


নিউ ইয়র্ক: দেখতে দেখতে কেটে গিয়েছে ন’মাস! মহাকাশে আটকে রয়েছেন সুনীতা উইলিয়ামস ও বুচ উইলমোর। রবিবার আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে ডকিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে স্পেস এক্সের মহাকাশযান। সব ঠিক থাকলে বুধবার মহাকাশযানে চেপে পৃথিবীর উদ্দেশে যাত্রা শুরু করবেন সুনীতারা। অতিরিক্ত সময় মহাকাশে থাকার জন্য কত বেতন পাবেন দুই নভশ্চর? বর্তমানে এটাই বিশেষজ্ঞ মহলের আলোচনার অন্যতম বিষয়। নাসার অবসরপ্রাপ্ত মহাকাশচারী ক্যাডি কোলম্যান জানিয়েছেন, নভশ্চররা মার্কিন সরকারের কর্মচারী। এই ঝুঁকিপূর্ণ কাজের জন্য তাঁরা কোনও ওভারটাইম পান না। শুধু পদ অনুযায়ী বেতন পেয়ে থাকেন। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে থাকা-খাওয়ার যাবতীয় খরচ বহন করে নাসা। বেতনের পাশাপাশি প্রতিদিন স্টাইপেন্ড বাবদ মেলে মাত্র ৪ মার্কিন ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় ৩৪৭ টাকা। হিসেব বলছে, স্পেস স্টেশনে ২৮৭ দিনের বেশি কাটিয়ে ফেলেছেন সুনীতারা। সেক্ষেত্রে বেতনের সঙ্গে অতিরিক্ত ১ হাজার ১৪৮ মার্কিন ডলার (প্রায় ১ লক্ষ টাকা) পাবেন তাঁরা। সুনীতা ও বুচ জিএস-১৫ বিভাগের অন্তর্গত। এই বিভাগের সরকারি কর্মচারীরা সর্বোচ্চ বেতন পেয়ে থাকেন। বছরে মূল বেতন ১ কোটি ৮ লক্ষ থেকে ১ কোটি ৪১ লক্ষ টাকা। হিসেব বলছে, ন’মাস মহাকাশে থাকার জন্য স্টাইপেন্ড সহ ৮২ লক্ষ থেকে ১ কোটি ৬ লক্ষ টাকা পেতে পারেন সুনীতারা। রবিবার ভারতীয় সময় সকাল ৯টা ৪০ নাগাদ মহাকাশ স্টেশনে পৌঁছয় স্পেস এক্সের মাহাকাশযান। ভিতরে ছিলেন আরও চার নভশ্চর।নাসার অ্যান ম্যাকক্লেন, নিকোল এয়ার্সের সঙ্গে রয়েছেন জাপানের (জাক্সা) তাকুয়া অনিশি ও রাশিয়ার (রসকসমস) কিরিল পেস্কভ।প্রয়োজনীয় পরীক্ষা শেষে এদিন মহাকাশ স্টেশনে প্রবেশ করেন ক্রু-১০ অভিযানের সদস্যরা। চার নভশ্চরকে দেখামাত্র উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন সুনীতারা। ইতিমধ্যে সেই মুহূর্তের ছবি, ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে। সুনীতা ও বুচ ছাড়া বর্তমানে স্পেস স্টেশনে রয়েছেন নিক হেগ, ডন পেটিট, আলেকজান্দার গরবুনভ, অ্যালেক্সি ওভচিনিন ও ইভান ভ্যাগনার। সুনীতাদের সঙ্গে পৃথিবীতে ফিরবেন গরবুনভ ও নিক।
গত ৫ জুন বোয়িং-এর স্টারলাইনার মহাকাশযানে চেপে স্পেস স্টেশনে গিয়েছিলেন সুনীতা ও বুচ। ঠিক ছিল, আটদিনের অভিযান শেষ করে পৃথিবীতে ফিরে আসবেন। কিন্তু যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে তা সম্ভব হয়নি। বুধবার অবশেষে শেষ হচ্ছে প্রতীক্ষা। সম্প্রতি সাংবাদিক সম্মেলনে সুনীতা বলেন, ‘এটা ছিল বুচ আর আমার তৃতীয় আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশন সফর। এই মহাকাশ স্টেশনকে গড়ে তুলেছি আমরা। পরিবর্তনের সাক্ষী থেকেছি। এখানে থাকলে সমস্যা সমাধানের সাহস পাওয়া যায়। ফেরার সময় অনুপ্রেরণার সেই উৎস বোতলে ভরে নিয়ে যেতে চাই।’