


কলহার মুখোপাধ্যায়, কলকাতা: বিধাননগর বিধানসভা আসনে শোচনীয় পরাজয় হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের। তৃণমূল প্রার্থী সুজিত বসু নিজের ওয়ার্ডে পর্যন্ত জিততে পারেননি। এছাড়া বিধাননগরের চেয়ারম্যান সব্যসাচী দত্ত, মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তী, ডেপুটি মেয়র অনিতা মণ্ডলের ওয়ার্ডে পর্যন্ত পরাজয় হয়েছে তৃণমূলের। ৪ তারিখ নির্বাচনের ফল ঘোষণা হয়। দুপুরের আগেই পরাজয় নিশ্চিত জেনে গণনাকেন্দ্র থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন সুজিত বসু। তারপর সম্পূর্ণ ফল ঘোষণার পর দেখা যায়, ৩৭ হাজার ৩৩০ ভোটে তাঁকে হারিয়ে বিধাননগর আসনে জিতেছেন বিজেপির শারদ্বত মুখোপাধ্যায়।
বিধাননগর পুরনিগমের ১৪টি এবং দক্ষিণ দমদম পুরসভার ১০টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত বিধাননগর বিধানসভা কেন্দ্র। সুজিত দক্ষিণ দমদমের ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। সেই ওয়ার্ডের কাউন্সিলার হলেন নিতাই দত্ত। তিনি সুজিতের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। এই ওয়ার্ডেই প্রায় ৯০০ ভোটে হার সুজিতের। এর পাশাপাশি বিধানননগর পুরসভার ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার হলেন চেয়ারম্যান সব্যসাচী দত্ত। এই ওয়ার্ডে তৃণমূলের হার ৩ হাজারেরও বেশি ভোটে। মেয়র ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার। সেখানে টিএমসির পরাজয় প্রায় তেত্রিশশো ভোটে। ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার ডেপুটি মেয়র অনিতা মণ্ডল। সেখানে সুজিতের হার প্রায় দু’হাজার ভোটে। একমাত্র মুখরক্ষা করেছে বিধাননগরের ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড। সেই ওয়ার্ডের কাউন্সিলার আলো দত্ত। প্রসঙ্গত তাঁর স্বামী নির্মল দত্তকে ভোটের আগে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল।
শারদ্বত মুখোপাধ্যায় সবথেকে বেশি ভোট পেয়েছেন দক্ষিণ দমদমের ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে। সেখানকার কাউন্সিলার বনশ্রী চট্টোপাধ্যায়। প্রসঙ্গত এই ওয়ার্ডেরই বাসিন্দা প্রাক্তন কাউন্সিলার মৃগাঙ্ক ভট্টাচার্য। তিনি এই বিধানসভায় বিজেপির বিজয়ের অন্যতম কারিগর। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটেও বিধাননগরে তৃণমূলের হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন সুজিত বসু। এ বছর বারাসত বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছিলেন সব্যসাচী দত্ত। কিন্তু সব্যসাচী ২০২১ সালে বিজেপির প্রার্থী হয়ে বিধাননগরে দাঁড়িয়েছিলেন। তাঁকে সুজিত হারিয়েছিলেন প্রায় ৮ হাজার ভোটে। তবে এবার বিজেপি বিপুল ভোটে হারাল সুজিত বসুকে।
জানুয়ারি ২০২৬ সালের হিসাব অনুযায়ী, বিধাননগর বিধানসভার মোট ভোটার সংখ্যা ২ লক্ষ ৪৮ হাজার ৬২। এসআইআরে কমবেশি ৪৬ হাজার নাম বাদ গিয়েছে।
জিতে আসার পর বিধাননগর পুরসভায় যান শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। চেয়ারম্যান, মেয়র, ডেপুটি মেয়রের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। নাগরিক পরিষেবা বজায় রাখার বিষয়ে অনুরোধ জানিয়ে আসেন। অন্যদিকে ভোটের পর পুর নিয়োগ দুর্নীতিতে ইডি গ্রেপ্তার করেছে সুজিতকে।