নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: বৃষ্টি কম। সেইসঙ্গে তাপমাত্রা বৃদ্ধি। আর এরই জেরে চা বাগানে থাবা বসিয়েছে রোগপোকা। সবমিলিয়ে জুনমাসে ডুয়ার্সে চা পাতার উৎপাদন কমল প্রায় ৭ লক্ষ কেজি। এনিয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে টি রিসার্চ অ্যাসোসিয়েশন (টিআরএ)। যা ঘিরে রীতিমতো উদ্বেগে চা শিল্প মহল। টিআরএ’র রিপোর্টে বলা হয়েছে, গতবছর জুনে ডুয়ার্সে ৬৪ লক্ষ ৮৪ হাজার ৬১৮ কেজি কাঁচা চা পাতা উৎপাদন হয়েছিল। সেখানে এবার জুনে ডুয়ার্সে চা পাতা উৎপাদন হয়েছে ৫৮ লক্ষ ১৯ হাজার ১৬২ কেজি। অর্থাৎ, গতবারের তুলনায় এবার জুনে ডুয়ার্সে কাঁচা চা পাতার উৎপাদন কমেছে ৬ লক্ষ ৬৫ হাজার ৪৫৬ কেজি।
ইন্ডিয়ান টি প্ল্যান্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের ডুয়ার্স শাখার সম্পাদক রামঅবতার শর্মা বলেন, আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনায় চা পাতা উৎপাদনে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। গতবছরের তুলনায় শুধু জুন মাসে ডুয়ার্সে প্রায় সাত লক্ষ কেজি পাতা কম উৎপাদন হয়েছে। মরশুম শেষে এটা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে বলা মুশকিল। তাঁর দাবি, জুন মাস থেকে মূলত রেন ফ্ল্যাশের চা পাতা তোলা শুরু হয়। কিন্তু এবার ডুয়ার্সে প্রায় ৩০ শতাংশ বৃষ্টি কম। সেইসঙ্গে গত বছরের তুলনায় এবার তাপমাত্রা অনেকটাই বেড়েছে। সবমিলিয়ে ডুয়ার্সে কমবেশি প্রায় সব চা বাগানেই উৎপাদন মার খেয়েছে।
সবচেয়ে খারাপ অবস্থা জয়ন্তী সাব-ডিস্ট্রিক্টের অন্তর্গত সাতটি বাগানে। গতবছর জুনে ওই বাগানগুলিতে মোট ৭ লক্ষ ২৮ হাজার ৩৮৪ কেজি চা পাতা উৎপাদন হয়েছিল। এবার জুনে হয়েছে ৫ লক্ষ ৪২ হাজার ৩৮৯ কেজি। অর্থাৎ, চা পাতার উৎপাদন কমেছে ২৫ শতাংশ। দলগাঁও সাব-ডিস্ট্রিক্টের অধীনে রয়েছে সাতটি চা বাগান। গতবছর জুনে ওই বাগানগুলিতে মোট ৪ লক্ষ ৫ হাজার ৭২২ কেজি কাঁচা চা পাতা উৎপাদন হয়েছিল। এবার হয়েছে ৩ লক্ষ ৪০ হাজার ১৫৯ কেজি। অর্থাৎ উৎপাদন কমেছে ১৬ শতাংশ। বিন্নাগুড়ি সাব-ডিস্ট্রিক্টের অধীনে রয়েছে দশটি চা বাগান। গতবার জুনে ওই বাগানগুলিতে মোট চা পাতা উৎপাদন হয়েছিল ৯ লক্ষ ৫১ হাজার ৬৭২ কেজি। এবার হয়েছে ৮ লক্ষ ২৩ হাজার ২৭১ কেজি। অর্থাৎ, পাতার উৎপাদন কমেছে সাড়ে ১৩ শতাংশ।
ডামডিম সাব-ডিস্ট্রিক্টের অধীনে রয়েছে ২১টি বাগান। গতবার ওই বাগানগুলিতে মোট ১৯ লক্ষ ৫৮ হাজার ৭১১ কেজি চা পাতা উৎপাদন হয়েছিল। এবার হয়েছে ১৭ লক্ষ ৭৭ হাজার ২৫৭ কেজি। অর্থাৎ, উৎপাদন কমেছে ৯ শতাংশ। কালচিনি সাব-ডিস্ট্রিক্টের অধীনে রয়েছে দশটি বাগান। গতবছর জুনে ওই বাগানগুলিতে মোট ১১ লক্ষ ২৬ হাজার ৪৯৫ কেজি চা পাতা উৎপাদন হয়েছিল। সেখানে এবার হয়েছে ১০ লক্ষ ৪৫ হাজার ৫৬২ কেজি পাতা। অর্থাৎ, উৎপাদন কমেছে ৭ শতাংশ। চালসা সাব-ডিস্ট্রিক্টের অধীনে সাতটি বাগানে গতবার জুনে ৭ লক্ষ ৭৯ হাজার ৮৩ কেজি চা পাতা উৎপাদন হয়েছিল। এবার হয়েছে ৭ লক্ষ ৫৮ হাজার ৪৭ কেজি চা। আড়াই শতাংশ কমেছে উৎপাদন। একইভাবে উৎপাদন কমেছে নাগরাকাটা সাব-ডিস্ট্রিক্টের অধীন পাঁচটি চা বাগানে।