


বিশেষ সংবাদদাতা, ইম্ফল ও নয়াদিল্লি: ২০২৩ সালের মে থেকে জ্বলছে মণিপুর। মেইতেই ও কুকি-জো সম্প্রদায়ের মধ্যে গোষ্ঠী সংঘর্ষে ২৫০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ বহু। ঘরছাড়া হাজার হাজার মানুষ। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে শনিবার উত্তর-পূর্বের এই রাজ্যে এল সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের একটি দল। এই দলের নেতৃত্বে থাকা বিচারপতি বি আর গাভাই হিংসা-দীর্ণ মণিপুরে শান্তি ও সৌভ্রাতৃত্ব ফেরাতে রাজ্যের মানুষকে একযোগে কাজ করার আর্জি জানালেন। যদিও ওই দলের সদস্য বিচারপতি কোটিশ্বর সিং চূড়াচাঁদপুরে যেতে পারেননি। কুকি ও জো সম্প্রদায় প্রভাবিত ওই এলাকায় মেইতেই সম্প্রদায়ভুক্ত ওই বিচারপতির প্রবেশে আপত্তি তুলেছিল স্থানীয় আইনজীবীরা। চূড়াচাঁদপুর ঢুকতে না পারলেও বিচারপতিদের এই সফরকে অসাধারণ আখ্যা দেন কোটিশ্বর সিং।
প্রতিনিধি দলের বাকি সদস্যরা অর্থাৎ বিচারপতি বি আর গাভাই, বিক্রম নাথ, এম এম সুন্দ্রেশ, কে ভি বিশ্বনাথন এদিন চূড়াচাঁদপুর জেলার ত্রাণশিবির ঘুরে দেখেন। সেখানে আশ্রয় নেওয়া ঘরছাড়া মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তাঁরা। পাশাপাশি চূড়াচাঁদপুরের লামকা এলাকায় অবস্থিত মিনি সেক্রেটারিয়েট থেকে তাঁরা একটি আইনি পরিষেবা শিবির, একটি মেডিক্যাল ক্যাম্প ও লিগ্যাল এইড ক্লিনিটের ভার্চুয়াল উদ্বোধন করেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন মণিপুর হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ডি কৃষ্ণকুমার ও বিচারপতি গোলমেই গাইফুলশিলু। বিচারপতি গাভাই বলেন, ভারতের সংবিধান দেশের সব মানুষকে সমান অধিকার দিয়েছে। বিচারপতিরা চূড়াচাঁদপুরের তুইবং গ্রামে পৌঁছতেই সেখানে উপস্থিত ছাত্রছাত্রীরা সমবেতভাবে গেয়ে উঠেন ‘...আমরা করব জয়, আমরা করব জয় নিশ্চয়ই। বিচারপতি গাভাইয়ের বক্তব্যেও সেই সুর শোনা গিয়েছে। তিনিও বলেন, একদিন আমরা করব জয়....।’
এর আগে এদিন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের দলটি সদ্ভাবনা মণ্ডপ ত্রাণশিবিরে গিয়ে সেখানে আশ্রয় নেওয়া ঘরছাড়া মানুষের সঙ্গেও কথা বলে। বিচারপতিদের সফরকে স্বাগত জানিয়ে কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ প্রশ্ন তোলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদি কেন এতদিনেও মণিপুরে যাওয়ার সময় করে উঠতে পারলেন না? তিনি বলেন, ‘আমাদের আশা ব্যাংকক সফরে যাওয়ার সময় বা সেখানে থেকে ফেরার পথে প্রধানমন্ত্রী কিছুটা সময় বের করে মণিপুরে যাবেন। নিরাময়ের স্পর্শ দিতে প্রধানমন্ত্রীর সফর গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।’