সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: শিল্পায়নের স্বপ্ন দেখিয়ে বীরভানপুর ফেজ টু শিল্পতালুকের একসময় ঢাকঢোল পিটিয়ে উদ্বোধন হয়েছিল। প্রত্যাশা ছিল, নতুন শিল্প গড়ে উঠবে, কর্মসংস্থানের নয়া দিগন্ত খুলবে। শিল্পের ভিড়ে বদলে যাবে এলাকার অর্থনৈতিক ছবি। কিন্তু উদ্বোধনের প্রায় এক দশক পর সেই শিল্প তালুকে আজ শিল্পের পরিবর্তে আগাছা, ঝোপঝাড়ের জঙ্গল। পরিত্যক্ত প্রায় গোটা এলাকা এখন বিষধর সাপের অবাধ বিচরণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
২০১৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভার্চুয়ালি আসানসোল দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদ (এডিডিএ)-র উদ্যোগে বীরভানপুর ফেজ টু শিল্প তালুকের উদ্বোধন করেন। সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী স্থির হয়েছিল এডিডিএ শিল্পের প্রাথমিক পরিকাঠামো সেখানে গড়ে তুলবে। পরবর্তীকালে শিল্পপতিরা বীরভানপুরে বিনিয়োগ করে নতুন শিল্প স্থাপন করবেন। কিন্তু বাস্তবে সেই পরিকল্পনার অধিকাংশই বাস্তবায়িত হয়নি বলে অভিযোগ।
বর্তমানে শিল্পতালুকে কর্মরত নিরাপত্তারক্ষী বাপ্পা গড়াই জানান, দিনের বেলাতেও এই এলাকায় বিষধর সাপ ঘুরে বেড়ায়। ঝোপঝাড়ে ঢেকে যাওয়ায় নিরাপত্তারক্ষীদের চরম ঝুঁকি নিয়ে সেখানে কাজ করতে হচ্ছে। বহুবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেই ওই নিরাপত্তা রক্ষীর দাবি। ওই শিল্পতালুকের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন দুর্গাপুর স্মল স্কেল ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রতন আগরওয়াল। তাঁর অভিযোগ, শিল্পপতিদের সঙ্গে কার্যত কোনো আলোচনা ছাড়াই শিল্প তালুক গড়ে তোলা হয়েছিল তখন। পর্যাপ্ত রাস্তা, বিদ্যুৎ, জল, নিরাপত্তা ও অন্যান্য আবশ্যিক পরিকাঠামো না থাকায় অধিকাংশ বিনিয়োগকারী পিছিয়ে যান। ফলে পরিকল্পনা কাগজেই সীমাবদ্ধ থেকে যায়। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরি হলে ভবিষ্যতে এই জমিতে নতুন শিল্প গড়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও তিনি আশাবাদী।ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। দুর্গাপুর পূর্বের বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, শিল্প স্থাপনের পূর্বশর্ত হল উন্নত যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, জল ও উপযুক্ত পরিকাঠামো। কিন্তু সেসব নিশ্চিত না করেই কেবল সীমানা প্রাচীর তুলে শিল্পতালুক ঘোষণা করা হয়েছিল। তাঁর দাবি, পরিকল্পনার পরিবর্তে প্রচারেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল সেইসময়।একই সুরে দুর্গাপুর পশ্চিমের বিধায়ক লক্ষণ চন্দ্র ঘোড়ুই বলেন, তৎকালীন সরকারের আমলে শিল্পের নামে একাধিক ঘোষণা হলেও বাস্তবে অধিকাংশ প্রকল্পের কোনো অগ্রগতি ঘটেনি। কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও একটিও নতুন শিল্প গড়ে ওঠেনি রাজ্যে।