Bartaman Logo
২০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দিনের পর দিন বাড়িতে বসেই মোটা বেতন তুলতেন শিক্ষকরা, চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করল শিক্ষাদপ্তর

শিক্ষাদপ্তর ফাঁকিবাজ শিক্ষকদের চিহ্নিত করতে কাজ শুরু করেছে। প্রভাবশালী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বিস্তারিত পড়ুন।

দিনের পর দিন বাড়িতে বসেই মোটা বেতন তুলতেন শিক্ষকরা, চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করল শিক্ষাদপ্তর
  • ২০ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: তৃণমূল জমানায় অনেক শিক্ষক প্রতি মাসে বেতন নিয়েছেন। কিন্তু তাঁরা স্কুলে যেতেন না। প্রভাবশালী হওয়ায় তাঁদের বিরুদ্ধে স্কুল কর্তৃপক্ষ কিছু বলার সাহস দেখাত না। অভিভাবকরাও কিছু বলার সাহস দেখাননি। এবার সেই সমস্ত শিক্ষককে চিহ্নিত করার কাজ শুরু করেছে শিক্ষাদপ্তর। শুধু খাতা দেখে নয়, প্রয়োজনে অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে তাঁরা ‘ফাঁকিবাজ’ শিক্ষকদের চিহ্নিত করবেন। প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকাদের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি ছিল বলে জানা যাচ্ছে। তবে শুধু স্কুল নয়, অন্যান্য দপ্তরেরও ফাঁকিবাজদের চিহ্নিতকরণের কাজও শুরু হয়েছে। পালা বদলের পর কেউ কেউ অফিসে গিয়ে পরিস্থিতি ‘মেকআপ’ দেওয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু, তাতে লাভ হবে না বলে আধিকারিকদের দাবি।

Advertisement

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন সরকার কর্মসংস্কৃতি ফেরাতে কড়া নির্দেশিকা জারি করেছে। প্রতিদিন সময়ে অফিস আসা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের আগে কেউ অফিস থেকে বেরতে পারবেন না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে, এতদিন যাঁরা স্কুলে ক্লাসরুমে হাজির না থেকে বেতন তুলেছেন, তাঁদের চিহ্নিত করে পদক্ষেপ নিতে চাইছে শিক্ষাদপ্তর। প্রভাব খাটিয়ে অনেক শিক্ষক বা বেশ কিছু সরকারি কর্মী নিজেদের বদলি আটকেছেন। সেই নিয়মেরও অবসান ঘটতে চলেছে। 
এক আধিকারিক বলেন, সরকার সব দপ্তরে স্বচ্ছতা আনতে চাইছে। অফিস বা স্কুলে না যাওয়াটা এক শ্রেণির শিক্ষক ও কর্মীর অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে অনেকে তৃণমূলের বিভিন্ন পদে ছিলেন। প্রভাব খাটিয়ে তাঁরা কোনো একদিন স্কুলে গিয়ে হাজিরা খাতায় একসঙ্গে সব সই করে দিতেন। আইনিভাবে তাঁরা নিজেদের ‘সেফ জোনে’ রাখার চেষ্টা করলেও পরিবর্তনের পর সেই রক্ষাকবচ কাজে আসবে না। ফাঁকিবাজদের শোকজ করা হবে। সদুত্তর না পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। যাঁরা দীর্ঘদিন একই জায়গায় কর্মরত রয়েছেন, তাঁদেরও বদলি করা হবে। আধুনিক সুযোগ সুবিধা পাওয়ার জন্য অনেকেই শহরের স্কুলগুলিতে প্রভাব খাটিয়ে পোস্টিং নিয়েছেন। গ্রামের স্কুলগুলিতে শিক্ষকের অভাব থাকলেও শহরে অন্য ছবি। কোনো কোনো স্কুলে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সংখ্যক শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছেন। তাঁদের বদলি করা হবে।
অপর এক আধিকারিক বলেন, রাজ্য সরকার শিক্ষা ব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে চাইছে। আগের জমানায় বেসরকারি স্কুলগুলির রমরমা বেড়ে গিয়েছিল। শহরের সরকারি প্রাথমিক স্কুলগুলিতে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা কমে গিয়েছে। নতুন সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলির ভোল বদলে ছাত্রছাত্রী টানার পরিকল্পনা করেছে। ক্লাস রুমেরও পরিকাঠামো বদলের চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছে। আধিকারিকদের দাবি, প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলিতে পড়াশোনার মান উন্নত হলে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা আগের তুলনায় বাড়বে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ