Bartaman Logo
৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সিকিমের ধসে তিস্তার গতিপথ রুদ্ধ, বিপর্যয়ের শঙ্কা উত্তরবঙ্গে

মিরিকের পর এবার সিকিম। রবিবার ভোরে উত্তর সিকিমে মঙ্গন জেলার তিস্তা ও চিয়াকুং নদীর সঙ্গমস্থলে নেমেছে ধস।

সিকিমের ধসে তিস্তার গতিপথ রুদ্ধ, বিপর্যয়ের শঙ্কা উত্তরবঙ্গে
  • ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি ও কলকাতা: মিরিকের পর এবার সিকিম। রবিবার ভোরে উত্তর সিকিমে মঙ্গন জেলার তিস্তা ও চিয়াকুং নদীর সঙ্গমস্থলে নেমেছে ধস। তার জেরে উভয় নদীর প্রবাহ আংশিকভাবে বাধাপ্রাপ্ত হয়। প্রাকৃতিক বাঁধ তৈরি হয়ে রুদ্ধ হয়ে যায় জলের গতিপথ। তার জেরেই প্রতিবেশী রাষ্ট্র নেপালের মতো বিপর্যয়ের শঙ্কা দেখা দিয়েছে সিকিম ও লাগোয়া উত্তরবঙ্গে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে সতর্ক বার্তা পাঠিয়েছে সিকিম সরকার। প্রশাসনের তরফে ময়নাগুড়ি সহ বিভিন্ন এলাকায় মাইকিংয়ের মাধ্যমে নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়েছে। সরানো হয়েছে ৩৩টি পরিবারকে। ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে উত্তর সিকিমে সাউথ লোনক হিমবাহ লাগোয়া লেক ফেটে (যে ঘটনাকে বলা হয় ‘গ্লফ’) যাওয়ায় জলের তোড়ে তিস্তা নদীর উপর বাঁধ ভেঙে পড়েছিল। তার জেরে সিকিম ও উত্তরবঙ্গে প্রচুর প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়। তার ঠিক আগের বছর, ২০২২ সালের অক্টোবরে দুর্গা প্রতিমা নিরঞ্জনের সময় মালবাজারে মাল নদীতে আচমকা নেমে এসেছিল হড়পা বান। সেই ঘটনায় প্রাণ হারান আটজন। পরে জানা যায়, পাহাড়ের অনেক উপরে পাথর পড়ে নদীর পথ রুদ্ধ হয়ে গিয়েছিল। পরে বেশি বৃষ্টি বা অন্য কোনো কারণে ওই বাধা ভেঙে আচমকা জলস্রোত নেমে আসে নীচে। এবার কি পুজোর আগে ফিরবে সেই কালো স্মৃতি? আতঙ্ক গ্রাস করেছে উত্তরবঙ্গকে!

Advertisement

সিকিম প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন ভোরে থেং টানেলের বিপরীতে নাগা ফরেস্ট এলাকায় পাহাড়ের একটি বড়ো অংশ ধসে পড়ে তিস্তা ও চিয়াকুং নদীর সঙ্গমস্থলে। পশ্চিমবঙ্গ সীমান্তের কাছে রংপো থেকে প্রায় ৪০ কিমি উজানে ঘটেছে এই ঘটনা। পরে অবশ্য দুই নদীরই প্রবাহ স্বাভাবিক হয়েছে বলে দাবি আধিকারিকদের। তাও মঙ্গন জেলা প্রশাসন তিস্তা নদী অববাহিকা জুড়ে পরিস্থিতির উপর নজরদারি চালাচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে কালিম্পং, দার্জিলিং ও জলপাইগুড়ি জেলা প্রশাসন। ময়নাগুড়ির বিডিও সৌমেন দাস বলেন, ‘নদীর তীরবর্তী গ্রামের বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়েছে। আমাদের হেল্পলাইন নম্বর ৯৬৩৫৯৭৮৪৪৯।’ এই ঘটনার পর তিস্তা নদীর নিম্ন অববাহিকার বাঁধ থেকে বেশি পরিমাণে জল ছাড়া হচ্ছে। ভূ-পদার্থবিদ  ও জিএসআইয়ের প্রাক্তন ডিরেক্টর শিখেন্দ্র দে জানিয়েছেন, ‘জলের ক্রমবর্ধমান চাপে ওই অস্থায়ী বাধা ভেঙে যেতে পারে যে কোনো সময়। সেই জলস্রোত রুখতেই নীচের ড্যামের জায়গা খালি করা হচ্ছে। বিষয়টি আগেভাগে চিহ্নিত হওয়ায় প্রতিরোধ মূলক ব্যবস্থা নেওয়া গিয়েছে। ‘গ্লফ’এর সময় এই সুযোগ পাওয়া যায়নি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ