সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: তোলাবাজি, সিন্ডিকেটরাজ আর গোষ্ঠীকোন্দল—ক্ষমতায় আসার তিনমাসের মধ্যেই এই ত্রিফলার আঘাত সামলাতে হিমশিম অবস্থা শাসকদল বিজেপির! শীর্ষস্তরের নেতা-মন্ত্রীদের চরম হুঁশিয়ারি, সাসপেন্ডের মতো কড়া পদক্ষেপ নিয়েও রাশ টানা যাচ্ছে না বেয়াড়া নেতা-কর্মীদের অনৈতিক কাজকর্মে। এবার তাঁদের পার্টি থেকে ‘লাথি মেরে’ বের করে দেওয়ার নিদান দিলেন বিজেপি সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। তাঁর এমন মন্তব্য ঘিরে তুমুল শোরগোল পড়েছে রাজনৈতিক মহলে। বিরোধীরা কটাক্ষ করে বলতে শুরু করেছে, মাত্র তিন মাসের মধ্যেই যদি দলের তোলাবাজি, গোষ্ঠীবাজি নিয়ে শীর্ষনেতাকে এমন নজিরবিহীন ভাষায় হুঁশিয়ারি দিতে হয়, তা হলে পাঁচ বছর পার করবেন কীভাবে!
রবিবার দুর্গাপুরের সিটি সেন্টারের পলাশডিহায় ‘দুর্গাপুর হাট’-এ ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প মন্ত্রকের ভেন্ডার ডেভলপমেন্ট প্রোগ্রাম ও প্রদর্শনীর মঞ্চে হাজির ছিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্তবাবু। সেখানে তিনি বলেন, ‘বাড়ির প্রথমে ভুল করলে বোঝানো হবে। প্রয়োজনে শাসনও করা হবে। কিন্তু দলের নির্দেশ না মানলে বা দল বিরোধী কাজ করলে ত্যাজ্যপুত্র করে লাথি মেরে বের করে দেওয়া হবে।’ সেই সঙ্গে তোলাবাজি, সিন্ডিকেট ও রাজনৈতিক অস্থিরতা যে বিনিয়োগের অন্তরায়, তা নিয়েও অকপট বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি। তিনি বলেন, ‘তোলাবাজির ভয়েই বহু উদ্যোক্তা দুর্গাপুরে বিনিয়োগ করা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। পূর্বতন সরকারের আমলে কোন শিল্পপতি এলে নেতাদের তোলাবাজির আশঙ্কা থাকত। এবার যে কোনো মূল্যে সেই প্রথা ভেঙ্গে দেওয়া হবে।’ এরপরই তাঁর সংযোজন, ‘বিজেপির কোনো নেতা বা কর্মী যদি তোলাবাজির সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তবে পুলিশ বা দলকে নয়, সরাসরি আমার ব্যক্তিগত নম্বরে যেন ফোন করা হয়।’
দলের একাংশ নেতা-কর্মীর তোলাবাজির বিরুদ্ধে সরব হয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশ্যে আশ্বাসবাণীও শুনিয়েছেন সুকান্তবাবু। তিনি বলেছেন, ‘১০০ কোটির বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে। শিল্পবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে রাজ্য সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
সম্প্রতি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালন সমিতিতে দলীয় জনপ্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজ্য। যা নিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘দলতন্ত্র’ কায়েম করার অভিযোগ তুলছে বিরোধীরা। সুকান্তবাবু এদিন সেই অভিযোগ উড়িয়ে রাজ্যের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন। পাশাপাশি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘ভারত মাতা কি জয়’ বলার পক্ষেও সওয়াল করে পরোক্ষে ‘দলতন্ত্র’ জিইয়ে রাখার ইঙ্গিত দেন। তাঁর এই মন্তব্যে শিক্ষামহলেও আলোড়ন পড়েছে।