মুম্বই: শ্বশুরবাড়িতে বধূকে টিভি দেখতে হত না। একা মন্দিরেও যেতে হত না। রাতে ঘুমোতে হত শতরঞ্চিতে। ওই বধূর মৃত্যুর পর শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে গার্হস্থ্য নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছিলেন পরিজনরা। যার জেরে মৃতার স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়ি ও দেওরকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল নিম্ন আদালত। কিন্তু ২০ বছর পুরনো সেই রায় খারিজ করে দিল বম্বে হাইকোর্টের ঔরঙ্গাবাদ বেঞ্চ। হাইকোর্টের বক্তব্য, টিভি দেখতে না দেওয়া, শতরঞ্চিতে ঘুমোতে বাধ্য করা বা একা বাড়ির বাইরে যেতে না দেওয়ার মতো বিষয়কে ‘নিষ্ঠুরতা’ বলা যায় না। আইন অনুযায়ী, এধরনের কোনও অভিযোগই গুরুতর নয় বলেও মনে করছে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ওই চারজনকে বেকসুর খালাস দিয়েছে আদালত।
Advertisement
২০০২ সালে মহারাষ্ট্রের ভারানগাঁওয়ে ওই বধূর বিয়ে হয়। তারপর থেকেই তাঁর উপর অত্যাচার করা হত বলে বধূর বাপের বাড়ির অভিযোগ। ২০০৩ সালের মে মাসে ওই বধূ আত্মহত্যা করেন। বধূর পরিবারের দাবি, খাবার নিয়ে মৃতাকে কটূক্তি করা হত, প্রতিবেশীদের সঙ্গে তাঁকে কথা বলতে দেওয়া হত না। গভীর রাতে তাঁকে জল আনতে পাঠানো হত। পাশাপাশি টিভি দেখতে না দেওয়ার মতো অভিযোগও তোলা হয়। এসবের জেরেই ওই বধূ আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। বধূ নির্যাতন ও আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে ২০০৪ সালে জলগাঁওয়ের আদালত চারজনকে দোষী সাব্যস্ত করে। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন অভিযুক্তরা।
হাইকোর্টে বিচারপতি অভয় এস ওয়াঘওয়াসের সিঙ্গল বেঞ্চ ১৭ অক্টোবরের রায়ে জানায়, কাউকে শতরঞ্চিতে ঘুমোতে বললে বিষয়টিকে নিষ্ঠুরতা বলা যায় না। এছাড়া রান্না নিয়ে কটূক্তি ও অন্যান্য যে সব অভিযোগ তোলা হয়েছে, তার স্পষ্ট কোনও প্রমাণ নেই। এছাড়া মৃতার মা ও অন্যান্য আত্মীয়ারই জানিয়েছেন, ওই বধূকে তাঁদের মানসিক বা শারীরিক অত্যাচার বা আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়া হচ্ছে বলে কোনও কথা জানাননি। গভীর রাতে জল আনতে পাঠানোর প্রসঙ্গে হাইকোর্ট জানিয়েছে, একাধিক সাক্ষীর বয়ান অনুসারে ওই সময় ভারানগাঁও গ্রামে গভীর রাতেই জল সরবরাহ করা হত। গ্রামের প্রত্যেক বাসিন্দাই রাত দেড়টার সময় উঠে জল সংগ্রহ করতেন। এতে অস্বাভাবিক কিছু নেই।
হাইকোর্টে বিচারপতি অভয় এস ওয়াঘওয়াসের সিঙ্গল বেঞ্চ ১৭ অক্টোবরের রায়ে জানায়, কাউকে শতরঞ্চিতে ঘুমোতে বললে বিষয়টিকে নিষ্ঠুরতা বলা যায় না। এছাড়া রান্না নিয়ে কটূক্তি ও অন্যান্য যে সব অভিযোগ তোলা হয়েছে, তার স্পষ্ট কোনও প্রমাণ নেই। এছাড়া মৃতার মা ও অন্যান্য আত্মীয়ারই জানিয়েছেন, ওই বধূকে তাঁদের মানসিক বা শারীরিক অত্যাচার বা আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়া হচ্ছে বলে কোনও কথা জানাননি। গভীর রাতে জল আনতে পাঠানোর প্রসঙ্গে হাইকোর্ট জানিয়েছে, একাধিক সাক্ষীর বয়ান অনুসারে ওই সময় ভারানগাঁও গ্রামে গভীর রাতেই জল সরবরাহ করা হত। গ্রামের প্রত্যেক বাসিন্দাই রাত দেড়টার সময় উঠে জল সংগ্রহ করতেন। এতে অস্বাভাবিক কিছু নেই।



