Bartaman Logo
১১ জুন, ২০২৬

হুইলচেয়ারে বসেই রোজ ক্লাসে, জীবন থেকে ‘ছুটি’ চান, স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন শিক্ষিকার

বয়স ৫২। গত কয়েক বছর ধরে প‌্যারালাইসিসে ভুগছেন। ঠিকমতো নড়াচড়া করতে পারেন না। প্রতি মুহূর্তে অসহ্য যন্ত্রণা। যদিও হুইলচেয়ারে বসেই এখনও ছাত্র-ছাত্রীদের পড়িয়ে চলেছেন তিনি।

হুইলচেয়ারে বসেই রোজ ক্লাসে, জীবন থেকে ‘ছুটি’ চান, স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন শিক্ষিকার
  • ২৭ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

ভোপাল: বয়স ৫২। গত কয়েক বছর ধরে প‌্যারালাইসিসে ভুগছেন। ঠিকমতো নড়াচড়া করতে পারেন না। প্রতি মুহূর্তে অসহ্য যন্ত্রণা। যদিও হুইলচেয়ারে বসেই এখনও ছাত্র-ছাত্রীদের পড়িয়ে চলেছেন তিনি। অস্বস্তি আর যন্ত্রণাকে সঙ্গী করে এভাবেই দিনের প্রায় আট ঘণ্টা স্কুলে থাকেন তিনি। কিন্তু শরীর আর সঙ্গ দিচ্ছে না। এবার জীবন থেকে ‘ছুটি’ চান তিনি। তাই স্বেচ্ছামৃত্যুর অনুমতি চেয়ে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে চিঠি লিখলেন মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরের শিক্ষিকা চন্দ্রকান্তা জেঠওয়ানি।

Advertisement

সালটা ২০২০। চিকিৎসায় গাফিলতির জেরে ইন্দোরের জবরান কলোনির গভর্নমেন্ট মিডল স্কুলের শিক্ষিকা চন্দ্রকান্তার হাঁটাচলা বন্ধ হয়ে যায়। একইসঙ্গে বিরল হাড়ের রোগ অস্টিওজেনেসিস ইমপারফেক্টায় আক্রান্ত তিনি। এর জেরে শরীরে আর মজবুত হাড় তৈরি হয় না। হাড় ক্রমে ভঙ্গুর হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু তাও হার মানেননি তিনি। হুইলচেয়ারে বসে রোজ ছেলে-মেয়েদের বিজ্ঞান পড়িয়ে চলেছেন। বর্তমানে পরিবারে আর কেউ নেই। তাই নিজের সমস্ত স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি স্কুলের ছয় পড়ুয়ার নামে করে দিয়েছেন। এবার স্বেচ্ছায় মৃত্যু চান। রাষ্ট্রপতিকে লেখা চিঠিতে তাঁর আবেদন - আমি আত্মহত্যা করব না। কারণ প্রতিদিন আমার ছাত্র-ছাত্রীদের সাহসের সঙ্গে বাঁচতে শেখাই। কিন্তু আজকাল আর শরীর সঙ্গ দিচ্ছে না। অসহ্য যন্ত্রণা হয়। তাই স্বেচ্ছামৃত্যুর দাবি জানাচ্ছি। আমার মৃত্যুর পর আমার অঙ্গগুলি কাউকে নতুন জীবন দিতে পারে। এটুকুই শেষ ইচ্ছে।’
বিষয়টি সামনে আসার পর থেকেই বিতর্ক শুরু হয়েছে। কারও কথায়, এই ধরনের মানুষজনকে নিয়ে আরও যত্নশীল হতে হবে সরকারকে। প্রতিমুহূর্তে তাঁদের পাশে দাঁড়াতে হবে। স্কুল প্রিন্সিপাল সখারাম প্রসাদের বক্তব্য, স্বেচ্ছামৃত্যু নিয়ে তিনি আমায় কোনওদিন কিছু বলেননি। তাঁর 
শরীরে নানা সমস্যা। তারপরও 
কর্তব্যে অবিচল।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ