Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সিন্ডিকেট কারবারিরা ব্যাকফুটে সীমান্তে বন্ধ গোরুপাচার

কুরবানি ঈদের আগে প্রতিদিনই শ’য়ে শ’য়ে গোরু সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে চলে যেত। রাতের অন্ধকারে নদী দিয়ে গোরু পাচার চলত সর্বত্র।

সিন্ডিকেট কারবারিরা ব্যাকফুটে সীমান্তে বন্ধ গোরুপাচার
  • ২০ মে, ২০২৬ ১৬:০৫
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: কুরবানি ঈদের আগে প্রতিদিনই শ’য়ে শ’য়ে গোরু সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে চলে যেত। রাতের অন্ধকারে নদী দিয়ে গোরু পাচার চলত সর্বত্র। মুর্শিদাবাদ জেলার সাগরপাড়া, জলঙ্গি, রানিনগর, রানিতলা, লালগোলা, সুতি, সামশেরগঞ্জের সীমান্তবর্তী এলাকায় কাঁটাতার নেই। মুর্শিদাবাদ জেলা বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘ ১২৫.৩৫ কিলোমিটার আন্তর্জাতিক সীমান্ত ভাগ করে। এর মধ্যে ৪২.৩৫ কিলোমিটার স্থলসীমান্ত এবং বাকি অংশ নদী। পদ্মা দ্বারা বিভাজিত এই অংশ খুবই স্পর্শকাতর। স্থলভূমি ও নদী— কোথাও কাঁটাতারের বেড়া নেই। মুর্শিদাবাবদের পূর্বে বাংলাদেশের রাজশাহী। পদ্মা নদী এখানে সীমান্ত বিভাজিকা হিসাবে কাজ করে। এছাড়া জেলার প্রায় ৭১ কিমি অংশে জমিজট বা নদীপথের কারণে কাঁটাতারের বেড়া পুরোপুরি দেওয়া সম্ভব হয়নি। এই উন্মুক্ত অংশ দিয়েই অবাধে অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান ঘটে। প্রতিবছর কুরবানির ঈদের ১০-১২ দিন আগে থেকে লাগাতার গবাদি পশু পাঠানো হয় বাংলাদেশে। গোরু পাচার করে লক্ষ লক্ষ টাকা মুনাফা করত চোরা কারবারিরা।

Advertisement

কিন্তু রাজ্যে পালাবদলের পরই সীমান্ত এলাকায় বন্ধ গোরু পাচার। বিএসএফ কড়া নজরদারি চালাচ্ছে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী থানাগুলিতেও পুলিশ সজাগ। এক সময়ে যে পুলিশের মদতে সক্রিয়ভাবে গোরু পাচার চলত, এখন সেই পুলিশই গোরু পাচারে রাশ টানতে মাঠে নেমেছে। যার ফলে সীমান্ত এলাকায় বন্ধ পাচার। একসময় বাইরে থেকে গোরু এনে সীমান্তের গ্রামগুলিতে বিভিন্ন চাষের জমিতে বেঁধে রাখা হত। স্থানীয়দের অমত থাকলেও তাদের ফসলের জমির উপর দিয়েই গোরুর পাল সীমান্তের দিকে হাঁটিয়ে নিয়ে যাওয়া হতো। যার ফলে প্রচুর টাকার ফসলের ক্ষতি হতো। দাপুটে এইসব চোরা কারবারিদের ভয়ে সিঁটিয়ে থাকতেন গ্রামবাসীরা। এখন কোথাও চোরা কারবার দেখলে গ্রামবাসীরাই পুলিশকে খবর দিচ্ছে। 
তবে বিএসএফ এবং পুলিশের দাবি, ধারাবাহিকভাবে গোরু পাচার গত কয়েক বছর ধরেই বন্ধ। তবে বেশকিছু অসাধু ব্যবসায়ী অল্প সংখ্যক গোরু এনে সেগুলি পালন করার নাম করে সীমান্ত লাগোয়া গ্রামে রেখে দিত। তারপর সেখান থেকেই ওপার বাংলায় পাচার করে দিত। এক একটি গোরু ৩০-৪০ হাজার টাকা দামে কিনে ওপার বাংলায় বিক্রি করত প্রায় লক্ষাধিক টাকায়। প্রতিদিন দু’-তিনটি করে গোরু পাঠাতে পারলে লক্ষাধিক টাকা উপার্জন হতো। এই কাজ করার জন্য স্থানীয় কিশোর এবং যুবকদের নামিয়ে দিত কারবারিরা। যে কারণে গ্রামবাসীরা খুব একটা মুখ খুলত না। তবে এবার খোলা সীমান্ত দিয়েও সম্পূর্ণভাবে গোরু পাচার বন্ধ রয়েছে। ঈদের আগে একটিও গোরু ওপারে পাচার করা যাচ্ছে না। বাংলাদেশে একটা বিপুল পরিমাণে গোরুর চাহিদা মেটায় এবারের এই খোলা সীমান্তের বিভিন্ন গ্রাম। স্বাভাবিকভাবে এবার গোরু না পেয়ে হতাশ ওপারের অসাধু ব্যবসায়ীরাও।-ফাইল চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ