Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

তিনদিন বন্ধুদের সঙ্গে কাটিয়ে বাড়ি ফিরে আত্মঘাতী কিশোরী, রঘুনাথগঞ্জে চাঞ্চল্য

একাদশ শ্রেণির ছাত্রীটিকে বাড়ি থেকে ফুসলে নিয়ে গিয়েছিল বন্ধুরা। তিনদিন পর বাড়ির কাছাকাছি তাকে ছেড়ে যায়। যোগাযোগ করলে পরিণাম ভালো হবে না বলে শাসায়ও।

তিনদিন বন্ধুদের সঙ্গে কাটিয়ে বাড়ি ফিরে আত্মঘাতী কিশোরী, রঘুনাথগঞ্জে চাঞ্চল্য
  • ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: একাদশ শ্রেণির ছাত্রীটিকে বাড়ি থেকে ফুসলে নিয়ে গিয়েছিল বন্ধুরা। তিনদিন পর বাড়ির কাছাকাছি তাকে ছেড়ে যায়। যোগাযোগ করলে পরিণাম ভালো হবে না বলে শাসায়ও। তারপরেই অভিমানে অ্যাসিড খেয়ে আত্মঘাতী হয় ষোলো বছরের কিশোরী। শনিবার রাতের ঘটনায় রঘুনাথগঞ্জের নয়ামুকুন্দপুরে চাঞ্চল্য ছড়ায়। পুলিশ জানিয়েছে, আত্মঘাতী কিশোরীর বাড়ি রঘুনাথগঞ্জ থানার নয়ামুকুন্দপুর গ্রামে। মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মেয়ের এই পরিণতির জন্য যারা দায়ী, তাদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন মৃতার পরিবারের সদস্যারা। জঙ্গিপুর ফাঁড়ির পুলিশ অফিসার জানিয়েছেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

Advertisement

জানা গিয়েছে, তিনদিন আগে আত্মঘাতী কিশোরীকে তার বন্ধুরা ফুসলে বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। কিশোরীর বন্ধুর বাড়ি রঘুনাথগঞ্জের কাশিয়াডাঙা গ্রামে। কিশোরীকে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘোরে তারা। ওই তিনদিন মেয়ে কোথায় ছিল, এ বিষয়ে অন্ধকারে পরিবারের সমস্যারা। শনিবার বিকেলে কিশোরীকে টোটোতে চাপিয়ে তিন বন্ধু বাড়ির কাছে নামিয়ে দেয়। বাড়িতে ফিরে কিশোরী কারও সঙ্গে কথাবার্তা বলেনি। প্রায় ঘণ্টা খানেক চুপচাপ বসে ছিল। এরপর স্নান করতে বাথরুমে ঢোকে। সেখানে থাকা মিউরেটিক অ্যাসিড খেয়ে নেয়। বেশ কিছুক্ষণ পরে সে বাথরুম থেকে বেরিয়ে জানায়, সে অ্যাসিড খেয়েছে। তড়িঘড়ি তাকে জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাত সাড়ে দশটা নাগাদ সেখানেই তার মৃত্যু হয়। কিশোরীকে তার বন্ধুরা ভয় দেখায় বলে পরিবারের দাবি। এরপর যোগাযোগ করার করলে বা বাড়িতে গেলে ফল ভালো হবে না বলেও হুমকি দেয়। কিশোরী বাড়ি ফিরে তেমনটাই জানিয়েছে বলে পরিবারের সদস্যদের দাবি। মৃতের দাদা জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতাল মর্গের সামনে দাঁড়িয়ে বলেন, ওর বন্ধুরা বোনকে নিয়ে যায়। ভয়ভীতি দেখিয়ে তিনদিন পর বাড়িতে রেখে যায়। আর যোগাযোগের চেষ্টা করলে খুন করে ফেলবে বলে ভয় দেখায়। বোনের এই পরিণতির জন্য বন্ধুরাই দায়ী। ওদের কঠোর শাস্তি দিক পুলিশ। মিঠিপুর পঞ্চায়েতের উপপ্রধান উমর শেখ বলেন, অভিযুক্তদের পরিবারের লোকজন চেনে ও জানে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি দিক।  মৃত কিশোরীরর পরিজনরা। নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ