৩৮ বছর পর ভাইকে খুনের মামলার নিষ্পত্তি সুপ্রিম কোর্টে
  • ২৩ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, মানিকচক: ভাইকে খুনের দায়ে জীবনের দীর্ঘ ৩৬ বছর কেটে গিয়েছে সংশাধনাগারে। যখন তাঁর বয়স ১০৪ বছর তখন দেশের শীর্ষ আদালয়ের রায়ে জামিনে মুক্ত। এবার সেই মামলা থেকেই শতায়ু রসিকচন্দ্র মণ্ডলকে তাঁর বয়স বিবেচনা করে পূর্ণ মুক্তি দিলো দেশের সর্বোচ্চ আদালত। ২০২৪ সালে জামিনে মুক্তি পাওয়া থেকে এবার পুরোপুরি স্বস্তি পেলেন রসিক মন্ডল। এই খবরে খুশির হাওয়া মানিকচকের পশ্চিম নারায়ণপুর কলোনির বাড়িতে।

Advertisement

সালটা ছিল গত শতকের ১৯৮৮। ঘটনা ঘটেছিল ৮ নভেম্বর এক আসন্ন শীতের রাতে। অন্ধকারে বাড়িতে ঢুকে রসিকবাবুর ভাই সুরেশ মন্ডলকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। সেই সময় জমি বিবাদ নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে কিছুদিন ধরে বচসা চলছিল। মৃতের বাড়ির দাবি, দাদা রসিকচন্দ্র মন্ডল খুন করেছিলেন তাঁর ভাইকে। মানিকচক থানায় রসিকচন্দ্র মন্ডল সহ বেশ কয়েকজনের নামে খুনের অভিযোগ দায়ের হয়। অভিযুক্ত রসিক ও তাঁর সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছিল মানিকচক পুলিশ।
সেই সময় থেকে জেলবন্দি থাকতে শুরু করেন রসিক বাবু। তাঁর স্থায়ী ঠিকানা হয়ে দাঁড়ায় মালদহ জেলা সংশোধনাগার। ভারতীয় ফৌজদারি আইন অনুযায়ী একটি নির্দিষ্ট বয়সের পরে জেলবন্দিদের মুক্তি দেওয়া হয়। তবে রসিকবাবুর সঙ্গে এমনটা ঘটেনি। কিন্তু হাল ছাড়েনি রসিকবাবুর ছেলে ও নাতিরা। কখনও হাইকোর্ট, কখনও সুপ্রিম কোর্টে বারবার জামিনের আবেদন জানিয়েছেন। শেষমেষ ২৯ তারিখ নভেম্বর ২০২৪ সুপ্রিম কোর্ট ১০৪ বছরের বৃদ্ধ রসিকচন্দ্র মন্ডলের জামিন মঞ্জুর করে।
তারপর থেকে বাড়িতে আছেন তিনি। বর্তমানে বার্ধক্য জনিত বিভিন্ন রোগে তিনি আক্রান্ত। মাঝেমধ্যে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে যেতে হয়। জীবনের শেষ প্রান্তে পৌঁছেছেন তিনি। তবে শেষ মুহূর্তেও বাবার জন্য লড়াই চালিয়ে গেছেন তাঁর ছেলেরা। সেই লড়াইয়ে জয়লাভ করে এবার মুখে হাসি ফুটেছে তাঁদের মুখে।
রসিক মন্ডলের ছোট ছেলে প্রকাশচন্দ্র মন্ডল বলেন, বাবার এই মামলা থেকে অনেক আগে মুক্তি পাওয়ার কথা। কিন্তু বিভিন্ন জটিলতার কারণে বিলম্ব হয়েছে। তবে আমরা লড়াই চালিয়ে গিয়েছি। অবশেষে শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছে, বয়স বিবেচনায় তাঁকে কারাগারে রাখার কোনো ন্যায় সঙ্গত কারণ নেই। এই রায়ে আমরা খুশি।