


সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: চৈত্র মাসের তপ্ত রোদ উপেক্ষা করেই প্রচারের পারদ চড়ছে সূতিতে। বুধবার সকাল থেকেই একবারে কোমর বেঁধে ময়দানে নেমে পড়েন সূতির তৃণমূল প্রার্থী ইমানি বিশ্বাস। তবে রাজনীতির রুক্ষ লড়াইয়ে নামার আগে এদিন তিনি ফিরে গিয়েছিলেন শিকড়ের টানে। মঙ্গলবার বিকেলে দলীয় ভাবে তাঁর প্রার্থীপদ ঘোষণা হতেই বৃদ্ধা মায়ের পা ছুঁয়ে আশীর্বাদ নিয়েই শুরু করেন নির্বাচনী পরিক্রমা। দলের কর্মী ও অনুগামীরা উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন। তাঁদের নিয়ে প্রচারে নামেন ইমানি। এরপর বুধবার সকাল থেকেই প্রচারে বেরিয়ে পড়েন। এদিন কর্মী, সমর্থকদের নিয়ে পায়ে হেঁটেই প্রচার সারেন। সাধারণ মানুষের সঙ্গে করমর্দন আবার কোথাও কড়জোরে নমস্কার করে করতে থাকেন জন সংযোগ।
এদিন জগতাই ১ নম্বর অঞ্চলের অলি-গলিতে পায়ে হেঁটেই ঘোরেন ইমানী। কখনও আবেগে প্রবীণ মানুষদের জড়িয়ে ধরছেন, তো কখনও আবার পাড়ার চায়ের দোকানে বসে দিচ্ছেন আড্ডা। ইমানী বিশ্বাস বলেন, মায়ের আশীর্বাদই আমার রক্ষাকবচ। আর মানুষের ভালোবাসাই জয়ের চাবিকাঠি। তৃণমূলের এই পায়ে হাঁটা প্রচারে এদিন গ্রামের মেঠো রাস্তায় কর্মী-সমর্থকদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। উন্নয়নের খতিয়ান সাধারণ মানুষের দুয়ারে পৌঁছে দেওয়াই ছিল তাঁদের মূল লক্ষ্য।
অন্যদিকে, প্রচারের লড়াইয়ে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে নারাজ পদ্ম শিবিরও। বিজেপি প্রার্থী মহাবীর ঘোষ এদিন প্রচারের সুর বেঁধে দিলেন রণকৌশল দিয়ে। নিছক জনসংযোগ নয়, বরং বুথস্তরে সংগঠনকে মজবুত করতে এদিন তিনি মানিকপুর, দফাহাট, ধলায় জনসংযোগ যাত্রা ও বৈঠক করেন।
বিজেপি শিবিরের দাবি, জনসংযোগের পাশাপাশি বুথ আগলানোর প্রস্তুতিতেও গেরুয়া নেতারা সমান জোর দিচ্ছেন। জঙ্গিপুর সাংগঠনিক জেলা বিজেপি সভাপতি সুবলচন্দ্র ঘোষ বলেন, কর্মীরাই আমাদের শক্তি। তিনটি মণ্ডলের কার্যকর্তাদের নিয়ে পরিকল্পনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে পুরোপুরি ভাবে প্রচারে ঝাঁপাবে দল। জয়ের প্রশ্নে আমরা নিশ্চিত।
সব মিলিয়ে, বুধবারের সূতিতে একদিকে যখন ইমানীর আবেগ ও পায়ে হাঁটা প্রচার তুঙ্গে ছিল ঠিক তখনই মহাবীরের বৈঠক ও রণনীতি গেরুয়া শিবিরে নতুন অক্সিজেন জোগাচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই ভোটের লড়াইতে সূতির মাটি যে এখন থেকেই তপ্ত, তা বলাই বাহুল্য।