অমিত চৌধুরী, জঙ্গিপাড়া: জঙ্গিপাড়ার দিলাকাশ ভাণ্ডারহাটী গ্রামের প্রাচীন কালী সিদ্ধেশ্বরীকে ঘিরে রয়েছে একাধিক অলৌকিক ঘটনা। সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দির বহু প্রাচীন। ভক্তদের বিশ্বাস, দেবী কাউকে খালি হাতে ফেরান না। মন্দির প্রতিষ্ঠার কোনো লিখিত ইতিহাস নেই। তবে শোনা যায় তা বহু বছরের পুরানো। আগে কাঠের মূর্তি ছিল (নিম ও বকুল)। তা পরবর্তীকালে নষ্ট হয়ে যায়। তখন কালীঘাটের এক মহিলা ভক্ত ১৩৮০ বঙ্গাব্দে কষ্টিপাথরের মূর্তি তৈরি করে দেন। আগে টিনের ঘর ছিল। পরে গ্রামের সকলে মিলে বর্তমান মন্দিরটি নির্মাণ করেন। পঞ্চমুণ্ডির আসনের উপরে অধিষ্ঠিত দেবী। দীপান্বিতা অমাবস্যার পাশাপাশি ফাল্গুন ও আষাঢ় মাসে এখানে বিশেষ পুজো হয়।
মন্দিরের সেবায়েত তপন চক্রবর্তী কয়েকটি অলৌকিক ঘটনার অবতারণা করেছেন। বলেছেন, ‘আমি তখন ছোটো। এক রাতে মন্দিরের সামনে মাঝখানে মশারি টাঙিয়ে শুয়ে। তখন মন্দিরের জায়গায় টিনের লাট বাংলো ছিল। তাই শোওয়ার সময় বাবা নিষেধ করেছিলেন মাঝখানে শুতে। কিন্তু সে কথা শুনিনি। মাঝরাতে কালী মশারি সমেত টেনে একপাশে ফেলে দিয়েছিলেন। দেবী মধ্যরাতে মন্দির থেকে বেরিয়ে সোজা পথে পুকুরের দিকে যান। ঠিক একইরকম ঘটনা পরিবারের এক ছেলের ক্ষেত্রেও ঘটেছিল। ফাল্গুন মাসে কালীপুজোর সময় সেও মন্দিরের উপরে গিয়ে বসেছিল। একসময় টিনের চাল থেকে গড়িয়ে নীচে হাড়িকাঠের কাছে পড়ে যায়। কালীপুজোর রাতে দেবীর কিছু ওষুধপত্র পাওয়া যায় যা বিভিন্ন কাজে লাগে। মায়ের ফুল কবজ হিসাবে ধারণ করলে উপকার হয়। এই ঠাকুরের পুজোয় অন্য কেউ পুজোর স্থানে বসতে পারেন না। সেবায়েতরাই পুজো করেন। অন্য কেউ পুজোর দায়িত্ব নিতে গেলে নানা সমস্যা বা বিপত্তি দেখা দেয়। কোনো এক তান্ত্রিক পুজো করতে গিয়েছিলেন। পুজোর সময় অলৌকিক ঘটনা ঘটায় তিনি মন্দির ছেড়ে মাঠ দিয়ে ছুটতে থাকেন।
বর্তমানে ৫ জন সেবায়েত আছেন। ট্রাস্টি বোর্ড ও কমিটি গঠন হয়েছে। ফাল্গুন মাসের প্রথম শনিবার মায়ের অন্নকূট ও যজ্ঞ হয়। আষাঢ় মাসের ২ তারিখ থেকে ভাগবত পাঠ শুরু এবং সমাপ্তি ৮ তারিখে। আষাঢ়ের ৯ তারিখ গ্রাম পরিক্রমা, রাতে গান ও ভোরবেলা অধিবাসের মাধ্যমে অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। আষাঢ় মাসের ১৩ তারিখ ভোগ এবং ১৪ তারিখ বিশেষ অনুষ্ঠান। প্রতিবছর ভক্ত সমাগম হয়। নিজস্ব চিত্র



