সন্দীপন দত্ত, মালদহ: স্বাস্থ্যদপ্তরের সমস্ত প্রকল্পের পোর্টাল যুক্ত হচ্ছে কেন্দ্রের সঙ্গে। ওই পোর্টালগুলিতে গ্রাম, শহরের প্রতিদিনের রিপোর্ট আপলোড করতে হয় হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্টদের। অথচ মালদহ জেলার গ্রামাঞ্চলে প্রায় চারশো হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্টের সরকারি ট্যাব কার্যত অকেজো। এই অবস্থায় পোর্টালে নিয়মিত তথ্য আপলোড হবে কী করে, চিন্তায় পড়েছেন স্বাস্থ্যকর্তারা। অভিযোগ,পূর্বতন রাজ্য সরকারের কাছে এনিয়ে বহুবার রিপোর্ট পাঠানো হলেও ট্যাব বদল করা হয়নি।
শীঘ্রই স্বাস্থ্যদপ্তরের প্রায় সমস্ত পোর্টাল বন্ধ হয়ে যাবে। সবকিছু চলে যাবে কেন্দ্রীয় সরকারের পোর্টালে। এর ফলে আগের তুলনায় অনেক বেশি এবং খুব সহজেই ফান্ড পাওয়া যাবে বলে আশাবাদী স্বাস্থ্যকর্তারা। কিন্তু সমস্যা অন্য জায়গায়। ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, মা-সন্তানের শারীরিক অবস্থা, টিবি থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যদপ্তরের বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে একাধিক নির্দিষ্ট পোর্টাল রয়েছে। যেখানে নিয়মিত সংশ্লিষ্ট এলাকার এই সংক্রান্ত তথ্য আপলোড করতে হয়। এর জন্য গ্রামাঞ্চলের প্রত্যেক ‘হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট দিদি’কে একটা করে ট্যাব দেওয়া হয়েছিল।
স্বাস্থ্যদপ্তরের এক পদস্থ কর্তা বলেন,দপ্তরের মূলত দু’টি কাজ। প্রথমত, রোগ হলে চিকিৎসা করা। এর সঙ্গে রয়েছে রোগ প্রতিরোধ করা। এর জন্য শহরাঞ্চলে ‘আর্বান হেলথ অ্যান্ড ওয়েলনেস সেন্টার’ এবং গ্রামাঞ্চলে ‘আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দির’ বা সাবসেন্টার আছে।
তিনি আরও জানান, মালদহ জেলার ১৪৭টি গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রায় ৪৩০টি আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দির রয়েছে। যেখানে একজন করে সিএইচও বা কমিউনিটি হেলথ অফিসার, তাঁর অধীনে একজন হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট এবং একজন করে আশাকর্মী থাকেন। আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দিরের কাজ হল মানুষের রোগ প্রতিরোধের জন্য নিরন্তর চেষ্টা এবং সেই তথ্য সরকারি পোর্টালে আপলোড করা।
আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দিরে কাউন্সেলিং, যোগব্যায়াম সহ ১৩টি বিষয়ে কাজ করা হয়। একই সঙ্গে ওই এলাকায় রোগের প্রাদুর্ভাব এবং তার প্রতিরোধের কী ব্যবস্থা হয়েছে, সেই তথ্য নিয়মিত পোর্টালে আপলোড করার জন্য সিএইচওদের একটা করে ল্যাপটপ এবং হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট দিদিদের ট্যাব দেওয়া হয়। কিন্তু সেগুলি খারাপ হওয়ায় তথ্য হাতে লিখে জমা দিতে হচ্ছে। যা বিশ্লেষণ করতে অনেক বেশি সময় লেগে যাচ্ছে দপ্তরের। সময়মতো নেওয়া যাচ্ছে না প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। বর্ষা দোরগোড়ায় চলে আসায় চিন্তা বেড়েছে কয়েক গুণ।
স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে খবর, মালদহের প্রায় সাড়ে চারশো আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দিরেই ট্যাব খারাপ হয়ে গিয়েছে। পূর্বতন সরকারের সময়ে যা নিয়ে বারবার অভিযোগ জানিয়েও সমাধান হয়নি।
আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দিরের সবথেকে বড় কাজই হল টেলি মেডিসিন। যার মাধ্যমে জেলা অথবা রাজ্যের চিকিৎসকদের সঙ্গে রোগীর সরাসরি যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু একটা জেলায় যদি ৪৩০টি সেন্টারের প্রায় চারশো ট্যাব খারাপ থাকে, তাহলে গ্রামাঞ্চলে রোগ প্রতিরোধ বা চিকিত্সা হবে কী করে? সেই প্রশ্নই ভাবাচ্ছে স্বাস্থ্যকর্তাদের।