Bartaman Logo
১ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

স্বাভাবিকের নীচেই তাপমাত্রা, ‘হাওয়া পরিবর্তনে’ স্বস্তির মেজাজ শহরে

বার ঝড়বৃষ্টি কমবে। তারপরও অবশ্য দক্ষিণবঙ্গে তাপমাত্রা খুব বেশি বাড়বে না।

স্বাভাবিকের নীচেই তাপমাত্রা, ‘হাওয়া পরিবর্তনে’ স্বস্তির মেজাজ শহরে
  • ১২ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দুপুরের দিকে কিছুটা ভ্যাপসা গরম। বিকাল থেকে আকাশে কালো মেঘের আনাগোনা। সন্ধ্যা বা রাতের দিকে ঝেঁপে বৃষ্টি। সঙ্গে শীতল ঝোড়ো হাওয়া। এসি তো দূরের কথা, কোনো কোনো দিন রাতে ফ্যান চালানোর দরকারও পড়ছে না। ভোরের দিকে গায়ে টেনে নিতে হচ্ছে পাতলা চাদর। কে বলবে, মে মাস চলছে! অন্যান্য বছর এমন মধ্য বৈশাখে সারাক্ষণ গলদঘর্ম হয়ে থাকাটাই ছিল দস্তুর। এবার মে মাস শুরুর দিন থেকে তেমন আবহাওয়া হয়নি কলকাতা সহ গোটা রাজ্যে। এই সময়ে কলকাতার স্বাভাবিক সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অথচ চলতি মাসে এখনও পর্যন্ত সর্বোচ্চ তাপমাত্রা একদিনও ৩৫ ডিগ্রি টপকায়নি। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৪ ডিগ্রিতে পৌঁছেছিল মাত্র দু’দিন। সর্বনিম্ন তাপমাত্রাও অধিকাংশ দিন স্বাভাবিকের থেকে কম ছিল। কমবেশি একই অবস্থা চলেছে বিভিন্ন জেলায়। এমন মনোরম আবহাওয়ায় স্বভাবতই স্বস্তিতে শহরবাসী। দৈনন্দিন কাজকর্ম থেকে রাতের ঘুম—সবটাই চলছে সুচারুভাবে। যেমন বেহালার গৃহবধূ অর্পিতা তরফদার বলছিলেন, ‘এবছর ফেব্রুয়ারি-মার্চে যা গরম পড়েছিল, মনে হচ্ছিল, মে মাসটা কীভাবে কাটাব! এখন দেখছি, প্রায় প্রতিদিন ঝড়বৃষ্টি হচ্ছে।’ দমদমের বাসিন্দা রনি ভদ্রের কথায়, ‘এরকম সুদিং ওয়েদার থাকলে তো কাজকর্মও ভালো হয়। এভাবেই যদি গরম কালটা কেটে যায়, এর চেয়ে ভালো আর কিছু হতে পারে না।’ 

Advertisement

তবে আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস সোমবার জানিয়েছেন, এবার ঝড়বৃষ্টি কমবে। তারপরও অবশ্য দক্ষিণবঙ্গে তাপমাত্রা খুব বেশি বাড়বে না। কারণ, জলীয় বাষ্পপূর্ণ দখিনা বাতাস সক্রিয় থাকবে। দক্ষিণবঙ্গের কোথাও অস্বস্তিকর গরম বা তাপপ্রবাহ পরিস্থিতির আভাস আপাতত নেই।  আগামী চারদিনে দক্ষিণবঙ্গে তাপমাত্রা ২-৩ ডিগ্রি বাড়তে পারে। হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত চলবে বিক্ষিপ্তভাবে। উত্তরবঙ্গে পাহাড় ও লাগোয়া এলাকায় বেশি বৃষ্টি হবে। 
এবার এপ্রিলেও গরম তুলনামূলক কম ছিল। ওই মাসের দ্বিতীয়ার্ধে কয়েকদিন রাজ্যের কোথাও কোথাও সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪২-৪৩ ডিগ্রি ছোঁয়। কলকাতায় দু’দিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি অতিক্রম করেছিল। ২২ এপ্রিল ছিল চলতি মরশুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা (৩৬.৪ ডিগ্রি)। তবে ঝড়বৃষ্টির জন্য কলকাতায় ৯ এপ্রিল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা কমে ২৬.৫ ডিগ্রি হয়, যা স্বাভাবিকের থেকে ৮.৭ ডিগ্রি কম। 
এমন পরিস্থিতির কারণ কী? আবহাওয়াবিদরা বলছেন, বিভিন্ন জায়গায় ঘূণাবর্ত ও নিম্নচাপ অক্ষরেখা তৈরি হওয়ায় বঙ্গোপসাগর থেকে বেশি মাত্রায় জলীয় বাষ্প ঢুকছে বায়ুমণ্ডলে। তার থেকে তৈরি হচ্ছে বজ্রগর্ভ মেঘ। আবহাওয়া অধিকর্তা জানিয়েছেন, বর্ষাকাল এগিয়ে এলে বৃষ্টি বাড়ার একটা প্রবণতা থাকে। সাধারণভাবে জুন মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে রাজ্যে বর্ষা আসে। এবার অবশ্য তার আগেই রাজ্যে অনেকটা বেশি বৃষ্টি হয়েছে। এই সময় দক্ষিণ ভারত ছাড়া দেশের অন্য অংশেও স্বাভাবিকের থেকে বেশি বৃষ্টি হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ