নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আগামী ৬ জুলাই সূর্য আর পৃথিবীর মধ্যে দূরত্ব হবে সবচেয়ে বেশি। বিজ্ঞানীদের হিসাব বলছে, ওইদিন ভারতীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ১ মিনিটে সবচেয়ে দূরে অবস্থান করবে, যা অপসূর বা অ্যাফেলিয়ন নামে পরিচিত। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এর মধ্যে কোনো বিস্ময় নেই। প্রতি বছরই এই সময়টা পৃথিবী তার কক্ষপথে ঘুরতে ঘুরতে সবচেয়ে দূরে যায়। তথ্য অনুযায়ী, অপসূরের সময় পৃথিবী ও সূর্যের গড় দূরত্ব থাকে ১৫ কোটি ২১ লক্ষ কিমি। তবে হিসাব বলছে, এবছর পৃথিবী ও সূর্যের সর্বাধিক দূরত্ব পাঁচবছরের তুলনায় সবচেয়ে কম হতে চলেছে। এই ৬ জুলাই সূর্য ও পৃথিবীর আনুমানিক দূরত্ব হবে ১৫ কোটি ২০ লক্ষ ৮৭ হাজার ৭৭৫ কিমি, যা ২০৩০ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর অপসূরের আনুমানিক দূরত্বের তুলনায় প্রায় হাজার দশের কিমি কম। শুধু ২০২৮ সালে ৩ জুলাই আনুমানিক দূরত্ব হবে এবছরের তুলনায় ৩ হাজার কিমি বেশি। দূরত্ব বৃদ্ধির দিনেও তূলনামূলকভাবে দূরত্ব কম থাকার পিছনে কি কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা রয়েছে? এর কারণ কী? বিড়লা ইন্ডাস্ট্রিয়ার অ্যান্ড টেকনোলজিক্যাল মিউজিয়ামের (বিআইটিএম) আধিকারিক তরুণ দাস বলছিলেন, ‘এটা একেবারেই স্বাভাবিক বিষয়। অপসূর এবং অনুসূর খুব স্বাভাবিক ঘটনা। পৃথিবী তো একটা উপবৃত্তাকার পথে ঘোরে, ফলত এই অবস্থা থাকবেই। খুবই সামান্য বিষয়।’ কিন্তু সামান্য হলেও দূরত্বের এই তারতম্য হয় কেন? তরুণবাবুর ব্যাখ্যা, ‘পৃথিবী সবসময় ছিটকে বেরিয়ে যেতে চায়, আর সূর্য নিজের দিকে টানতে চায়। এই অভিকেন্দ্রিক বল ও অপকেন্দ্রিক বলের বালান্সে পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘোরে। এই তারতম্য খুব একটা হয় না। প্রায় এক থাকে। চাঁদও কক্ষপথ থেকে কয়েক সেন্টিমিটার সরে যাচ্ছে। সেটাও বলের তারতম্যের জন্য। সেটা খুবই সামান্য।’



