


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: বাংলাভাষী হওয়ায় বাংলাদেশি সন্দেহে আটক করা হয়েছিল। ‘পুশব্যাক’ করে পাঠানোও হয়েছিল বাংলাদেশে। কিন্তু এখন ঢোঁক গিলছে মোদি সরকার। বীরভূমের সোনালি খাতুন, সুইটি বিবি সহ তাদের পরিবারকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিয়ে এখন ভারতে ফেরত আনার কথাই শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে জানাল কেন্দ্র। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে মানবিকতার খাতিরে গত ডিসেম্বরে অন্তস্বত্ত্বা সোনালি বিবি এবং তাঁর আট বছরের ছেলে সাবিরকে ভারতে ফেরত এনেছে মোদি সরকার। এবার বাকিদের। আগামী ৮-১০ দিনের মধ্যে বাকি চারজনকে ফেরৎ আনতে চাই বলেই এদিন শীর্ষ আদালতে জানিয়ে দিলেন কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা।
দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির বেঞ্চে ছিল মামলার শুনানি। সেখানেই তুষার মেহতা জানান, আমাদের কাছে সরকারের পক্ষে নির্দেশ আছে যে আগে ওদের ফেরত আনা হবে। তারপর নাগরিকত্ব সম্পর্কে তথ্য যাচাই করে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সেই মতো আপাতত ফেরত আনতে চাই। বাংলাদেশে আটকে থাকা সোনালির স্বামী দানিশ শেখ এবং আর এক বাঙালি সুইটি বিবি এবং তার দুই ছেলে কুরবান ও ইমান শেখকে ফেরত আনা হবে। ২০২৫ সালের ২৬ জুন থেকে তাঁরা বাংলাদেশে আটকে। দিল্লির রোহিনী এলাকায় পরিচারিকার কাজ করা এই বাঙালিদের বাংলাদেশি সন্দেহে গত বছর ২১ জুন আটক করা হয়েছিল।
সুপ্রিম কোর্টে কেন্দ্রের এই ঢোঁক গেলা অবস্থান দেখে আবেদনকারী ভদু শেখের (সোনালি খাতুনের বাবা) পরিবার অত্যন্ত খুশি। আদতে তাঁদের অবস্থানই কেন্দ্রকে সুপ্রিম কোর্টে মানতে হল বলেই জানান ভদু শেখের আইনজীবী সৌম্য দত্ত। ১৩ জুলাই পরবর্তী শুনানি হবে। খুশি সোনালি বিবি, সুইটির মা লাজিনা বিবি ও বাবা সইদুল শেখ। এই জটিল মামলা অবশেষে ইতিবাচক মোড় নিচ্ছে বলে মনে করছেন রাজ্যসভার সদস্য সামিরুল ইসলাম।