অকল্যান্ড: অনভিজ্ঞ চার পেসারের নিংড়ে দেওয়া পারফরম্যান্স। অভিজ্ঞ বিরাট কোহলির অনন্য স্কিল। দুয়ের মেলবন্ধনে ওডিআই সিরিজের শুরুটা দাপটে করল ভারত। বুধবার সিরিজের প্রথম একদিনের ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ডাকওয়ার্থ-লুইস নিয়মে ৫ উইকেটে হারাল সফরকারী দল। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে অর্শদীপ সিং, গুরনুর ব্রার ও অংশুল কম্বোজ— তিন পেসারের সামনে নতজানু কিউয়িরা থামে ১৮৫ রানে। বৃষ্টিতে দু’বার খেলা বন্ধ হওয়ায় ভারতের টার্গেট দাঁড়ায় ৩২ ওভারে ১৪৩। ‘কিং’ কোহলির রাজসিক ইনিংস ৫৬ বল বাকি থাকতে জয়ের স্টেশনে পৌঁছে দেয় দলকে (১৪৩-৫)। পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ভারত এখন ১-০। পরের ম্যাচ শনিবার ওয়েলিংটনে।
একদিনের স্কোয়াডে পেস আক্রমণে সবচেয়ে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন পেসার মহম্মদ সিরাজকে এদিন প্রথম এগারোয় রাখেনি ভারত। অর্শদীপ, গুরনুর, কম্বোজ ও আকিব নবির এই ফরম্যাটে দেশের হয়ে খেলার মিলিত অভিজ্ঞতা ছিল মাত্র ২৯ ম্যাচের। সেটাই চিন্তায় রাখছিল ক্রিকেটপ্রেমীদের। কিন্তু সেই আনকোরা পেস আক্রমণই নাভিশ্বাস তুলে দেয় হোম টিমের। যশপ্রীত বুমরাহর অনুপস্থিতিতে নতুন বলে নেতৃত্ব দিলেন অর্শদীপ (৪-৭০)। ৬ ফুট ৫ ইঞ্চির গুরনুর (৩-৪৪) গতি ও বাউন্সে পরীক্ষায় ফেলেন কিউয়িদের। আর নিখুঁত লাইন-লেংথে ব্যাটারদের বেঁধে রাখেন কম্বোজ। ১০ ওভারে ২২ রানে দুই উইকেট তাঁর। দু’টি মেডেনও নেন তিনি। ৪৬টি ডটবল করা কম্বোজই ম্যাচের সেরা ঘোষিত হন। কিউয়িদের ইনিংসে ‘রো-কো’ জুটি বিশেষভাবে কাড়ে নজর। ড্যারিল মিচেলের রান-আউটের নেপথ্যে রয়েছে শরীর ছুড়ে অবিশ্বাস্য ক্ষিপ্রতায় করা রোহিতের থ্রো। দ্বিতীয় স্লিপে দাঁড়ানো কোহলি আবার ডানদিকে ঝাঁপিয়ে একহাতে নেন নাথান স্মিথের ক্যাচ। রোহিত (০) অবশ্য ব্যাট হাতে হতাশ করেন। তবে বিরাটকে দেখা যায় অন্য মেজাজে। যে পিচে উভয় দলের সব ব্যাটারকেই নড়বড়ে দেখিয়েছে, সেখানেই বোলারদের শাসন করলেন তিনি। ১৪৫ স্ট্রাইক রেটে ৫১ বলে এই ৭৪ তাই সোনার চেয়েও দামি। ১৩টি চার ও একটি ছক্কা মারেন ভিকে। দ্বিতীয় উইকেটের জুটিতে শুভমান গিলের সঙ্গে যোগ করেন ১১৩। বার দুয়েক বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হলেও চিড় ধরাতে ব্যর্থ মনোসংযোগে। গিল (৩৭) ফেরার পর অবশ্য মিনি ভাঙন ধরেছিল। বিরাটের পর আউট হন অক্ষর প্যাটেল (০) ও শ্রেয়স আয়ার (১৫)। তবে ততক্ষণে ভারতের জয় নিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: নিউজিল্যান্ড ৪০.২ ওভারে ১৮৫ (সেফার্ট ৩৮, অর্শদীপ ৪-৭০, গুরনুর ৩-৪৪, কম্বোজ ২-২২)। ভারত ২২.৪ ওভারে ১৪৩-৫ (কোহলি ৭৪, গিল ৩৭, ডাফি ৩-৪৯)। ভারত ডাকওয়ার্থ-লুইস নিয়মে ৫ উইকেটে জয়ী। ম্যাচের সেরা কম্বোজ।



