নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিস্ফোরক অভিযোগ আনলেন ডায়মন্ডহারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বাড়ি এবং অফিসে প্রতিদিন নজরদারি চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁর। এমনকি ছবি, ভিডিয়ো তুলে ধরে গোটা বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক, রাজ্য পুলিশ এবং লোকসভার স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি। শুক্রবার ফেসবুকে একটি ভিডিয়ো পোস্ট করেন অভিষেক। যে ভিডিয়োতে অভিষেক দেখিয়েছেন, বাইকে দুই ব্যক্তি ঘোরাঘুরি করছেন। কোনো তথ্য সংগ্রহ করছেন। নজরদারি চালাচ্ছেন। ছবি তোলার পর তাঁরা দ্রুত এলাকা থেকে চলে যান। ওই দু’জন ঠিক কী করছিলেন, তার ভিডিয়ো পোস্ট করেন অভিষেক। তিনি লিখেছেন, গত দু’দিন ধরে কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি আমার অফিস ও বাড়ির আশেপাশে নজরদারি চালাচ্ছেন। তাঁদের ব্যবহৃত বাইকের রেজিস্ট্রেশন নম্বর রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে, তাঁরা নিজেদের পুলিশ কর্মী বলে দাবি করেন। অভিষেকের প্রশ্ন, আমি নির্বাচিত সাংসদ। আমার বাড়ি ও অফিসের আশেপাশে রাজ্য পুলিশ কেন নজরদারি চালাচ্ছে? কার নির্দেশে নজরদারি চলছে? এদের উদ্দেশ্য কী? আমি লোকসভার স্পিকার, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। যাতে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়। অভিষেকের দাবি, অবিলম্বে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হোক। যাতে ওই ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়। এই ষড়যন্ত্রের পিছনের অসৎ উদ্দেশ্য উন্মোচিত হওয়া দরকার। ডায়মন্ডহারবারে তৃণমূলের পার্টি অফিস থেকে যে বিপুল টাকা উদ্ধার হয়েছে, তা নিয়ে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আগেই তুলেছেন অভিষেক। গোটা ঘটনার পিছনে পুলিশের বেশ কয়েকজন সরাসরি যুক্ত বলে অভিযোগ তাঁর। বৃহস্পতিবার অভিষেক অভিযোগ করেছিলেন, পুলিশের গাড়ি করে টাকা নামানো হয়েছিল ওই ‘বিতর্কিত’ পার্টি অফিসের সামনে। শুক্রবার অভিষেক ফেসবুকে একটি গাড়ির ছবি পোস্ট করেন। রাতে তোলা একটি ছবি। কালো রংয়ের একটি গাড়ি। অভিষেকের প্রশ্ন, এই গাড়িটি কার? বিজেপির কথা মতো যে সমস্ত পুলিশ কর্মী তাঁকে হেনস্থা করছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মমতা তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। অন্যদিকে, মগরহাট পশ্চিমের বিধায়ক শামিম আহমেদ চিঠি পাঠিয়েছেন জাতীয় নির্বাচন কমিশনে। শামিম বিধানসভা ভোটে জেতার পর মমতা তৃণমূলের সঙ্গ ছেড়ে যোগ দেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে। কিন্তু শামিমকে শুক্রবার দেখা গিয়েছে অভিষেকের সঙ্গে। এই প্রেক্ষাপটে শামিম নির্বাচন কমিশনের কাছে আরজি জানিয়েছেন, তাঁর হলফনামাটি মমতার পক্ষে। ঋতব্রতর পক্ষে, এমনটা যেন গ্রহণ করা না হয়।



