Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

ফৌজদারি অপরাধের তালিকা থেকে বাদ মানহানি! সওয়াল সুপ্রিম কোর্টের

মানহানির অভিযোগকে এবার ‘ফৌজদারি অপরাধে’র তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সময় এসেছে। সোমবার একটি মামলার শুনানিতে এমনই মন্তব্য করল সুপ্রিম কোর্ট।

ফৌজদারি অপরাধের তালিকা থেকে বাদ মানহানি! সওয়াল সুপ্রিম কোর্টের
  • ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: মানহানির অভিযোগকে এবার ‘ফৌজদারি অপরাধে’র তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সময় এসেছে। সোমবার একটি মামলার শুনানিতে এমনই মন্তব্য করল সুপ্রিম কোর্ট। এর আগে অবশ্য শীর্ষ আদালত একটি রায়ে মানহানি সংক্রান্ত ফৌজদারি আইনের সাংবিধানিক বৈধতা বহাল রেখেছিল। সেই সময় বলা হয়েছিল, মর্যাদার অধিকার সাংবিধানিকভাবে মৌলিক অধিকারের অন্তর্গত। কিন্তু এবার সেই অবস্থান থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিল সুপ্রিম কোর্ট। বর্তমানে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩৫৬ নম্বর ধারায় মানহানিকে ফৌজদারি অপরাধের তকমা দেওয়া হয়েছে। আগে ভারতীয় দণ্ডবিধিতে একই তকমা দেওয়া হয়েছিল মানহানিকে।২০১৬ সালে একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যম ও তার সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগ তোলেন জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএনইউ) অধ্যাপিকা অমৃতা সিং। নিম্ন আদালতে তিনি মামলাও দায়ের করেছিলেন। ওই অধ্যাপিকা দাবি করেন, তাঁকে নিয়ে ভিত্তিহীন খবর প্রকাশ করা হয়েছে। এতে তাঁর মানহানি হয়েছে। সেই মামলা এখন সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। বিচারপতি এমএম সুন্দরেশ ও বিচারপতি সতীশচন্দ্র শর্মার বেঞ্চে এদিন ওই মামলার শুনানি ছিল। মানহানি সংক্রান্ত ফৌজদারি মামলার সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, ব্রিটিশ আমল থেকে মানহানিকে ‘ফৌজদারি অপরাধে’র তকমা দেওয়া হয়। কিন্তু এবার এটিকে অপরাধের তকমা থেকে বাদ দেওয়ার সময় এসে গিয়েছে। এই আইনকে ‘প্রতিশোধ’ নেওয়ার জন্য ব্যবহার করে আসছে রাজনৈতিক দলগুলি ও বিভিন্ন ব্যক্তি। ২০২৬ সালে একটি খবর প্রকাশ করেছিল ওই অনলাইন সংবাদমাধ্যমটি। তাতে জানানো হয়, অধ্যাপক অমৃতা সহ জেএনইউয়ের আরও কয়েকজন অধ্যাপক মিলে ২০০ পাতার একটি রিপোর্ট তৈরি করেছেন। তাতে ওই বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘মধুচক্রের ঘাঁটি’ বলে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া জেএনইউয়ের অধ্যাপকদের একাংশ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মদত দিচ্ছেন বলেও ওই রিপোর্টে বলা হয়েছিল। সেটি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে জমাও দেওয়া হয়। এই নিয়ে খবর প্রকাশিত হতেই ওই সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করেন অমৃতা। ২০১৭ সালে নিম্ন আদালত ওই সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে নোটিশ জারি করে। দিল্লি হাইকোর্টও সেই নোটিশ বহাল রাখা হয়। এরপরই মামলাটি শীর্ষ আদালতে গড়ায়। এই মামলা কেন এতদিন ধরে চলছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিচারপতিরা। ওই সংবাদমাধ্যমের তরফে আইনজীবী কপিল সিবাল জানান, রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে মানহানির মামলাতেও একই ঘটনা ঘটেছে। এদিনের শুনানিতে সব পক্ষকে অবস্থান জানানোর জন্য নোটিশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ