Bartaman Logo
২৩ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কৃষ্ণনগর স্টেশনে উচ্ছেদের জেরে কর্মহীন চা, ডালপুরী, চপ বিক্রেতা! সংসার চালানো নিয়ে উদ্বেগ

কৃষ্ণনগর স্টেশনে হকার উচ্ছেদের পর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আয় শূন্যে, সংসার চালাতে উদ্বেগ। কীভাবে চলবে তাদের জীবন? বিস্তারিত পড়ুন।

কৃষ্ণনগর স্টেশনে উচ্ছেদের জেরে কর্মহীন চা, ডালপুরী, চপ বিক্রেতা! সংসার চালানো নিয়ে উদ্বেগ
  • ২৩ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর : একসময় যেখানে ট্রেন ঢুকলেই ভেসে আসত চায়ের ডাক, গরম ডালপুরির গন্ধ কিংবা চপ-বিক্রেতাদের ব্যস্ততা, সেই কৃষ্ণনগর রেলস্টেশন আজ অনেকটাই নিস্তব্ধ। স্টেশন চত্বর জুড়ে এখন নেই সেই চেনা কোলাহল, নেই ছোট ছোট দোকানগুলোর ভিড়। সম্প্রতি হকার উচ্ছেদ অভিযানের পর সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসে পড়েছে সেই সব ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবনে,  যাদের আয় সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করত প্রতিদিনের বিক্রির উপর। কেউ চা  বিস্কুট বিক্রি করতেন, কেউ বা ঘুগনি, কেউ বা জল কিংবা ছোটখাটো নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী। কেউ বা সরাই করতেন হারমোনিয়াম, তবলা। এই কাজ করে দিনের শেষে সামান্য যা আয় হতো, তা দিয়েই চলত সংসার। কিন্তু দোকান উচ্ছেদ হওয়ার পর সেই আয় এক ধাক্কায় নেমে এসেছে শূন্যে।

Advertisement

বেশ কিছু হকাররা বলেন,  দীর্ঘদিন ধরে বছরের পর বছর স্টেশন চত্বরে ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করেছেন। সেই আয়ের উপর নির্ভর করেই সন্তানদের পড়াশোনা, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা এবং সংসারের নিত্যদিনের খরচ চলত। হঠাৎ করে ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাঁরা কার্যত অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। বর্তমানে অনেকেই বিকল্প কাজের খোঁজ শুরু করেছেন। কেউ দিনমজুরির কাজের সন্ধান করছেন, কেউ অন্যত্র ছোটখাটো ব্যবসা শুরু করার কথা ভাবছেন। তবে বেশিরভাগেরই অভিযোগ, হাতে পুঁজি না থাকায় নতুন করে কিছু শুরু করা অত্যন্ত কঠিন। ফলে প্রতিদিনই বাড়ছে উদ্বেগ। স্টেশন চত্বরে নিজের উচ্ছেদ হওয়া দোকানের জায়গার সামনে দাঁড়িয়ে কাজল রায় নামে এক চা বিক্রেতা আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, ঠিক এই জায়গাতেই আমার চায়ের দোকান ছিল। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এখানে বসেই দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করেছি। এখান থেকেই সামান্য যা আয় হতো তাই দিয়েই সংসার চলত। এখন কোন কাজ নেই ফলে হাতে কোন টাকা পয়সা নেই। জানি না আগামীদিন গুলো কিভাবে কাটবে।আমার নতুন করে দোকান দেওয়ার মতো টাকা নেই, আবার নতুন করে কোথায় দোকান দেব তারও কোনও জায়গা নেই।
শৈলেন বিশ্বাস নামে এক হকার বলেন, আমার দোকান নেই, আমি ট্রেনে করে বাদাম, ভুজিয়া, ডালমুট এসব বিক্রি করতাম। এখন তো শুনছি ট্রেনে উঠে হকারি করলে অনেকগুলো টাকা ফাইন দিতে হবে। তাই আর ট্রেনে উঠছি না। স্টেশনের বাইরে রাস্তাতেই ঘুরে ঘুরে বিক্রি করছি। কিছু করার নেই, রোজগার না করলে বাড়িতে রান্না হবে না। না খেয়েই থাকতে হবে। ছেলেমেয়েদের টিউশনি পড়ার খরচ আছে। কিভাবে কি করবো বুঝতে পারছি না।  হকার উচ্ছেদ অভিযানের ফলে ইতিমধ্যেই দু ভাগে ভাগ হয়েছে গোটা সমাজ। এক পক্ষ যেমন আধুনিক ও উন্নত পরিষেবা পাওয়ার জন্য হকার উচ্ছেদকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। অন্যপক্ষ আবার উন্নয়নকে বাধা না দিয়েই জীবিকা হারানো শতাধিক পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের দাবি, উন্নয়ন হোক কিন্তু এর পাশাপাশি হকারদের দিকটিও মানবিক দিয়ে ভাবুক রেল কর্তৃপক্ষ।
স্টেশন চত্বরের ফাঁকা জায়গার দিকে তাকিয়ে আজও বহু হকার দীর্ঘশ্বাস ফেলছেন। তাঁদের চোখে ভাসছে একটাই প্রশ্ন—আগামী দিনে কীভাবে চলবে সংসার, কীভাবে বাঁচবে পরিবার? উত্তর এখনও অজানা। তবে বাঁচার তাগিদে নতুন পথ খুঁজে পাওয়ার আশাতেই দিন গুনছেন কৃষ্ণনগরের এই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ