


সৌরভ ভট্টাচার্য, তেহট্ট: তেহট্ট বিধানসভায় প্রয়াত তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক তাপস সাহার তহবিলের প্রায় আশি শতাংশ টাকা উন্নয়নে খরচ হয়েছে বলে দাবি শাসক দলের। সেই উন্নয়নের জন্য এবার এই কেন্দ্রে তৃণমূল আবার জিতবে বলে আশাবাদী এবারের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী দিলীপ পোদ্দার। প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালে তাপসবাবু প্রয়াত হন। তারপর থেকে বিধায়কশূন্য ছিল তেহট্ট। সেই কারণে ২০২৪-’২৫ ও ২০২৫-’২৬ অর্থবর্ষের বিধায়ক তহবিলের টাকা পায়নি তেহট্ট।
২০২১-’২২ ও ২০২২-’২৩ সালের অর্থবর্ষে ৬০ লক্ষ টাকা করে মোট এক কোটি ২০ লক্ষ টাকা এবং ২০২৩ -২০২৪ সালে ৭০ লক্ষ টাকা পেয়েছিল। তিনটি অর্থবর্ষে মোট ১ কোটি ৯০ লক্ষ টাকা পেয়েছিলেন তাপসবাবু। এই টাকায় তিনি ৬০টি কাজের প্রস্তাব দেন। তাতে প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ হয়েছে বলে দাবি শাসক দলের।
তহবিলের টাকায় তেহট্ট গ্রাম পঞ্চায়েতের বয়ার বান্ধায় কংক্রিটের রাস্তায় সাড়ে তিন লক্ষ টাকার কাজ হয়। শ্যামনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের ফতাইপুরে সাড়ে তিন লক্ষ টাকার পিচ রাস্তা হয়। রঘুনাথপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের তারানগরে কংক্রিটের রাস্তার জন্য খরচ হয় ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা। ওই গ্রামে অন্যে একটি কংক্রিটের রাস্তার জন্য খরচ হয় ২ লক্ষ ২০ হাজার টাকা। বেতাই-১ গ্রাম পঞ্চায়তের বেলেচোয়া পাড়ায় গার্ডওয়াল তৈরির জন্য সাড়ে তিন লক্ষ টাকা খরচ হয়। নাটনা গ্রাম পঞ্চায়েতের দেবনাথপুর শরৎ সরকার উচ্চ বিদ্যালয়ে মঞ্চ তৈরিতে চার লাখ টাকা খরচ হয়। নন্দনপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের গড়াইমারি বাসস্ট্যান্ড ও তেহট্ট সরকারি কলেজে উচ্চ বাতিস্তম্ভে খরচ হয় ছয় লক্ষ টাকা।
বেতাই-২ গ্রাম পঞ্চায়েতে রাস্তার জন্য খরচ হয় পাঁচ লক্ষ টাকা। বেতাই-২ গ্রাম পঞ্চায়েতে কড়ুইগছি বাসস্ট্যান্ডে কালভার্ট তৈরির জন্য পাঁচ লক্ষ ৯৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। একই গ্রাম পঞ্চায়েতের জিতপুর নোনা বাজার যাত্রী ছাউনির জন্য খরচ পাঁচ লক্ষ টাকা। নাজিরপুর বিদ্যাপীঠে মঞ্চ তৈরির জন্য পাঁচ লক্ষ টাকা, রঘুনাথপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের নিমতলা বিদ্যা নিকেতনের সাইকেলস্ট্যান্ড তৈরির জন্য তিন লক্ষ টাকা, শ্যামনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের ভবানীপুর খেলার মাঠে সীমানা প্রাচীরের জন্য দু’লক্ষ টাকা খরচ হয়। এছাড়া পাথরঘাটা চাচা ফকিরের মাঠে মঞ্চ তৈরি, ভবানীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের কমিউনিটি হল সংস্কার, নারায়ণপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের সাদিপুরে শিশুউদ্যান, বিভিন্ন জায়গায় উচ্চ বাতিস্তম্ভ, হাইজাম্প ল্যান্ডিং পিট সহ অন্যান্য জিনিস কেনা হয়েছে। এছাড়া নারায়ণপুর-১ ও ২ নন্দনপুর, দীঘলকান্দি গ্রাম পঞ্চায়েতে উচ্চ বাতিস্তম্ভ সহ রাস্তার কাজ হয়েছে।
সিপিএমের প্রার্থী সুবোধ বিশ্বাস বলেন, সব হয়েছে অথচ কোনো উন্নয়ন চোখে দেখা যাচ্ছে না। এলাকার সবচেয়ে বড় দাবি জলঙ্গি নদীর উপর সেতু ও তেহট্টকে পুরসভা ঘোষণার কোনোটাই হয়নি।
বিজেপির নদীয়া জলা উত্তরের মুখপাত্র সন্দীপ মজুমদার বলেন, এত যদি উন্নয়ন হয় তবে রাস্তার বেহাল অবস্থা কেন? বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য কী করা হয়েছে? তেহট্ট কেন পুরসভা হল না? তেহটে জলঙ্গি নদীতে সেতু কেন হল না?
এই নিয়ে তৃণমূল প্রার্থী দিলীপ পোদ্দার বলেন, গত ১০ বছর এই কেন্দ্রে আমাদের দুই বিধায়ক যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তা প্রায় পূরণ হয়েছে। তেহট্টে সরকারি কলেজ, আইটিআই, পলিটেকনিক কলেজ, স্টেডিয়াম সহ আরও কিছু। সেতু ও পুরসভা হবেই। নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।