Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চাকরি ফেরানোর দাবিতে মেদিনীপুরে বিক্ষোভ কর্মসূচি শিক্ষক-শিক্ষিকাদের

চাকরি ফেরানোর দাবিতে মেদিনীপুরে বিক্ষোভ কর্মসূচি শিক্ষক-শিক্ষিকাদের
  • ৫ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: শীর্ষ আদালতের নির্দেশে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় অসংখ্য শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিলের প্রতিবাদে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হল। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের একাংশ এদিন দুপুরে মেদিনীপুর শহরের কালেক্টরেট মোড়ে বিক্ষোভ দেখান। রাস্তায় বসে প্রতিবাদ জানান তাঁরা। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে যোগ্য প্রার্থীদের চাকরি ফিরিয়ে দিতে হবে। না হলে তাঁরা লাগাতার আন্দোলনে নামবেন। বিক্ষোভ কর্মসূচির জেরে কালেক্টরেট মোড় সংলগ্ন এলাকায় যানজট হয়। শিক্ষাদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, আদালতের নির্দেশের পর পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় প্রায় দেড় হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষাকর্মী চাকরি হারিয়েছেন। বেশকিছু স্কুলে এক ধাক্কায় শিক্ষকের সংখ্যা কমে যাওয়ায় সমস্যায় পড়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। এদিন বিক্ষোভ কর্মসূচি চলাকালীন কথা হচ্ছিল নারায়ণগড় ব্লকের ভদ্রকালী গান্ধী বিদ্যাপীঠ স্কুলের শিক্ষক অভিজিৎ গিরির সঙ্গে। তিনি বলেন, যখন খবরটা জানতে পারি, তখন স্কুলের পরীক্ষা কেন্দ্রে ছিলাম। মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। চাকরি ফেরত দিতে না পারলে মেদিনীপুরের মাটি থেকে বিপ্লবের সূচনা হবে। যে বিপ্লব স্বাধীনতা সংগ্রামের চেয়েও ভয়ানক হতে পারে। অপরদিকে ডেবরা ব্লকের বালিচক ভজহরি ইনস্টিটিউশনের শিক্ষিকা মামনি মুর্মু বলেন, যে কোনও ভাবে আমাদের চাকরি ফেরত চাই। আমরা কী দোষ করেছি। ভবিষ্যত প্রজন্মের কথা ভেবে আমরা লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাব।

Advertisement

উল্লেখ্য, জেলায় বেশিরভাগ স্কুলে শিক্ষক-শিক্ষিকার ঘাটতি রয়েছে। তার মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের রায় সামনে আসায় সমস্যায় পড়েছে বহু স্কুল। বর্তমানে বিভিন্ন স্কুলে পরীক্ষা চলছে। তাই সমস্যা আরও বেড়েছে। পরীক্ষা শেষ হলে ক্লাসে পড়াবেন কারা, তা বুঝেই উঠতে পারছে না স্কুল কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি চাকরিহারা শিক্ষকদের কাছে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের খাতা রয়েছে। এই বিপুল সংখ্যক খাতা কারা দেখবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। জেলার এক শিক্ষক বলেন, প্রতিটি স্কুলে শিক্ষক-শিক্ষিকার ঘাটতি রয়েছে। বহু স্কুলে প্যারা শিক্ষক দিয়ে ঘাটতি মেটানো হয়। এরপর আদালতের রায়ে বহুজনের চাকরি চলে যাওয়ায় বহু স্কুলে পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাবে। এরফলে শেষ হয়ে যাবে একটা জেনারেশন। সরকারের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা অ্যাডভান্সড সোসাইটি ফর হেডমাস্টার্স অ্যান্ড হেড মিস্ট্রেসেস সংগঠনের সভাপতি অমিতেশ চৌধুরী বলেন, স্কুলের প্রধান শিক্ষক -শিক্ষিকারা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন। তার সঙ্গে অভিভাবকরাও এই বিষয় নিয়ে চিন্তা করছেন। স্কুল চালানো সমস্যা হয়ে যাবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ