবেশন চলাকালীন একবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়টিকে প্রায় অভ্যেসে পরিণত করে ফেলেছিলেন বঙ্গ বিজেপির সাংসদরা। সাক্ষাৎ না হলেও দস্তুরমতোই আবেদনে কোনওরকম খামতি রাখতে চাইতেন না তাঁরা। সেই পরিস্থিতি থেকে আচমকাই প্রায় ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে যাওয়া বঙ্গ বিজেপির এহেন অবস্থানকে যথেষ্টই ইঙ্গিতপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক তথ্যাভিজ্ঞ মহল। রাজ্য বিজেপিতে সভাপতি বাছাইকে কেন্দ্র করে টালবাহানা অব্যাহতই রয়েছে। চলতি মাসের শেষে রাজ্যে গেলে দলের নতুন সভাপতির সঙ্গে বৈঠক হতো কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর। কিন্তু দিনদু’য়েক আগে চলতি মাসে অমিত শাহের এই সম্ভাব্য বঙ্গ সফর বাতিলের কথা জানানো হয়েছে বিজেপি সূত্রে। প্রশ্ন উঠেছে, নতুন সভাপতি বাছতে কি আরও দেরি হবে?



