Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শুশুনিয়ায় অগ্নিকাণ্ডের পিছনে কি মাফিয়ারাই?

শুশুনিয়া পাহাড়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কাঠ ও পাথর মাফিয়ারা জড়িত থাকতে পারে বলে স্থানীয়দের একাংশ মনে করছেন

শুশুনিয়ায় অগ্নিকাণ্ডের পিছনে কি মাফিয়ারাই?
  • ৯ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: শুশুনিয়া পাহাড়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কাঠ ও পাথর মাফিয়ারা জড়িত থাকতে পারে বলে স্থানীয়দের একাংশ মনে করছেন। কারণ দীর্ঘদিন ধরেই শুশুনিয়া পাহাড়ের পাথর পাচারে মাফিয়াদের সক্রিয়তা রয়েছে। পাশাপাশি জঙ্গলের কাঠও পাচার করা হয় বলে অভিযোগ। ফলে আগুন লাগিয়ে ঝোপ-জঙ্গল সাফ করতে পারলে মাফিয়াদের পক্ষে পাচার সহজ হবে বলে বাসিন্দারা মনে করছেন। বিষয়টি নিয়ে বনদপ্তরের পাশাপাশি জেলা প্রশাসনেরও তদন্ত করা প্রয়োজন বলে স্থানীয়রা দাবি তুলেছেন। 

Advertisement

এব্যাপারে বাঁকুড়ার জেলাশাসক সিয়াদ এন বলেন, শুশুনিয়া পাহাড়ে আগুন লাগার পর থেকে আমি টানা পরিস্থিতির উপর নজর রেখেছিলাম। বিষয়টি নিয়ে মুখ্য বনপালের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। উদ্যোগ নিয়ে দমকলের ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছিলাম। আগুন লাগার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর পিছনে কারও হাত থাকলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 
বনদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনাই আমাদের প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল। শুক্রবার তা নিভে গিয়েছে। কীভাবে আগুন লাগল তা জানার চেষ্টা চলছে। কাঠ ও পাথর পাচারের অভিযোগ পেলে তদন্ত করা হবে। বনদপ্তরের জায়গায় থাকা যে কোনও সম্পদ সরকারি সম্পত্তি। তা কেউ ইচ্ছামতো নিয়ে যেতে পারে না। 
উল্লেখ্য, ছাতনা ব্লকে থাকা শুশুনিয়া পাহাড় বাঁকুড়ার অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র। ছোটনাগপুর মালভূমির শেষ প্রান্তে থাকা ওই টিলা জীববৈচিত্র্যে ভরপুর। বিহারীনাথের মতো শুশুনিয়ার পাদদেশকেও অনেকে দাক্ষিণাত্যের আরাকু ভ্যালির সঙ্গে তুলনা করেন। ফলে ওই এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য পর্যটকদের বারবার হাতছানি দেয়। ফলে প্রশাসন ও বনদপ্তরের তরফেও শুশুনিয়ার উপর বাড়তি নজর দেওয়া হয়। তবে এবারের অগ্নিকাণ্ড সকলে নাড়িয়ে দিয়েছে। শেষ কবে ওই পাহাড়ে দাবানল লক্ষ্য করা গিয়েছে তা আশপাশের গ্রামের বাসিন্দারা মনে করতে পারছেন না। তবে অগ্নিকাণ্ডের পিছনে মাফিয়া যোগ নিয়েব বাসিন্দারা ভয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলতে চাইছেন না।  নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ওই এলাকায় দামি পাথর ও গাছগাছালি রয়েছে। যা দীর্ঘদিন ধরেই মাফিয়াদের নজরে। বন্য জীবজন্তু থাকলে রাতের অন্ধকারে কাঠ বা পাথর পাচার অনেক সময় ঝুঁকিপূর্ণ হয়। ঘন ঝোপজঙ্গলের মধ্যে ওইসব জীবজন্তু থাকে। ফলে জঙ্গল পুড়িয়ে দিলে সেই ঝুঁকি অনেকটাই কমে যাবে। পাশাপাশি পাথর ও কাঠ গভীর জঙ্গল থেকে বের করে আনতেও সুবিধা হবে। সেই কারণেই মাফিয়ারা আগুন ধরিয়ে দিতে পারে বলে আমরা মনে করছি। প্রশাসন ও বনদপ্তর তদন্ত করলেই আগুন লাগার সঠিক কারণ জানা যাবে। তা সামনে আসা জরুরি।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ