নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও সংবাদদাতা: দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশনের (ডিভিসি) দুর্গাপুর জলাধার থেকে ছাড়া জলে প্লাবিত হল হাওড়া ও হুগলি জেলার বিস্তীর্ণ অংশ। ডিভিসি’র ছাড়া জলে বানভাসি হয়েছেন বাঁকুড়ার সোনামুখী ব্লকের একটা বড়ো অংশের মানুষ। অপরদিকে ফরাক্কা ব্যারেজের ছাড়া জলে মালদহের মানিকচক ও ভুতনি চরে বড়োসড়ো বিপত্তি তৈরি হয়েছে। এরই পাশাপাশি মুর্শিদাবাদের বড়ঞা, বীরভূমের লাভপুর ও পশ্চিম মেদিনীপুরের সবং ব্লকের বেশ কয়েকটি এলাকা নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। লাভপুবে কূয়ে নদীর খানপুর মিনি ব্যারেজের কাছে এক্স-জমিদারি বাঁধের কিছুটা অংশ ধসে গিয়েছে। তবে মালদহে গঙ্গরা জলস্তর বিপদসীমার .৫০ মিটার উপর দিয়ে বইতে শুরু করায় মানিকচক ও রতুয়া-১ নম্বর ব্লকের বাসিন্দাদের চিন্তা বেড়েছে। ইতিমধ্যেই মানিকচক এবং রতুয়া-১ নম্বর ব্লকের মোট ২৮টি গ্রাম বিপর্যস্ত। সেচদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন ডিভিসির দুর্গাপুর ব্যারেজ থেকে ১ লক্ষ ১৯ হাজার ৬২৫ কিউসেক এবং ফরাক্কা ব্যারেজ থেকে ১ লক্ষ ৩০ হাজার ৪৪১ কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে। জল ছাড়ার পরিমাণ আরও কমানো হবে বলে ডিভিসি সূত্রে জানা গিয়েছে।
রাজ্যের প্লাবন পরিস্থিতি নিয়ে শুক্রবার জলসম্পদ ভবনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে সবচেয়ে উদ্বেগ রয়েছে মানিকচককে ঘিরে। গঙ্গার জলস্তর বিপদসীমা ছাড়িয়েছে। ১৯টি গ্রাম প্লাবিত। দুর্গতদের আটটি ফ্লাড শেল্টারে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। শুভেন্দু বলেন, মালদহ-মুর্শিদাবাদের ভাঙণ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কাজ শুরু করেছি আমরা। বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে কানপুর আইআইটি’র পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে। এ কাজে বিহারকেও যুক্ত করা হচ্ছে। অর্থ কীভাবে জোগাড় করা যায়, তা নিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে কথাবার্তা চলছে। বড়ো পরিকল্পনা করে কাজটা হবে। যার ফল পেতে বছর দু’য়েক লাগবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ডিভিসির ছাড়া জলে হাওড়ার আমতা-উদয়নারায়ণপুর, গ্রামীণ হুগলির জাঙ্গিপাড়া, খানাকুল, গোঘাটের বিস্তীর্ণ অংশ প্লাবিত হয়েছে। তবে বৃষ্টি বন্ধ হওয়ায় আর বড়ো বিপত্তির সম্ভাবনা কম। তবে যে সমস্ত এলাকা প্লাবিত হয়েছে, সেখানে জলবন্দি মানুষের জন্য সবরকম সাহায্যের ব্যবস্থা করা হয়েছে। খাবার ও পানীয় জল পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। ত্রিপল সহ অন্যান্য ত্রাণ সামগ্রীর পর্যাপ্ত আয়োজন রয়েছে। স্থানীয় হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে সাপের কামড়ের ওষুধ অ্যান্টি ভেনাম সিরাম মজুত রাখা হয়েছে। নৌকো, ডুবুরি নিয়ে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। এদিন দুর্গত জেলাগুলির জেলাশাসকদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি বৈঠক করে প্রয়োজনীয় নির্দেশও দেন মুখ্যমন্ত্রী। নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, কাল, রবিবার বন্যা প্লাবিত খানাকুল পরিদর্শনে যাবেন সেচমন্ত্রী অরূপ দাস।