Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রামপুরহাটে যোগীর সভামঞ্চের পাশে ‘বুলডোজার’ রেখে চমক, বোলপুরে জমল না সভা বহু চেয়ার ও মাঠ ফাঁকা

বৃহস্পতিবার রামপুরহাটে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সভামঞ্চের ঠিক পাশেই বুলডোজার রেখে চমক দেওয়া চেষ্টা করল গেরুয়া শিবর

রামপুরহাটে যোগীর সভামঞ্চের পাশে ‘বুলডোজার’ রেখে চমক, বোলপুরে জমল না সভা  বহু চেয়ার ও মাঠ ফাঁকা
  • ১৭ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট ও বোলপুর: বৃহস্পতিবার রামপুরহাটে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সভামঞ্চের ঠিক পাশেই বুলডোজার রেখে চমক দেওয়া চেষ্টা করল গেরুয়া শিবর। বোলপুরে এদিন যোগীর সভা সেভাবে জমেনি। মাঠের একটি বড় অংশ এবং বহু চেয়ার ফাঁকা পড়ে থাকতে দেখা যায়। এনিয়ে কটাক্ষ করেছে তৃণমূল। তাদের কটাক্ষ, বীরভূমের মানুষ বহিরাগত নেতাদের গ্রহণ করছে না। বিজেপির জনভিত্তি নড়বড়ে।

Advertisement

উত্তরপ্রদেশে বুলডোজার প্রতীকী রূপ পেয়েছে। যা এখন অন্যান্য রাজ্যেও বিজেপির প্রচারের হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। রামপুরহাটেও সেই চমক দেওয়ার চেষ্টা করেছে গেরুয়া শিবির। এদিন রামপুরহাটের ধ্রুব সাহা ও হাসনের প্রার্থী নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে যোগীর সভাস্থলের কাছাকাছি রাখা হয়েছিল  বুলডোজার। তাঁর বক্তব্যে মূলত উত্তরপ্রদেশ মডেল এবং পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান পরিস্থিতির একটি তুলনামূলক চিত্র ফুটে উঠেছে। তিনি বলেন, উত্তরপ্রদেশে অপরাধ দমনে বুলডোজার যেভাবে কার্যকর হয়েছে বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় এলে সেই একই পথ অনুসরণ করা হবে। বালি, কয়লা এবং জমি মাফিয়াদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, অপরাধীদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে তা গরিবদের আবাসের জন্য ব্যবহার করা হবে। আগের উত্তরপ্রদেশের সঙ্গে বর্তমান বাংলার তুলনা টেনে তিনি দাবি করেন, ডবল ইঞ্জিন সরকারই দাঙ্গা ও কার্ফুমুক্ত প্রশাসন দিতে পারে।
তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিজেপি সমর্থকদের ভয় দেখানোর অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষকে সভায় আসতে বাধা দেওয়া হয়েছে। আগামী ৪মে-র পর পরিস্থিতি বদলে যাওয়ার কথা বলেন তিনি। তাঁর মন্তব্য, যে গুন্ডারা আজ ধমকি দিচ্ছে তারাই ভবিষ্যতে রাস্তায় ঝাড়ু হাতে সাধারণ মানুষকে স্বাগত জানাবে। রামপুরহাটে যোগী আদিত্যনাথ আক্রমণাত্মক মেজাজে থাকলেও বোলপুরের ফাঁকা মাঠ বিজেপির জন্য কিছুটা অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেখানে বোলপুরের প্রার্থী দিলীপ ঘোষ, নানুরের খোকন দাস এবং আউশগ্রামের কলিতা মাজি মঞ্চে থাকলেও, লাভপুরের বিজেপি প্রার্থী দেবাশিস ওঝা গরহাজির ছিলেন। দলের হেভিওয়েট নেতার নির্বাচনি সভায় প্রার্থীর অনুপস্থিতি নিয়ে ইতিমধ্যেই জল্পনা শুরু হয়েছে। যোগী আদিত্যনাথ যখন বক্তব্য রাখেন তখনও মাঠের একাংশ এবং বহু চেয়ার ফাঁকা পড়ে থাকা বিজেপির সাংগঠনিক দুর্বলতাকেই যেন প্রকট করেছে। এরই মধ্যে যোগী দাবি করেন যে, বাংলায় একের পর এক কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সেখানে গত ৯ বছরে উত্তরপ্রদেশে ১৭হাজার নতুন শিল্প গড়ে উঠেছে। কেন্দ্রীয় বরাদ্দের অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, মোদি সরকারের পাঠানো উন্নয়নের অর্থ তৃণমূলের গুন্ডাদের পকেটে চলে যাচ্ছে।
তৃণমূলের জেলা মুখপাত্র মলয় মুখোপাধ্যায় বলেন, সাধারণ মানুষ ওদের চাইছে না। সেকারণে শমীক ভট্টাচার্যের সভা বাতিল হয়েছে। বোলপুরেও লোক হয়নি। বুলডোজার চালিয়ে বিরোধীদের ঘরবাড়ি ভেঙে দেওয়া বা সম্পত্তি দখল করার এই হুমকি বাংলার শান্তিপ্রিয় মানুষ মেনে নেবে না।  বোলপুরে যোগীর সভায় ফাঁকা চেয়ার। -নিজস্ব চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ