


নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: রান্নার গ্যাসের জোগান নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে চাহিদা বাড়ছে ইনডাকশন ওভেন সহ বিভিন্ন বিদ্যুৎ নির্ভর গ্যাজেটের। গৌড়বঙ্গের তিন জেলাতেই একই ছবি সামনে এসেছে বৃহস্পতিবার। তবে এলপিজি সিলিন্ডারের ডিস্ট্রিবিউটরদের দাবি, রান্নার গ্যাসের সরবরাহে বড় সংকট নেই।
কিন্তু পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের জন্য রান্নার গ্যাস পেতে দেরি হতে পারে এই আশঙ্কায় অনেকে হাতের কাছে মজুত রাখছেন ইনডাকশন ওভেন বা ইলেকট্রিক কেটলির মতো সামগ্রী। মালদহের বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সামগ্রীর দোকানে ভিড় বেড়েছে বুধবার থেকেই। বিক্রি বেড়েছে ইনডাকশন ওভেন, রাইস কুকার, ইলেকট্রিক কেটলির। ইংলিশবাজারের এক ইলেকট্রনিক্স সামগ্রীর ডিস্ট্রিবিউটর বিকাশ সাহা বলেন, অনেকেই আসছেন। এসব সামগ্রী ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিদ্যুতের খরচ কেমন হয়, সেসব জিজ্ঞেস করছেন অনেকে। তবে, সবাই যে হুড়োহুড়ি করে কিনছেন, তেমনও নয়।
মালদহ মার্চেন্ট চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি জয়ন্ত কুণ্ডু বলেন, গৃহস্থদের কেউ কেউ বৈদ্যুতিক সামগ্রী কেনার জন্য দোকানে আসছেন বা খোঁজ নিচ্ছেন বলে শুনেছি। কিন্তু যে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করেন, তাঁরা চিরাচরিত কয়লার উনুনের দিকেই ঝুঁকছেন।
মালদহ শহরের গৃহবধূ রুমাশ্রী মণ্ডল বলেন, সদ্য অনলাইনে একটি ইলেকট্রিক কেটলি কিনেছি। বারবার চা বানাতে যে পরিমাণ গ্যাস খরচ হয়, তাতে কিছুটা সাশ্রয় হচ্ছে। তবে, বিদ্যুতের বিলও তো কম নয়! ফলে সব দিক বুঝেই চলতে হচ্ছে।
দক্ষিণ দিনাজপুর জেলাতেও ছবিটা অনেকটা এক। ইন্ডাকশন বা ইলেকট্রিক চুলোর চাহিদা বাড়ছে। গ্যাসের সংকট থাকায় ইতিমধ্যে দোকানে ইন্ডাকশন ওভেনের খোঁজখবর করছেন। অনেকে কিনে বাড়িও নিয়ে যাচ্ছেন। বালুরঘাট শহরের ব্যবসায়ীরা ইলেকট্রিক ওভেন সহ অন্য সামগ্রী মজুত করার উদ্যোগ নিতে শুরু করেছেন। বৈদ্যুতিক সামগ্রীর ব্যবসায়ী সূর্য তালুকদার বলেন, গ্যাসের সংকটের কারণে অনেকে ইলেকট্রিক চুলো কিনতে আসছেন। তাই চাহিদা বুঝে মজুদ রাখছি।
শহরের গৃহবধূ অনিতা রায় বলেন, গ্যাসের যা সংকট দেখতে পাচ্ছি, ইলেকট্রিক চুলোই ভরসা। তাই একটি কিনে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছি। বিপদে কাজে লাগবে।