Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সুস্বাস্থ্য কেন্দ্র: অবশেষে পছন্দের নাম চাপানোর জিদ ছাড়ল দিল্লি

নিজস্বতা, নিজের সংস্কৃতি ছাড়তে নারাজ বাংলা। এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় সরকারের যে কোনও রকমের চাপের কাছে নতি স্বীকার করতে নারাজ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সুস্বাস্থ্য কেন্দ্র: অবশেষে পছন্দের নাম চাপানোর জিদ ছাড়ল দিল্লি
  • ১৯ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নিজস্বতা, নিজের সংস্কৃতি ছাড়তে নারাজ বাংলা।  এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় সরকারের যে কোনও রকমের চাপের কাছে নতি স্বীকার করতে নারাজ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই শেষপর্যন্ত ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে বাংলাকে চিঠি পাঠিয়ে সুস্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলির নাম পাল্টে ‘আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দির’ করার ফতোয়া নিয়ে ঢোঁক গিলল কেন্দ্র। মঙ্গলবার রাজ্যসভায় বিজেপি সাংসদ শমীক ভট্টাচার্যের প্রশ্নে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী প্রতাপরাও যাদবের উত্তরেই তা দিনের আলোর মতোই স্পষ্ট হয়ে গেল। শমীকবাবু এদিন প্রশ্ন করেছিলেন, কেন্দ্র কি জানে পশ্চিমবঙ্গ সরকার হেলথ অ্যান্ড ওয়েলনেস সেন্টারগুলির নাম পাল্টে সুস্বাস্থ্যকেন্দ্র করেছে? তা কি কেন্দ্রের অনুমোদনে করেছে? এর ফলে আয়ুষ্মান ভারত ব্র্যান্ডিংই বাদ পড়ে গেল নয় কি? মানুষও তো জনস্বার্থে কেন্দ্রের ভূমিকা সম্পর্কে জানতে পারছে না। উত্তরে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী উত্তরে জানান, ২০২৩ সালের ২৫ নভেম্বর কেন্দ্র সমস্ত রাজ্যকে আয়ুষ্মান ভারত হেলথ অ্যান্ড ওয়েলনেস সেন্টারগুলিকে ‘আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দির’ নাম  দিতে বলেছিল। ১৮ জানুয়ারি রাজ্য কেন্দ্রকে একটি চিঠি পাঠিয়েছে। তাতে তারা জানিয়েছে রাজ্যজুড়ে ‘হেলথ অ্যান্ড ওয়েলনেস সেন্টারগুলির’ নামকরণ তারা করবে ‘আয়ুষ্মান আরোগ্য কেন্দ্র’। সে বিষয়ে কেন্দ্রও সহমত। 

Advertisement

কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর উত্তরেই স্পষ্ট, নিজের ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্পের দেশজুড়ে চাপানো নামকরণ থেকেই সরে দাঁড়াল কেন্দ্র। যদিও বিজেপি’র তরফে পাল্টা প্রচার শুরু হয়েছে, রাজ্য আয়ুষ্মান শব্দটা তো জুড়তে রাজি হল! এটাই তাদের জয়। এদিকে রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তরের এক শীর্ষ সূত্র জানিয়েছে, কোনও সুস্বাস্থ্যকেন্দ্রের রংই কেন্দ্রের ফতোয়া মতে গেরুয়া হবে না। হেলথ অ্যান্ড ওয়েলনেস সেন্টার এবং সুস্বাস্থ্যকেন্দ্র নামটাও থাকবে, শুধু পাশে জুড়বে আয়ুষ্মান আরোগ্য কেন্দ্র—আরোগ্যম পরমম ধনম এই অংশটি। কোনওভাবেই আগে চাপানোর চেষ্টা করা নাম ‘আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দির’ নয়। প্রসঙ্গত, রাজ্যে বর্তমানে গ্রামীণ এলাকা (১১ হাজারের বেশি) এবং শহরাঞ্চল (প্রায় আড়াই হাজার) মিলিয়ে ১৩ হাজার ৫০০ সুস্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে। রাজ্যের লক্ষ্য ২০২৬ সালের মধ্যে আরও ২৩০০ সুস্বাস্থ্যকেন্দ্র চালু করা। যদিও অভিযোগ, স্বাস্থ্যদপ্তর বাংলার প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে আরও সুস্বাস্থ্যকেন্দ্র চালু করতে চাইলেও, এই খাতে (জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন) আর্থিক অনুদান সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে কেন্দ্র। এই খাতে যা কাজ হচ্ছে সবটাই এখন হচ্ছে রাজ্যের অর্থসাহায্যে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ