বলরাম দত্তবণিক, রামপুরহাট: দেশের জাতীয় পতাকার তিন রং-গেরুয়া, সাদা ও সবুজ। মাঝখানে থাকা নীল অশোক চক্র আমাদের সার্বিক সার্বভৌমত্ব ও ত্যাগের প্রতীক। ৮০তম স্বাধীনতা দিবসে বীরভূমের ঐতিহ্যবাহী তারাপীঠ মন্দির চত্বর সেজে উঠেছে তেরঙা আলোকসজ্জায়। গত বছরের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এবারও স্বাধীনতা দিবসের বিশেষ সন্ধ্যায় আলোর মাধ্যমে জাতীয় পতাকার রং ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে তারাপীঠ মন্দিরের চূড়ায়। মূল মন্দির থেকে শুরু করে মন্দির চত্বরের চারপাশে দেখা যাচ্ছে তেরঙ্গা আলোর ছটা। মন্দির কমিটির সভাপতি নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, স্বাধীনতার শুভ দিনটিকে মানুষের হৃদয়ে আরও স্মরণীয় ও আকর্ষণীয় করে তুলতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আলোকসজ্জা তারাপীঠে আসা পর্যটকদের কাছে যেমন আকর্ষণীয় হবে, তেমনই দেশাত্মবোধ ও জাতীয়তাবোধ আরও গভীর হবে। স্বাধীনতার জন্য যাঁরা আত্মবলিদান দিয়েছেন, সেই বীর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর এটি এক অন্যতম প্রয়াস। শুধু মন্দির নয়, হোটেলগুলির দেওয়ালও তেরঙ্গা আলোকে সেজে উঠেছে।
এবারের স্বাধীনতা দিবস শনিবারে পড়ার কারণে উৎসবের মাত্রা দ্বিগুণ হয়ে উঠেছে। জ্যোতিষ শাস্ত্রীয় ও ধর্মীয় কারণে এমনিতেই প্রতি শনিবারে তারাপীঠে ভক্তদের ব্যাপক সমাগম ঘটে। তার উপর স্বাধীনতা দিবসের পরদিন রবিবার ছুটি থাকায়, শুক্রবার রাত থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পুণ্যার্থী ও পর্যটকদের ঢল নামতে শুরু করেছে বামাখ্যাপার এই সিদ্ধপীঠে। কেবল দৃষ্টিনন্দন আলোকসজ্জাই নয়, এই বিশেষ দিনটি উপলক্ষে মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে ভক্তদের জন্য বিশেষ অন্নভোগের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নিখিলবাবু।
পাশাপাশি, টানা ছুটি থাকায় ভিড় সামলাতে এবং যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মন্দির কমিটির নিরাপত্তারক্ষী ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কড়া নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী। সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে।
মহাশ্মশান ও সিদ্ধপীঠ তারাপীঠ আজ যেন ভক্তিবাদ ও দেশপ্রেমের এক অপূর্ব মিলনক্ষেত্র। সব মিলিয়ে, জয় তারা ধ্বনির পাশাপাশি বন্দেমাতরম ও ‘ভারত মাতা কি জয়’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠছে বামাখ্যাপার এই ঐতিহাসিক সাধনক্ষেত্র।