Bartaman Logo
১৮ আগস্ট, ২০২৬

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাস থেকে বাদ গেল সুলতানি আমল

দিল্লির সুলতানি আমল। ভারতের মধ্যযুগের ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। কিন্তু সেটাই আর পাঠ্যক্রমের অন্তর্গত নয়। তাও আবার দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাসে।

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাস থেকে বাদ গেল সুলতানি আমল
  • ১৮ আগস্ট, ২০২৬ ২০:৩৮
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: দিল্লির সুলতানি আমল। ভারতের মধ্যযুগের ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। কিন্তু সেটাই আর পাঠ্যক্রমের অন্তর্গত নয়। তাও আবার দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাসে। জানা গিয়েছে, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে স্নাতকোত্তর স্তরের নতুন পাঠ্যক্রম থেকে বাদ পড়েছে দিল্লি সুলতান যুগের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তৃতীয় সেমেস্টারে থাকা ‘দিল্লি সুলতানি পর্ব: মধ্যযুগীয় উত্তর ভারতে কর্তৃত্বের কাঠামো (ত্রয়োদশ-চতুর্দশ শতক)’ বিষয়টি নতুন পাঠ্যক্রমে আর রাখা হয়নি। পাশাপাশি আরও কয়েকটি বিষয় জায়গা পায়নি। সেগুলির মধ্যে রয়েছে ‘উত্তর ভারতের ইতিহাস, আনুমানিক ১৪০০-১৫৫০ খ্রিস্টাব্দ’, ‘প্রাচীন ভারতে নারী ও লিঙ্গব্যবস্থা: খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ থেকে ১০০০ খ্রিস্টাব্দ’, ‘প্রাচীন ভারতে রাষ্ট্রব্যবস্থা ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়া’ এবং ‘প্রাচীন ভারতীয় সাহিত্যে ধর্ম ও সমাজ’। বিশ্ববিদ্যালয়ের নথি অনুযায়ী, আগে এই বিষয়গুলির বেশ কয়েকটি বিভিন্ন পর্যায়ের অনুমোদনও পেয়েছিল। কিন্তু ৭ আগস্ট প্রকাশিত চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তিতে সেগুলির উল্লেখ নেই। 

Advertisement

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের দাবি,  ২০২০ সালের জাতীয় শিক্ষানীতির পর স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরে পাঠ্যক্রমে যে পরিবর্তন শুরু হয়েছে, এই ঘটনা সেই প্রবণতারই অংশ। ইতিমধ্যেই ইতিহাসে বিকৃতির অভিযোগে সরব  হয়েছেন সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি। সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় এমন একটি শহরে বসে স্নাতকোত্তর ইতিহাসের পাঠ্যক্রম থেকে  সুলতানি যুগ বাদ দিয়েছে, যে শহর একসময় এই শাসনের কেন্দ্র ছিল। তাঁর মতে, এটি ‘চূড়ান্ত হাস্যকর’। তাঁর প্রশ্ন, এরপর কি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম থেকে ‘দিল্লি’ শব্দটিই বাদ দেওয়া হবে। বেবি মনে করিয়ে দিয়েছেন, মধ্যযুগীয় উত্তর ভারতের ইতিহাস পাঠ্যক্রম থেকে সরিয়ে দিলে কুতুব মিনার, হাউজ খাস, তুঘলকাবাদ দুর্গ, ফিরোজ শাহ কোটলা বা লোদি গার্ডেনের মতো ঐতিহাসিক নিদর্শণগুলির পড়ুয়াদের কাছে গুরুত্ব হারাবে! শিক্ষাবিদদের কাছে এই ধরনের উদ্যোগের বিরুদ্ধে সরব হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বেবি। তাঁর মতে, ভারতের ইতিহাসের প্রতিটি পর্বের মধ্যেই ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা রয়েছে। ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা শেষ পর্যন্ত দেশের পক্ষেই বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ