


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: রেলওয়ে সার্ভিস কন্ডাক্ট রুলস, ১৯৬৬-কে লঙ্ঘন করেছেন রেলের লখনউ ডিভিশনের সংশ্লিষ্ট চিফ ক্রু কন্ট্রোলার রতন কুমার। তাঁর সহকর্মী এবং সাব-অর্ডিনেট লোকো পাইলট রাজেশ মিনাকে হাস্যস্পদ (হিউমিলিয়েটেড) হতে প্রত্যক্ষভাবে ইন্ধন জুগিয়েছেন তিনিই। লোকো পাইলটের নগ্ন হয়ে শল্য চিকিৎসার প্রমাণ দেখানোর ঘটনায় প্রাথমিক তদন্তে এমনই মত রেল কর্তৃপক্ষের। বিভিন্ন সময় রেলের কর্মসংস্কৃতি নিয়ে গালভরা আশ্বাস দিয়েছে কেন্দ্রের মোদি সরকার। কিন্তু নর্দার্ন রেলের লখনউ ডিভিশনের সাম্প্রতিক এহেন ঘটনা সেই তথাকথিত কর্মসংস্কৃতিতে জল ঢেলে দিয়েছে। নিন্দার ঝড় উঠেছে প্রায় সর্বত্র। সেই কারণে যেনতেনপ্রকারেণ ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে চাইছে রেল। জানা যাচ্ছে যে, অভিযুক্ত রেল আধিকারিক রতন কুমারের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার পথেই হাঁটতে চলেছে রেল বোর্ড। প্রাথমিকভাবে রেলের ওই শীর্ষ আধিকারিকের বিরুদ্ধে যাবতীয় অভিযোগই প্রমাণিত হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে দাবি করা হয়েছে। এমনকি বিচারবিভাগীয় তদন্ত শেষে তাঁর চাকরিও কেড়ে নেওয়া হতে পারে। রেলওয়ে সেবা আচরণ নিয়ম, ১৯৬৬ অনুসারে এক্ষেত্রে রেল কর্মীদের জন্য ঠিক কী বলা হয়েছে? রেল জানিয়েছে, প্রত্যেক আধিকারিক এবং কর্মীকে শিষ্টাচার, সংযম এবং ভদ্র-সভ্য ব্যবহার করার কথা বলা হয়েছে কন্ডাক্ট রুলসে। কাজের জায়গায় স্বাস্থ্যকর, সম্মানজনক এবং ভয়মুক্ত পরিবেশ যাতে বজায় থাকে, তা রেলের প্রত্যেক কর্মী এবং আধিকারিককে সুনিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে ১৯৬৬ সালের রেলওয়ে সার্ভিস কন্ডাক্ট রুলসে বলা হয়েছে যে, প্রত্যেক কর্মচারী সহকর্মীদের মৌলিক অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকবেন এবং মানবিকতা বজায় রাখবেন। অভিযুক্ত আধিকারিকের বিরুদ্ধে প্রাথমিক তদন্তে রেল জানিয়েছে যে, এর প্রতিটিই লঙ্ঘন করেছেন লখনউ ডিভিশনের ওই শীর্ষ রেল আধিকারিক। এব্যাপারে ‘অল ইন্ডিয়া লোকো রানিং স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন’-এর ডিভিশনাল সেক্রেটারি সন্তোষসিং হাডার অভিযোগ, শুধুই রেলওয়ে অ্যাক্টের লঙ্ঘন নয়। লোকো পাইলটের সঙ্গে অভিযুক্ত রেল আধিকারিক যে আচরণ করেছেন, তাতে ভারতীয় সংবিধানকেও অবজ্ঞা করা হয়েছে। ফলে সেইমতোও ওই রেল আধিকারিকের কড়া শাস্তি প্রাপ্য হয়।