Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মেখলিগঞ্জের তিনবিঘা সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া তৈরি নিয়ে উত্তেজনা, বিএসএফ-বিজিবি বৈঠক

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণকে কেন্দ্র করে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ ব্লকের তিনবিঘা করিডর সংলগ্ন দহগ্রাম-অঙ্গারপোতা সীমান্ত এলাকা।

মেখলিগঞ্জের তিনবিঘা সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া তৈরি নিয়ে উত্তেজনা, বিএসএফ-বিজিবি বৈঠক
  • ২৪ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, মেখলিগঞ্জ: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণকে কেন্দ্র করে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ ব্লকের তিনবিঘা করিডর সংলগ্ন দহগ্রাম-অঙ্গারপোতা সীমান্ত এলাকা। শুক্রবার সীমান্তে জমি মাপজোখের কাজ শুরু করতেই বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) তরফে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। ঘটনার পর শনিবার এলাকা পরিদর্শনে যান মেখলিগঞ্জের বিধায়ক দধিরাম রায়। তিনি বিএসএফ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। পাশাপাশি এদিন সীমান্তে বিএসএফ ও বিজিবির মধ্যে ফ্ল্যাগ মিটিংও হয়। বৈঠকে বিএসএফের ১৭৪ ব্যাটালিয়নের সিও বিনোদ সিং, বিজিবির তরফে নাজিউর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

Advertisement

বৈঠকের পর বিধায়ক স্পষ্ট জানান, রাজ্য সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী আগামী ৪৫ দিনের মধ্যেই কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ শেষ করতে হবে। দেশের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপোশ করা হবে না। বাংলাদেশ থেকে কোনো বাধা এলে তা শক্ত হাতে মোকাবিলা করা হবে। 
মেখলিগঞ্জ ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও গোটা ব্লকের উন্মুক্ত সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া সম্পূর্ণ করতে ১০৫ একর জমি অধিগ্রহণ প্রয়োজন। এরমধ্যে ৮০ একর জমি রয়েছে ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থিত বাংলাদেশি ছিটমহল দহগ্রাম-অঙ্গারপোঁতা এলাকায়। সেই কারণেই শুক্রবার ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের আধিকারিকরা জমির মালিকদের উপস্থিতিতে সেখানে জমির মাপজোখের কাজ শুরু করেন। অভিযোগ, সেই সময় কিছু বাংলাদেশি বাসিন্দা এবং বিজিবি সদস্যরা আপত্তি জানান। এরপরই দুই দেশের সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি হয়। যদিও বিএসএফ পরিস্থিতি সামাল দিতে সতর্ক ভূমিকা নেয় এবং বড় ধরনের কোনো সংঘাত এড়ান সম্ভব হয়।
স্থানীয় ভারতীয় বাসিন্দাদের দাবি, নিজেদের দেশের জমিতে কাজ করতেও বারবার বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। সীমান্ত এলাকার বাসিন্দা বিষ্ণুপদ রায় এবং জয়নাথ রায় বলেন, ভারতের মাটিতে উন্নয়নের কাজ করতে গেলেও বাংলাদেশের তরফে বাধা আসে। শুক্রবারও একই ঘটনা ঘটেছে। তবে বিএসএফ অত্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি সামলেছে। অন্যদিকে বিজিবির দাবি, সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় কোনো কাজ শুরু করার আগে তাদের অনুমতি নেওয়া প্রয়োজন। যদিও ভারতীয় পক্ষের বক্তব্য, ভারতের নিজস্ব ভূখণ্ডে নিরাপত্তা সংক্রান্ত কাজ করার ক্ষেত্রে অন্য দেশের অনুমতির কোনো প্রশ্নই ওঠে না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ