Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিধায়ক তহবিলের অর্থে তন্ময় ঘোষের ১২৪ প্রকল্পের কাজ

বিধায়ক তহবিলের টাকায় শহর ও গ্রামের উন্নয়নের পাশাপাশি বিষ্ণুপুরের বিধায়ক তন্ময় ঘোষ পর্যটন পরিকাঠামো গড়ে তুলতে খরচ করেছেন

বিধায়ক তহবিলের অর্থে তন্ময় ঘোষের ১২৪ প্রকল্পের কাজ
  • ২৭ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

উজ্জ্বল পাল, বিষ্ণুপুর: বিধায়ক তহবিলের টাকায় শহর ও গ্রামের উন্নয়নের পাশাপাশি বিষ্ণুপুরের বিধায়ক তন্ময় ঘোষ পর্যটন পরিকাঠামো গড়ে তুলতে খরচ করেছেন। তিনি গত পাঁচ বছরে প্রায় ১০০ শতাংশ টাকা খরচ করে ফেলেছেন। যা এবারের ভোটে অনেকটাই প্রভাব পড়বে বলে তন্ময়বাবুর দাবি। যদিও গত পাঁচ বছরে বিষ্ণুপুরের উন্নয়ন যথার্থ হয়নি বলে বিরোধীদের দাবি। 

Advertisement

তন্ময়বাবু বলেন, গত পাঁচ বছরে বিষ্ণুপুর বিধানসভা এলাকায় মোট ১২৪টি প্রকল্পের কাজ করেছি। তাতে খরচ হয়েছে ৩কোটি ২৯লক্ষ ১১হাজার ৩১৪টাকা।  উক্ত টাকায় কমিউনিটি শেড, সাংস্কৃতিক মঞ্চ থেকে আরম্ভ করে মনীষীদের মূর্তিস্থাপন, হাইমাস্ট লাইট, পানীয় জল প্রকল্প, রাস্তা, শ্মশানযাত্রী প্রতীক্ষালয় প্রভৃতি উন্নয়নমূলক কাজ করেছি। পাশাপাশি বিষ্ণুপুরের ঐতিহাসিক লালবাঁধের পাড় সৌন্দর্যায়নেও টাকা দেওয়া হয়েছে। শুধু আমার এলাকা উন্নয়ন তহবিলই নয়, রাজ্য সরকারের বিভিন্ন স্কিম এনেও একাধিক উন্নয়নমূলক কাজ করানো হয়েছে। খেলার উন্নয়নে বিষ্ণুপুর স্টেডিয়ামকে ঢেলে সাজানো হয়েছে। সেখানে নতুন ইন্ডোর ব্যাডমিন্টন কোর্ট তৈরি করা হয়েছে।  তাই এবারের ভোটে বিষ্ণুপুরের মানুষ উন্নয়নেই পক্ষেই রায় দেবে।
বিষ্ণুপুরের বিজেপি প্রার্থী শুক্লা চট্টোপাধ্যায় বলেন, গত পাঁচ বছরে বিষ্ণুপুরে কিছু রাস্তা আর মন্দিরের চালা তৈরি হয়েছে। বিষ্ণুপুরে যথার্থ উন্নয়ন চোখে পড়েনি। ডবল ইঞ্জিন সরকার হলে তবেই প্রকৃত উন্নয়ন হবে।  
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, গত পাঁচ বছরে তন্ময়বাবু অন্যান্য বিধায়কদের মতো ৩কোটি ৩০লক্ষ টাকা পেয়েছিলেন। তার মধ্যে ৩কোটি ২৯লক্ষ  ১১হাজার ৩১৪টাকা খরচ হয়েছে। তিনি মোট ১২৪টি প্রকল্পের প্রস্তাব জেলা পরিকল্পনা বিভাগে জমা দিয়েছিলেন। সবগুলিই বাস্তবায়িত হয়েছে। তবে সিংহভাগ প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে। কিছু প্রকল্পের কাজ চলছে বলে আধিকারিকরা জানিয়েছেন।  
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তন্ময়বাবু দীর্ঘদিনের তৃণমূল কাউন্সিলার ছিলেন। ২০২১সালে দল তাঁকে প্রার্থী না করায় বিজেপির টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হন। যদিও তিন মাসের মধ্যে তিনি তৃণমূলে ফিরে আসেন।  বিধায়ক হিসাবে বিষ্ণুপুরে তন্ময়বাবুর জনপ্রিয়তা রয়েছে। রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে বিষ্ণুপুরের সকল স্তরের মানুষের প্রয়োজনে এগিয়ে এসেছেন। ব্যক্তিগত প্রয়োজনে বিরোধী দলের কেউ তাঁর কাছে এলে তিনি ফিরিয়ে দেননি। প্রতিদিনই সন্ধ্যার পর তাঁকে কলেজ রোডে তাঁর বিধায়ক অফিসে বিভিন্ন প্রয়োজনে মানুষজন ভিড় জমান। ফোনেও তাঁকে সর্বদা পাওয়া যায়। কোনো সময় ব্যস্ত থাকলে তিনি পরে তাঁকে ঘুরিয়ে ফোন করেন। তাঁর সারল্য স্বভাবের কারণে অনেকেই ব্যক্তিগতভাবে তাঁকে খুবই পছন্দ করেন। ২০২৪সালে লোকসভা ভোটের প্রচারে এসে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীও তাঁর সারল্যের প্রশংসা করেছিলেন। যা ভোটের বাক্সে প্রভাব পড়বে বলে রাজনৈতিকমহলের একাংশ মনে করছে। যদিও এব্যাপারে বিরোধীরা তাঁকে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি। বিজেপি প্রার্থী বলেন, তন্ময়বাবু কেবল তাঁর দলের লোকজনের সঙ্গেই সদ্ভাব বজায় রেখেছেন। সাধারণ মানুষ তাঁর দেখা পাননি।    

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ