Bartaman Logo
১৪ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রাজধানী এক্সপ্রেসের এসি কোচে চেপে বাংলায় ঢুকছে সুলতানগঞ্জ গ্যাং, ধৃত ১

দেখতে ছিমছাম। পরনে নামিদামী ব্র্যান্ডের জামা-প্যান্ট। বাবুয়ানি স্টাইলে হাঁটাচলা। মার্জিত কথাবার্তা। রাজধানী এক্সপ্রেসে যাতায়াত।

রাজধানী এক্সপ্রেসের এসি কোচে চেপে বাংলায় ঢুকছে সুলতানগঞ্জ গ্যাং, ধৃত ১
  • ২২ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: দেখতে ছিমছাম। পরনে নামিদামী ব্র্যান্ডের জামা-প্যান্ট। বাবুয়ানি স্টাইলে হাঁটাচলা। মার্জিত কথাবার্তা। রাজধানী এক্সপ্রেসে যাতায়াত। তাও আবার এসি কোচ ছাড়া চলে না। ওদের দেখে বোঝার জো নেই, ওরা এক একজন পাক্কা চোর!  

Advertisement

কখনও দিল্লি থেকে, কখনও গয়া থেকে রাজধানীতে চড়ে আসে বাংলায়। গন্তব্য কখনও হাওড়া। কখনও আবার দুর্গাপুর। নেমেই একাধিকবার পোশাক বদল করে। ভদ্রবেশে ঢুকে নিমেষেই তালা কেটে ঢুকে পড়ে বন্ধ ফ্ল্যাটে। মাত্র ১৫ মিনিটেই কাজ হাঁসিল। কারও কিছু বুঝে ওঠার আগেই গট গট করে বেরিয়ে যায় ওরা। একেবারে কর্পোরেট হাবভাব। দেখলে মনে হবে, কোনও নামজাদা সংস্থার অফিসার!
আর এই হাবভাবই ওদের সন্দেহের ঊর্ধ্বে ওঠার ম্যাকানিজম। খুব সহজেই ঢুকে পড়ে নানা আবাসনে। প্রহরী পথ আগলে দাঁড়ালে স্মার্ট ভঙ্গিতে কখনও পরিচয় দেয় এসির ম্যাকানিক। আবার কখনও বলে ব্যাঙ্কের ঋণ রিকভারি এজেন্ট। প্রহরী গেট খুলে সরে দাঁড়ান। তারপর শুরু বন্ধ ফ্ল্যাটে অপারেশন।  দুর্গাপুরে এমন একাধিক ঘটনা ইতিমধ্যেই ঘটিয়ে ফেলেছে ওরা। পরে সিটিসেন্টারের এক মহিলা প্রথম ওদের কুকীর্তি ধরে ফেলেন। কীভাবে? সেখানকার বন্ধ একটি ফ্ল্যাটে একই কায়দায় অপারেশন চালাচ্ছিল। পড়শি ওই মহিলার সন্দেহ হয়। প্রতিবাদ করতেই ওরা পরিচয় দেয় লোন রিকভারি এজেন্ট। তাই তালা ভেঙে ফ্ল্যাটে ঢুকতে হচ্ছে। মহিলা ফের গর্জে ওঠেন। পরিচয়পত্র দেখতে চান। বেগতিক বুঝে এলাকা ছাড়ে চোরের দল। ওই মহিলাই প্রথম চোরেদের বিবরণ দিয়েছিলেন পুলিসকে। সেই মতো শহরের একাধিক স্থানে বসানো সিসি ক্যামেরার ফুটেজ তন্ন তন্ন করে দেখা শুরু হয়। চিহ্নিত করা সম্ভব হয় তিনটি চোরকে। ফুটেজে ধরা পড়েছে, এক দিনে একাধিকবার পোশাক বদল করেছে ওরা। ওদের যখনই শহরে দেখা গিয়েছে, তখনই কোথাও না কোথাও চুরি হয়েছে। পুলিস ওদের ছবি বিভিন্ন থানায় পাঠায়। সব তথ্য সংগ্রহ করে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, সুলতানগঞ্জ গ্যাংয়ের নজর পড়েছে দুর্গাপুরের উপর। তারাই দুর্গাপুর শহরের বিভিন্ন আবাসনে চুরি করছে। বিহারের রাজধানী পাটনা ও সুলতানগঞ্জে গিয়েও তদন্ত চালায় পুলিস। জানা যায়, গ্যাংয়ের সদস্যরা বাংলায় আসছে রাজধানী এক্সপ্রেসে চড়ে। সবার বয়স ২০ থেকে ২৪ বছর। সবাই বেশ চতুর ও স্মার্ট। কথার যাদুতে জাল কেটে বেরিয়ে আসতে ওস্তাদ। পুলিস মহম্মদ আমির নামে  গ্যাংয়ের এক সদস্যকে চিহ্নিত করে ফেলে। তার গতিবিধি ট্র্যাক করা শুরু হয়। জানা যায়, দুর্গাপুর ছেড়ে আমিরদের টার্গেট এবার হাওড়া।  
হাওড়ায় অপারেশন চালাতে দিল্লি থেকে আমির ওঠে রাজধানী এক্সপ্রেসে। দুর্গাপুর থানার পুলিস তাকে ধরতে বিহারেই ছিল। সেই খবর পাওয়া মাত্র গয়া স্টেশনে ট্রেন থেকে পুলিস তাকে গ্রেপ্তার করে। সোমবার তাকে দুর্গাপুরে নিয়ে আসা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ করে গ্যাংয়ের বাকি দুই সদস্যকে ধরতে মরিয়া তদন্তকারীরা। ডিসি (পূর্ব) অভিষেক গুপ্তা বলেন, ‘গ্যাংয়ের এক সদস্য ধরা পড়েছে। বাকিদের  খোঁজে তল্লাশি চলছে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ