Bartaman Logo
২৬ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

স্ট্রং রুমের বাইরে চার সিসি ক্যামেরার মনিটরে হঠাৎ ব্ল্যাক আউট, উত্তেজনা

কলকাতার পর এবার উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতে স্ট্রং রুম ঘিরে উত্তেজনার ছবি সামনে এল। শনিবার সকালে বারাসত গভর্নমেন্ট কলেজের বাইরের দিকে সিসি ক্যামেরার চার মনিটর হঠাৎ ১৭ মিনিট বন্ধ হয়ে যায়।

স্ট্রং রুমের বাইরে চার সিসি ক্যামেরার মনিটরে হঠাৎ ব্ল্যাক আউট, উত্তেজনা
  • ৩ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: কলকাতার পর এবার উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতে স্ট্রং রুম ঘিরে উত্তেজনার ছবি সামনে এল। শনিবার সকালে বারাসত গভর্নমেন্ট কলেজের বাইরের দিকে সিসি ক্যামেরার চার মনিটর হঠাৎ ১৭ মিনিট বন্ধ হয়ে যায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা দেখা দেয় গণনাকেন্দ্র চত্বরে। তৃণমূল থেকে বিরোধী বিজেপি, উভয়পক্ষই ইভিএমে কারচুপির আশঙ্কা তুলে সরব হয়। যদিও নির্বাচন কমিশনের দাবি, স্ট্রং রুমের ক্যামেরা সচল ছিল। বাইরের মনিটরের সমস্যার জেরে এই বিভ্রান্তি।

Advertisement

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বারাসত গভর্নমেন্ট কলেজে রাখা হয়েছে বারাসত, হাবড়া, অশোকনগর এবং দেগঙ্গা– এই চারটি বিধানসভা কেন্দ্রের ইভিএম। অন্যদিকে, লাগোয়া বারাসত গভর্নমেন্ট হাই স্কুলে হবে মধ্যমগ্রাম ও আমডাঙার গণনা। স্ট্রং রুম সিল করা আছে। বাইরে কড়া নিরাপত্তার বলয় তৈরি করেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। ২৪ ঘণ্টা সিসি ক্যামেরার নজরদারি চালু রয়েছে। কলেজের বাইরে চারটি মনিটরে নজর রাখছিলেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও প্রতিনিধিরা। শনিবার সকাল ৮টা ৫ মিনিট থেকে ৮টা ২২ মিনিট, এই ১৭ মিনিটই তৈরি করে সমস্যা। হঠাৎই ব্ল্যাকআউট হয়ে যায় বাইরের চারটি মনিটর। স্ট্রং রুমের ভিতরের কোনও দৃশ্য বাইরের স্ক্রিনে দেখা যাচ্ছিল না।
অভিযোগ ওঠে, পরিকল্পিতভাবে সিসি ক্যামেরা বন্ধ রেখে ইভিএমে কারচুপি চলছে। প্রথমে সরব হন তৃণমূল কর্মীরা। পরে একই অভিযোগ তোলে বিজেপিও। উত্তেজনা ছড়ায় গণনাকেন্দ্র চত্বরে। তৃণমূল কর্মীরা চার নম্বর গেট দিয়ে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। শুরু হয় বচসা, ধাক্কাধাক্কি। বিজেপি কর্মীরাও ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। তাঁদেরও আটকে দেওয়া হয়। পরিস্থিতি ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার অবস্থা হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকরা। হাজির হন অশোকনগরের তৃণমূল প্রার্থী নারায়ণ গোস্বামী। তাঁর বক্তব্য, মনিটরের এমন ব্ল্যাকআউট হয়ে যাওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। নির্বাচনি পর্যবেক্ষক, আরও, এসডিও এবং জেলাশাসককে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
বিজেপি নেতা শুভঙ্কর সিংয়ের অভিযোগ, সিসি ক্যামেরা বন্ধ থাকার খবর পেয়েই ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করি। বৈধ পরিচয়পত্র থাকা সত্ত্বেও প্রথমে পুলিশ বাধা দেয়। পরে উত্তেজনা বাড়লে আমাদের দলের চারজনকে ভিতরে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হয়। যদিও নির্বাচন কমিশনের তরফে সম্পূর্ণ ভিন্ন ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। বারাসতের ইআরও অভিজিৎ দাস বলেন, স্ট্রং রুমের সিসি ক্যামেরা বন্ধ ছিল না। কেবল বাইরের মনিটরের পাওয়ার বাটন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। সেটি চালু করতেই সব স্বাভাবিক হয়ে যায়। তবে কে বা কারা মনিটর বন্ধ করল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
এদিকে, ঘটনার পর তৎপর হয় জেলা নির্বাচনি দপ্তর। এদিন সকাল ৭টা ৫৫ মিনিট থেকে ৮টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের দেখানো হয়েছে বলেও দাবি প্রশাসনের। এরপর বারাসত গভর্নমেন্ট কলেজ ও সংলগ্ন স্কুল চত্বরে নিরাপত্তা আরও বাড়ানো হয়েছে। অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ