সংবাদদাতা, রামপুরহাট: রামপুরহাটের পর নলহাটি পুরসভার অস্থায়ী ও স্যানিটারি কর্মীরা বকেয়া বেতনের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতির ডাক দিলেন। শনিবার সকালে তাঁরা পুরসভার সামনে বকেয়া বেতন মেটানোর দাবিতে বিক্ষোভও দেখান। যার জেরে সকাল থেকেই নাগরিক পরিষেবা ব্যাহত হয়।
জানা গিয়েছে, নলহাটি পুরসভার অধীনে শতাধিক স্যানিটারি কর্মী ও ১৬জন নির্মল সাথী প্রকল্পে কাজ করেন। এদের কেউ ওয়েস্টবেঙ্গল আরবান এমপ্লয়মেন্ট জেনারেশন স্কিমের আওতায় কাজ করেন। কারো আবার পারিশ্রমিক পুরসভার নিজস্ব তহবিল থেকে দেওয়া হয়। এই কর্মীদের কাছে মাসের শেষে প্রাপ্ত পারিশ্রমিকই জীবনধারণের একমাত্র সম্বল। তাঁদের অভিযোগ, যে হারে পারিশ্রমিক পাওয়ার কথা সেটা তো দেওয়া হচ্ছেই না। এখনো এপ্রিল মাসের বেতন বা পারিশ্রমিক পাননি। বর্তমানে রাজ্যে পালাবদল ঘটেছে। এই আবহে এখনো পর্যন্ত বেতন না পাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তাঁতা। তাঁদের অভিযোগ, ৫০দিনের বেতন বকেয়া পড়ে রয়েছে। যার জেরে প্রতিটি পরিবারে আর্থিক সংকট দেখা দিয়েছে। দ্রুত বকেয়া বেতন মেটানোর দাবিতে তাঁরা পুরসভার সামনে বিক্ষোভ দেখান। সেইসঙ্গে যতদিন না বেতন পাচ্ছেন, ততদিন কর্মবিরতি চালিয়ে যাবেন বলে তাঁরা পুর কর্তৃপক্ষকে সাফ জানিয়ে দেন।
আন্দোলনকারী অষ্টম মহলদার বলেন, ৫০দিন হয়ে গেল কোনো বেতন পাচ্ছি না। ধার করে সংসার চালাতে হচ্ছে। আমরা ১০-১৫ বছর ধরে কাজ করছি। যা বেতন পাই তাতে সংসার ঠিকমতো চলে না। এর আগে বহুবার চেয়ারম্যানের কাছে বেতন বৃদ্ধির দাবি জানালেও কর্ণপাত করেননি। তাই বকেয়া বেতন মেটানো ও মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে আমরা কর্মবিরতির ডাক দিয়েছি। নির্মল সাথী সুমিত্রা মুখোপাধ্যায় বলেন, অল্প বেতন পাই। সেটাও ঠিকমতো পাচ্ছি না। স্যানিটারি কর্মীদের কর্মবিরতির জেরে শহরজুড়ে সাফাই কাজ বন্ধ থাকায় আবর্জনা জমে সমস্যা বাড়বে বলে মনে করছেন নাগরিকরা।
পুরসভার স্যানিটারি ইনসপেক্টর অভিজিৎ চক্রবর্তী বলেন, ৫০দিন নয়, এসব কর্মীদের ৩৪দিনের বেতন বাকি আছে। রাজ্যে নতুন সরকার এসেছে। এখন পর্যন্ত ফান্ড না আসায় বেতন দেওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি পুরসভার চেয়ারপার্সন তথা বিধায়ককে জানানো হয়েছে। বিধায়ক রাজেন্দ্রপ্রসাদ সিং বলেন, রাজ্য থেকে ফান্ড মিললেই কর্মীদের বেতন মিটিয়ে দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, বকেয়া বেতন ও এক মহিলা সাফাইকর্মীর সঙ্গে তৃণমূল নেতার অশালীন আচরণের প্রতিবাদে কর্মবিরতি চালিয়ে আসছেন রামপুরহাট পুরসভার স্যানিটারি কর্মীরা। ফলে রাস্তায় আবর্জনা জমে যাচ্ছে। বাজার এলাকার নোংরা পরিষ্কার না হওয়া এবং ড্রেন ও নর্দমা সাফাই থমকে গিয়েছে। পুরসভার নিজস্ব ফান্ড থেকে কিছু ঝাড়ুদারকে বেতন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অভিযুক্ত তৃণমূল নেতাকে গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত তাঁদের কেউ কাজে যোগ দেবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন। ফলে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে পড়ছে। নলহাটি পুরসভার সামনে বিক্ষোভে স্যানিটারী কর্মীরা।