নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: উত্তর শহরতলির সিংহভাগ জায়গায় বিটি রোডের ফুটপাত দখল হয়েছে আগেই। বহু জায়গায় আবার সার্ভিস রোডও দখল হয়ে গিয়েছে। অবৈধভাবে দখল করে রাখা বিটি রোডের ফুটপাত ও সার্ভিস রোড দখলমুক্ত করতে এবার উদ্যোগী হল পুলিশ ও প্রশাসন। বুধবার সোদপুর এলাকায় একাধিক দপ্তরের প্রতিনিধিরা ময়দানে নামেন। দীর্ঘ রাস্তার দু’দিক সার্ভে করা হয়। ফুটপাত দখল করে রাখা দোকান মালিকদের নাম সংগ্রহ করা হয়। সবাইকে ফুটপাত থেকে সরে যাওয়ার কথা বলা হয়।
গত এক দশকে সোদপুরে বিটি রোডের উপর নামকরা বিভিন্ন সংস্থার খাদ্য বিপনি সহ ছোটো-বড়ো বহু দোকান তৈরি হয়েছে। বিরিয়ানি থেকে শুরু করে রেস্তরাঁ, মিষ্টির দোকান– কী নেই সেই তালিকায়। কিন্তু সিংহভাগ দোকান ফুটপাতের উপর উঠে এসেছে বলে অভিযোগ। অস্থায়ী কাঠামো তৈরি করা হয়েছে একাধিক জায়গায়। এদিকে, সার্ভিস রোড গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গায় পরিণত হয়েছে। সন্ধ্যার সময় সার্ভিস রোড দূরের কথা, মূল রাস্তাতেই গাড়ি পার্কিং করা হচ্ছে। এছাড়া একাধিক দলের রাজনৈতিক কার্যালয়, গাড়ি গ্যারাজ, চা-পানের দোকানও রয়েছে। এই চিত্র ডানলপ ব্রিজ পার করে কামারহাটি, পানিহাটি, খড়দহ সহ উত্তর শহরতলির বিভিন্ন এলাকায় চোখে পড়বে। বহুবার এনিয়ে বিতর্ক হলেও সার্বিকভাবে ফুটপাত ও সার্ভিস রোড দখলমুক্ত করতে উদ্যোগী হয়নি প্রশাসন। বুধবার দুপুরে পানিহাটি পুরসভা, খড়দহ থানা, সোদপুর ট্রাফিক গার্ড, পূর্ত দপ্তর, ফায়ার ব্রিগেড সহ একাধিক দপ্তরের প্রতিনিধিরা সার্ভেতে হাজির ছিলেন। সোদপুর গির্জা মোড় থেকে ডানলপগামী লেন বরাবর প্রতিটি দোকানে যান আধিকারিকরা। কোন দোকান রাস্তার কতটা দখল করে রেখেছে, তা সরজমিনে দেখার পাশাপাশি দোকানের নাম ও দোকান মালিকের নাম নথিবদ্ধ করা হয়। অবিলম্বে দখলকৃত জায়গা ছেড়ে দেওয়ার কথা বলা হয়। তবে নির্দিষ্ট কোনও সময় দেওয়া হয়নি। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এরপর নোটিশ ও মাইকিং করে সবাইকে সচেতন করার পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া হবে। তাতেও না হলে চলবে বুলডোজার। প্রশাসনের এই উদ্যোগে সাধারণ শহরবাসী অনেকেই খুশি। তাঁদের দাবি, শুধু ছোট দোকান নয়, বড় বিপনিগুলির অস্থায়ী কাঠামো সরিয়ে দেওয়া হলে তবেই বাকিরা নিজে থেকেই সরে যাবেন।