Bartaman Logo
১১ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দালাল-দৌরাত্ম্য রুখতে নজরদারি সরকারি হাসপাতালে, কর্মীরাও আতশ কাচের তলায়

সরকারি হাসপাতালে দালালচক্র রুখতে নজরদারি চালানোর ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। হাসপাতালের অভ্যন্তরে কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ। বিস্তারিত পড়ুন।

দালাল-দৌরাত্ম্য রুখতে নজরদারি সরকারি হাসপাতালে, কর্মীরাও আতশ কাচের তলায়
  • ১১ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালগুলিতে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য রুখতে রাজ্য সরকারের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, চিকিৎসাকর্মী এবং রোগীর পরিজনরা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় কলকাতা থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালগুলিতে নজরদারি চালিয়ে দালালদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ঘোষণা করা করেছেন। 

Advertisement

এই ঘোষণার পর উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সহ জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেলেও, হাসপাতালের অভ্যন্তরে কর্মরত কিছু অস্থায়ী কর্মীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়েও কড়া পদক্ষেপের দাবি উঠেছে। 
অভিযোগ, উত্তরবঙ্গ মেডিকেলের অপারেশন থিয়েটার, লেবার রুম সহ বিভিন্ন বিভাগে কর্মরত কিছু অস্থায়ী কর্মীর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে রোগীর পরিবারের কাছ থেকে টাকা আদায়, বাইরের চিকিৎসাকেন্দ্রে রোগী পাঠানো এবং দ্রুত অস্ত্রোপচারের নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। গত সেপ্টেম্বর মাসে টাকার বিনিময়ে অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করে দেওয়ার অভিযোগে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের এক অস্থায়ী কর্মীকে আটক করা হয়েছিল। ওই ঘটনায় দার্জিলিংয়ের বাসিন্দা শাহরুখ প্রসাদ নির্দিষ্ট অস্ত্রোপচার না হওয়ায় তিনি বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন। এরপর হাসপাতাল চত্বরেই তাঁকে মারধরের অভিযোগ উঠেছিল দুই কর্মীর বিরুদ্ধে। ঘটনার তদন্তের পর অভিযুক্ত ওই দুই কর্মীকে বরখাস্ত  করা হয়েছিল। অভিযোগ, তার কয়েক মাস পর অভিযুক্তরা স্বমহিমায় ফিরে আসেন। 
এসব অভিযোগের ভিত্তিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একসময় অস্থায়ী কর্মীদের রোটেশন পদ্ধতিতে কাজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও পরে তা স্থগিত হয়ে যায়। স্থানীয় সূত্রে দাবি, অতীতেও হাসপাতালে দালালচক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে কয়েকজন ধরা পড়েছিল। তাই দাবি উঠেছে, শুধু বহিরাগতদের নজরদারিতে রাখলেই হবে না, হাসপাতালের অভ্যন্তরে কর্মরত অস্থায়ী কর্মীদের কর্মকাণ্ডও স্থানীয় স্তরে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষার জন্য সংগ্রহ করা রক্ত ও অন্যান্য নমুনা হাসপাতালের বাইরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে হাসপাতালের কিছু কর্মীর বিরুদ্ধে। এই পরিস্থিতিতে এসব কর্মীদের প্রবেশ ও প্রস্থানের সময় নজরদারির ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন হাসপাতালের একাংশের কর্মী ও সাধারণ মানুষ।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ