Bartaman Logo
৯ অক্টোবর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

চিকেন, মাটনে সুদীপের মধ্যাহ্ন ভোজ, অনুপস্থিত ১০ এনসিপিআই সাংসদ!

পুজোর আগে বৃহস্পতিবার এনসিপিআইয়ের সাংসদদের নিয়ে গেট টুগেদারের আয়োজন করেছিলেন উত্তর কলকাতার সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়।

চিকেন, মাটনে সুদীপের মধ্যাহ্ন ভোজ,  অনুপস্থিত ১০ এনসিপিআই সাংসদ!
  • ৯ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পুজোর আগে বৃহস্পতিবার এনসিপিআইয়ের সাংসদদের নিয়ে গেট টুগেদারের আয়োজন করেছিলেন উত্তর কলকাতার সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতার একটি হোটেল এদিন দুপুরে বৈঠক ও খাওয়ার ব্যবস্থা করেন তিনি। কিন্তু এই বৈঠকে অনুপস্থিত থাকলেন এনসিপিআইয়ের ১০ জনের বেশি সাংসদ। বৈঠকে হাজির ছিলেন শতাব্দী রায়, অরূপ চক্রবর্তী, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, শর্মিলা সরকার প্রমুখ। কিন্তু কাকলি ঘোষদস্তিদার, সায়নী ঘোষ, ইউসুফ পাঠান, পার্থ ভৌমিক, মিতালি বাগ, জুন মালিয়া, দেব, কালীপদ সোরেন, মালা রায়, অসিত মালকে দেখা যায়নি। কলকাতায় অনুষ্ঠিত এনসিপিআইয়ের বৈঠকে ১০ জনের বেশি সাংসদ গরহাজির কেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। এমনকি শোনা গিয়েছে, এই ২০ জন সাংসদের মধ্যে মনোমালিন্য বাড়ছে। কয়েকজন দূরত্ব তৈরি করেছেন। যদিও এনসিপিআই সাংসদ শতাব্দী রায় দাবি করেন, কয়েকজন সাংসদ এদিনের বৈঠকে আসতে পারবেন না, সেটা আমাদের জানা ছিল। কেউ বিদেশে রয়েছেন, কেউ প্রশাসনিক কোনো কাজে ব্যস্ত, কারও ছেলে অসুস্থ প্রভৃতি। তবে সকলেই আমরা একসঙ্গে আছি। মনোমালিন্য বাড়ছে এমনটা নয়। সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এদিনের বৈঠকে ৮-৯ জনের মতো এসেছিলেন। এটা ছিল গেট টুগেদার। আর সাংসদ অরূপ চক্রবর্তীর কথায়, চিকেন, মাটন, মিষ্টি দই, ঘোল সহযোগে খাওয়াদাওয়া ভালোই হয়েছে। আলোচনা তেমন কিছু হয়নি। প্রসঙ্গত, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষদস্তিদাররা এখন কোন দলে রয়েছেন, কেন তাঁদের সাংসদ পদ খারিজ করা হবে না, এই সংক্রান্ত বিষয়ে লোকসভার স্পিকারের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন মমতাপন্থী তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই প্রেক্ষাপটে এদিন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা বৈঠক ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কিন্তু দেখা গেল, এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকেই ১০ জনের উপস্থিতি নেই। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমরা ২০ জনই লোকসভার স্পিকারের কাছে চিঠি পাঠিয়েছি। ইমেল করেছি। আরও ১৪ দিনের সময় চেয়েছি। আমাদের আইনজীবীরা কাগজপত্র তৈরি করছেন। তা তৈরি হয়ে গেলে লোকসভার স্পিকারের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। আগামী ২৭ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টে এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি রয়েছে। পাশাপাশি সুদীপবাবু দাবি করেন, আমরা এনসিপিআই সাংসদরা এনডিএ শরিক। কিন্তু বিজেপিতে যোগ দিচ্ছি না। বিজেপির থেকে আমাদের কাছে কোনো প্রস্তাব আসেনি। তাহলে প্রথমেই করে নিতে পারতাম। 

Advertisement

সুদীপদের নিশানা করে মমতাপন্থী বিধায়ক কুণাল ঘোষের বক্তব্য, এনসিপিআইয়ের কথা মুখে বলছেন অথচ কাগজে লিখছেন না। ওঁরা গদ্দার। বিজেপির দালালি করছেন। আইএসএফ বিধায়ক নৌশাদ সিদ্দিকির কথায়, ভণ্ডামি করছেন এনসিপিআই সাংসদরা। যদিও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদার দাবি করেন, সময় নিয়ে জবাব দেওয়ার অধিকার সংবিধানসম্মতভাবে এনসিপিআই সাংসদদের রয়েছে কি না, সেটা লোকসভার এক্তিয়ারের বিষয়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ