Bartaman Logo
১ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মায়ের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকায় পড়াশোনা করে উচ্চ মাধ্যমিকে ভালো ফল সুদীপের

মায়ের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকায় পড়াশোনা করে উচ্চ মাধ্যমিকে ভালো ফল সুদীপের
  • ৮ মে, ২০২৫ ০৪:০০

সংবাদদাতা, কালনা: মায়ের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকায় পড়াশোনা করে উচ্চ মাধ্যমিকে ৯০ শতাংশ নম্বর পেয়ে সকলকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন নাদনঘাট থানার শ্রীরামপুর ইউনাইটেড উচ্চ বিদ্যালয়ের সুদীপ দেবনাথ। প্রাপ্ত নম্বর ৪৫০। বাড়ি পূর্বস্থলী-১ ব্লকের শ্রীরামপুর চৌরঙ্গী মোড় এলাকায়। সুদীপের সাফল্যে খুশি পরিবার থেকে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। সুদীপের স্বপ্ন শিক্ষক হয়ে দুঃস্থ ছাত্রছাত্রীদের পাশে দাঁড়ানো। তবে আপাতত নিজের উচ্চশিক্ষা নিয়ে চিন্তায় সুদীপ ও তাঁর পরিবার।

Advertisement

সুদীপের বাবা সমীর দেবনাথ পেশায় ডেকরেটর কর্মী। কাজ থাকলে দিনে চার-পাঁচশো টাকা রোজগার হয়। প্রতিদিন কাজ থাকে না। তাঁর একমাত্র সন্তান সুদীপ খুবই মেধাবী। অভাবের সংসারে সমীরবাবু ছেলের পড়াশোনায় তেমনভাবে সাহায্য করতে পারেন না। সমীরবাবুর স্ত্রী রীনা কাপড়ের সুতো কাটেন। তাতে রোজগার সামান্য। তবুও ছেলের পড়াশোনার স্বার্থে সিদ্ধান্ত নেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকাতেই সুদীপের শিক্ষাকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। মায়ের দেওয়া লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকায় উচ্চ মাধ্যমিকের প্রস্তুতি নেন সুদীপ। তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন পাঁচজন গৃহশিক্ষক।  কাছে পড়া শুরু করেন সুদীপ। যদিও সবাই আর্থিক পরিস্থিতির কথা জেনে কম মাইনে নিতেন। রীনাদেবী বলেন, ওর বাবার রোজগারে কোনও রকমে সংসার চলে। ছেলের পড়াশোনার তেমন খরচই দিতে পারে না। আমার লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পড়ার খরচ হিসাবে ছেলের হাতে তুলে দিয়েছি। ছেলের ভালো রেজাল্ট করাতে আরও চিন্তা বেড়েছে। কীভাবে উচ্চ শিক্ষার খরচ জোগাড় হবে বুঝে উঠতে পারছি না।
স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শ্যামল মজুমদার বলেন, ও খুবই মেধাবী। দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করেই ওর পড়াশোনা। স্কুলের শিক্ষকরা খুবই সাহায্য করেছেন। ওর সাফল্যে আমরা খুশি। উচ্চ শিক্ষায় ওর পাশে কেউ দাঁড়ালে স্বপ্নপূরণে এগিয়ে যেতে পারবে।
সুদীপ বলেন, আমার পড়াশোনার জন্য মা প্রতিমাসে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা আমার হাতে তুলে দিতেন। স্কুল থেকে বই খাতা সহ শিক্ষকরা অতিরিক্ত কোচিং দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। ভবিষ্যতে শিক্ষক হওয়ার লক্ষ্যে পড়া চালিয়ে যেতে চাই। -সুদীপ দেবনাথ।

সম্পর্কিত সংবাদ