Bartaman Logo
৮ জুলাই, ২০২৬

প্রাথমিকের ৩২ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলা গ্রহণ করল সুপ্রিম কোর্ট

রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষকদের চাকরি বহাল থাকবে কি? সুপ্রিম কোর্টে উঠে গেল এই প্রশ্ন। ২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি হয়েছে—এই অভিযোগে কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ চাকরি বাতিল করেছিল।

প্রাথমিকের ৩২ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলা গ্রহণ করল সুপ্রিম কোর্ট
  • ১৯ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষকদের চাকরি বহাল থাকবে কি? সুপ্রিম কোর্টে উঠে গেল এই প্রশ্ন। ২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি হয়েছে—এই অভিযোগে কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ চাকরি বাতিল করেছিল। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন জমা পড়ে। ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, চাকরি বহাল থাকবে। অর্থাৎ সিঙ্গল বেঞ্চের রায় খারিজ। এখন কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে এসেছেন নিজেদের যোগ্য অথচ চাকরি না পাওয়া প্রার্থীদের একাংশ। সোমবার বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি সতীশচন্দ্র শর্মার বেঞ্চ সেই মামলা গ্রহণ করেছে। সব পক্ষকে তাদের বক্তব্য জানাতে নোটিস পাঠিয়েছে। আগামী ১৭ আগস্ট পরবর্তী শুনানি হবে। 

Advertisement

পশ্চিম-এশিয়ার পরিস্থিতির জেরে জ্বালানি বাঁচাতে সুপ্রিম কোর্টের সব বেঞ্চেই এদিন শুনানি হয় ভার্চুয়াল। স্রেফ বিচারপতিরা বসেছিলেন এজলাসে। আ‌‌‌ইনজীবীরা অনলাইন। যার জেরে শুনানিতে প্রবল সমস্যা হয়। কোন আইনজীবী কী বলছেন, তা ভালোভাবে বোঝাই যাচ্ছিল না। যা নিয়ে বিচারপতি দীপঙ্কর দত্তকেও একসময় বলতে শোনা যায়, একে একে বলুন। সবাই একইসঙ্গে বললে তো সমস্যা। শুনানিতে চাকরিরত সব শিক্ষক টেট পাশ কি না, জানতে চান বিচারপতির দীপঙ্কর দত্ত। কড়া ভাষায় জানিয়ে দেন, শিক্ষার্থীদের অধিকার রয়েছে, সঠিক যোগ্য শিক্ষকের কাছে পড়া। তাই নিয়োগে যে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, তা মোটেই মেনে নেওয়া যায় না। 
চাকরিরতদের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, পি এস পাটওয়ালিয়ারা জানান, এই শিক্ষকরা টেট পাশ। যদিও যোগ্য অথচ চাকরি না পাওয়া বঞ্চিতদের পক্ষে আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যর সওয়াল, টেন পাশ হলেও অন্যায়ভাবে চাকরি দেওয়া হয়েছে। যোগ্যদের চাকরি না দিয়ে তৎকালীন সরকার অযোগ্যদের নিয়োগ করেছে। অনলাইনে উভয়পক্ষের বাদানুবাদ চলতে থাকায় শেষমেশ বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত জানিয়ে দেন, সবাই যে যার বক্তব্য জমা দিন। তারপর বিস্তারিত শুনব। কিন্তু পরে যদি দেখা যায়, সবাই টেট পাশ নয়, তখন কিন্তু ভুগতে হবে। 
ঘটনা হল, ২০১৪ সালে টেটের বিজ্ঞপ্তি জারি হয়। পরীক্ষা হয় পরের বছর। সেই মতো ২০১৬ সালে শুরু হয় নিয়োগ প্রক্রিয়া। কিন্তু নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে হাইকোর্টে মামলা হয় ২০২২ সালে। বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের সিঙ্গল বেঞ্চ ২০২৩ সালে ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকেরই চাকরি বাতিলের নির্দেশ দেন। সে঩টিকে চ্যালেঞ্জ করে ২০২৫ সালে প্রথম সুপ্রিম কোর্টে মামলা হয়। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট তা পাঠিয়ে দেয় হাইকোর্টে। সেখানে দুই ঩বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ গত ২০২৫ সালের ৩ ডিসেম্বর আগের রায় খারিজ করে দেয়। চাকরি বহাল থাকে। কিন্তু সেই রায়ই এখন চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে হয়েছে আবেদন। যে মামলা গ্রহণ করল শীর্ষ আদালত। ফলে ফের প্রাথমিক শিক্ষকদের চাকরির ভবিষ্যৎ পড়ল প্রশ্নের মুখে। 
অন্যদিকে, নবম-দ্বাদশের ২৬ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিল মামলায় ফের নতুন কিছু দাবি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আবেদন সোমবার খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি সঞ্জয় কুমার এবং বিচারপতি বিনোদ চন্দ্রনের বেঞ্চে শুনানি ছিল। বিচারপতিদ্বয় জানিয়ে দেন, এই মামলায় 
সবার চাকরি বাতিল হয়েছে। অযোগ্যদের চাকরিতে সুযোগ নয়। যোগ্যদের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো স্থগিতাদেশও নয়। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ